৫:৪৯ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮, রোববার | | ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


১৮৬৩ কোটি টাকার প্রকল্পে

জবি’র ক্যাম্পাস হবে বিশ্ব মানের

০৯ জুন ২০১৮, ০৯:৩৪ এএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : নতুন ক্যাম্পাস ও আবাসিক সমস্যা সমাধানে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)।  প্রধানমন্ত্রী নির্দেশিত বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়নের জন্য ১৮৬৩ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পেশ করেছে জবি কর্তৃপক্ষ।  আগামী ১ জুলাই শুরু হবে দুই বছরের এই প্রকল্পের কাজ। 

গত ৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে এ প্রস্তাব পাঠায় জবি।  এতে ভূমি অধিগ্রহণ এবং ভূমির উন্নয়নের জন্য ১৮৬২ কোটি ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।  তবে উপাচার্য ও প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যয়ের পরিমাণ ২০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। 

দেশের একমাত্র অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।  ২০০৬ সালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়ার পর থেকে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত এ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।  আর সে সময় থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলের জন্য আন্দোলন করে আসছেন।  তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে আন্দোলন প্রকট আকার ধারণ করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাসের আশ্বাস দেন। 

প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন নিয়ে এত দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা ধোঁয়াশা কাজ করছিল।  আর শিক্ষার্থীদের সেই ধোঁয়াশা কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ্বাস বাস্তবায়নে অনেকটাই এগিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

জবি উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান জানান, জমি অধিগ্রহণের জন্য সব সংস্থার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।  এখন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল ভূমি কমিটির সভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। 

উপাচার্যের দেয়া তথ্যমতে, উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ, নিচু জমি ভরাট করা, পুকুর খনন, গাছ লাগানো এবং প্লানিং ও ইঞ্জিনিয়ার সেকশনের জন্য একটি ভবন থাকবে।  এ ছাড়া এ প্রকল্পের মধ্যে অত্যাধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার প্ল্যান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।  সৌন্দর্য বর্ধন ও প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য ক্যাম্পাসে সবুজ গাছপালা এবং লেক থাকবে।  পুরো ক্যাম্পাসটি লেক দ্বারা দুটি অংশে বিভক্ত হবে যা ৫টি ব্রিজ দিয়ে সংযুক্ত করা হবে। 

আগামী ১ জুলাই এ প্রকল্পের মেয়াদ শুরু হচ্ছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ২০২০ সালের জুনে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে।  এ দুই বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।  বাস্তবায়নে যে ব্যয় ধরা হয়েছে তা আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তিনি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী রেজিস্ট্রার ওহিদুজ্জামানের মতে, প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ১৮৬৩ কোটি ধরা হলেও তা বেড়ে ২০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১১ জুলাই একনেক সভায় ২৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে সাত একর জায়গায় একটি ২০ তলা একাডেমিক ভবন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এক হাজার আসনের ছাত্র হলের জন্য ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’ শিরোনামের একটি প্রকল্প উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য নজরুল ইসলাম। 

প্রকল্পের প্রস্তাব দেখার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এই ৭ একর, ১০ একর দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার সমাধান হবে না।  পুরান ঢাকা যানজটপ্রবণ ও ঘিঞ্জি এলাকা।  একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সেটি অনুপযুক্ত জায়গা।  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে হবে।  সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, ক্যাম্পাস, একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরিসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে।  এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যত জমি লাগবে, যত টাকা লাগবে, তার জোগান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।