৫:০৬ এএম, ২ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৮ শা'বান ১৪৪১




জীবন যেখানে যেমন, মেনে নিই বা কয়জন?

১২ মার্চ ২০২০, ১০:১২ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম: আমাদের জীবন অতিবাহিত নানান নিয়মে, অতি উচ্চে নাহয় অতি সাধারণে।  পরিস্থিতি যেখানে আমাদের শিখিয়েছে কিভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয় জীবন সংগ্রামে। 

সারাদিনের ক্লান্তি শেষে  ঘরে ফেরা মানুষ গুলো যখন মিলিত হয় পরিবারের আনন্দক্ষণে, মুহূর্তে সংবাদ আসে পার্শ্ববর্তী কোনো বিপদের প্রয়োজনে তৎক্ষনাৎ বেরিয়ে পড়ছি প্রিয়জন ছেড়ে দুস্থদের পাশে অতি গোপনে। 

না সেরেছে ক্লান্তি, পরিবারে না দিয়েছি শান্তি, নিজের আনন্দ মাটি করে পরমানন্দে দিলাম শপে- এতেই আনন্দ, এতেই তৃপ্তি- এটাই জীবন।  চলার পথে কতো বাধা-বিপত্তি পাড়ি দিয়ে  কোনো লক্ষে পৌঁছাতে যে শ্রম/ত্যাগ দিতে হয় সে খবর জানে কি কখনো পরিবার-পরিজন, নিকটতম বন্ধুস্বজন? যে মুহূর্তে যেটা করতে হয় কিংবা না করলে নয়, হয়তো সেটা আমার জন্যও নয় তারপরও করতে হয়, আবার না করলে যে অপমান সইতে হয়। 

সবি জেনে পরিস্থিতি মোকাবেলা করাই জীবন।  মাটিতে যে "পা"-পড়েনি কাঁটার আঘাত সহ্য করতে হবে বলে, যে দেহ কাঁদায় জড়ানো হয়নি "ময়লা" হবে বলে, হাঁটু সমান বৃষ্টির পানিতে হাটতে পারিনি- জলে ভিজবো বলে, কাঁদা মাখা মাটির মানুষকে জড়িয়ে নিতে পারিনি নতুন আয়রন করা পোশাক নষ্ট হবে বলে,সারাটি জীবন পথ চলেছি পিচঢালা পথে লাখ টাকার গাড়ি নিয়ে, ভঙ্গুর রাস্তা ব্যবহার করিনি দূর-দূরান্তে থাকা আত্মীয়ের খবর নিতে, নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারিনি বিদঘুটে গন্ধে পথচলা অসহায়ের পাশাপাশি চলতে, জীবনের উপলব্ধিতো এটাই সময় আমাদের যে পরিস্থিতিতে নিয়ে যাবে সেটাই মেনে নেওয়াই জীবন। 

কোনো নিমন্ত্রণে যাওয়া অতীব জরুরি জেনেও দুরের পথ যেতে হবে বলে আর কাজের ব্যস্ততা দেখিয়ে সম্পর্কে আঘাত হানার নাম জীবন নয়,জীবন মানেই হলো নিজের কিছু ত্যাগ দিয়ে অপরের মুখে হাসি ফুটানোর মাঝেই জীবনের সুখ উপলব্ধি করা।  কখনো ভীরের মাঝে গাড়িতে উঠা হয়নি দাড়িয়ে যেতে হবে বলে, অস্থিরতা বিরাজ করে চাপাচাপির অনুভবে, তখন  বুঝা যায় আমাদের মাঝে বেঁচে থাকা আর জীবনকে মানিয়ে নেওয়া, আঘাতের পর আঘাত সহ্য করা অতি পরিশ্রমী সেসব মানুষদের।  বিবেকের তাড়নায় নিজেকে  মানিয়ে নেওয়া কিছু মুহূর্তকে বিশালতায় রুপ দেওয়া বাহিরে আজ মনেহয় বিশ্বজয় করে ফেলার নামতো জীবন নয়। 

সামনে বিপদ জেনেও দুঃসাহসের অভয় বাণী শুনিয়ে অন্যজনকে গ্যাঁড়াকলে ফেলে আর ধীরে ধীরে নিজেকে আড়ালে আফসোসের নাম জীবন নয়, জীবনতো সেটাই বিপদ হবে জেনেও নিজেকে এবং অন্যজনকে বাঁচিয়ে নেওয়া আর ধৈর্য্যের পরীক্ষা দেওয়া।  বারে বারে ব্যর্থ হয়ে আর তা সহ্য করে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার দৃঢ় মনোবল ও নিজের ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগানোর  নামইতো জীবন। 

বস্তুত আমরা কখনো কারো কাছে হার মেনে নিতে রাজি নই যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের স্বার্থ হাসিল করতে না পারছি।  নিজেকে যদি সব কিছুর উর্ধ্বে রেখে শুধু আমরা সবার মতো রক্তে মাংসে গড়া মানুষ এই ভাবনাটা লালন করি তাহলে মনেহয় সবজায়গায় নিজেকে মানিয়ে সবদিকে সবার মনজয় করে নিতে পারি।  তাহলে নিজেকে গর্বের সহিত মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করি।  মূলত সমস্যার প্রধান অন্তরায়  হলো মেনে নেওয়া এবং মেনে চলা কেননা আমরা কিছু ক্ষেত্রে নিজের প্রয়োজনে মেনে নিই নতুবা মেনে চলি। 

নিজের প্রয়োজন নাহলে সেখানে অন্যের প্রয়োজনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করি এই চিন্তাধারা থেকে যতোক্ষণ বেরিয়ে আসা যাবেনা ততোক্ষণ আমরা প্রকৃত মানুষ হিসেবে নিজেকে জাহির করতে পারবোনা।  সুতরাং আমরা আমাদের নিজস্ব চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটায়, এবং অন্যজনকেও মানুষ হতে সামনে দুহাত বাড়ায়। 

লেখক: কলামিস্টঃ চিত্রশিল্পী, মুহাম্মদ শাহীদুল আলম। 
                       সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।