৪:৪৭ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার | | ৪ সফর ১৪৪০


জবি শিক্ষার্থী শারমিনের পাশে মান্দা উপজেলা প্রশাসন

১৩ জুন ২০১৮, ০৬:১০ পিএম | সাদি


আব্দুল মান্নান, নওগাঁ প্রতিনিধি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্রী শারমিন আক্তার মিমের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।  জবিতে ভর্তি হয়েও অর্থের অভাবে থেমে আছে শারমিনের পড়াশোনা এমন শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদটি প্রকাশ হয়।  এরপর নজরে আসে স্থানীয় প্রশাসনের। 

মঙ্গলবার মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুশফিকুর রহমান শারমিনের বাড়িতে গিয়ে তার সার্বিক খোঁজখবর নেন।  তাকে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।  এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে লেখাপড়ার সর্বাত্মক সহযোগীতা করার আশ্বস্ত করেন। 

এসময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তারেক এলাহী, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মামুনুর রশিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 

২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে মেধা তালিকায় ভর্তি হয়ে দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠা মেধাবী ছাত্রী শারমিন আক্তার মিম ১০ জানুয়ারী থেকে প্রথম বর্ষে প্রথম সেমিষ্টারে ক্লাস শুরু করে।  চারমাস মেসে থাকার পর অর্থ সংকটে পড়েন।  দরিদ্র রিকসা চালক বাবা জামাল হোসেনের পক্ষে খরচ বহন করা সম্ভব না হওয়ায় গত এক মাস থেকে বাড়িতে অবস্থান করছেন শারমিন।  নওগাঁর মান্দা উপজেলার মান্দা সদর ইউনিয়নের ঘাটকৈর গ্রামে বাড়ি। 

জানা গেছে, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া চার শতাংশের জমির মালিক রিকসা চালক বাবা জামাল হোসেনে।  আর সেখানে টিন ও বুনের বেড়া দিয়ে তৈরি একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেন স্ত্রী মোরশেদা খাতুন, দুই মেয়ে শারমিন আক্তার মিম ও শাহারা আফরীন।  শাহারা আফরিন মান্দা এসসি পাইলট স্কুল ও কলেজে অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।  প্রতিবেশীদের সহযোগীতায় এতদিন মেয়ে দুটিকে পড়াশুনা করিয়েছে তার পরিবার। 

শারমিন আক্তার মিম বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসছে।  তবে পড়াশুনার সম্পন্ন দায়িত্বভার এমন আশ্বাস এখনও পাওয়া যায়নি।  কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ করছি যারা আমাকে ফোন দিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সহযোগীতা করার আশ্বাস দিচ্ছেন। 

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, সমাজসেবা অফিস থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার এককালিন পাঁচ হাজার অনুদান দেয়া হবে।  এছাড়া ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ থেকে শারমিনের বাবাকে সহজ শর্তে লোন দেয়া হবে।  তার বেতন মওকুফের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে চেষ্টা করা হচ্ছে।