৯:০০ এএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, রোববার | | ৯ সফর ১৪৪২




জোড়া খুনের মামলায় ৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৪৯ পিএম | নকিব


এসএনএন২৪.কমঃ সৎ ভাইয়ের সম্পত্তির লোভই কাল হয় শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রী কল্পনা রানীর জন্য।  ঠাণ্ডা মাথায় অনিল ও তার স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনাকারী সৎভাই স্বপনসহ  ৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। 

আসামিরা মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক অনিলকে হত্যা করে জঘন্য অপরাধ করেছেন বলেও রায়ে বলা হয়। 

রায়কে কেন্দ্র করে সকালে কারাগার থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ তোলা হয় গ্রেফতার হওয়া ৫ আসামিকে।  হাইকোর্ট থেকে জামিনে থাকা আসামি শয়ান মিয়াও এদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।  বাবা-মায়ের হত্যার ন্যায়বিচারের জন্য এদিন আদালতে উপস্থিত হন অনিল-কল্পনা দম্পতির ছেলে নির্মল কুমার দাস। 

রায় ঘোষণায় শুরুতে বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান বলেন, অনিল কুমারের সৎ ভাই স্বপন কুমার দাস অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য কৌশল অবলম্বন করতে থাকেন।  একপর্যায়ে স্বপন কুমার দাসের সঙ্গী মাদকসেবী মনিরুজ্জামান, ফরহাদ, মঞ্জুরুল, জাহিদ ও শয়ান মিয়া অনিল কুমারের সম্পত্তি আত্মসাৎ করার তিনটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার পরিকল্পনা করেন।  কিন্তু সই করতে অস্বীকার করলে, ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই টাঙ্গাইলের রসুলপুরের বাসায় অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রী কল্পনা রানীকে আসামিরা হত্যা করে।  হত্যার পর তাদের লাশ বস্তায় ভরে বাসার বাথরুমের সেফটি ট্যাঙ্কের ভেতর ফেলে রাখে।  এরপর পুলিশ এসে তাদের লাশ উদ্ধার করেন। 

রায়ে আদালত বলেন, নিহত অনিল কুমার একজন ভালো শিক্ষকের পাশাপাশি একজন ভালো মানুষ ছিলেন।   তিনি মানুষ গড়ার কারিগর, একজন সমাজ সেবক ও জনহৈতিষী।  ।  তাকে হত্যার মধ্য আসামিরা জঘন্য অপরাধ করেছে। 

রায়ে সন্তোষ জানিয়ে অনিল কুমার দাসের ছেলে নির্মল গণমাধ্যমকে জানান, আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি।  আশা করছি দ্রুতই রায় কার্যকর করা হবে।  আসামিদের ফাঁসি কার্যকর হলেই আমার বাব-মার আত্মা শান্তি পাবে। 

বাবা-মার হত্যার পর ছেলে নির্মল কুমার দাস বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর খানায় একটি মামলা দায়ের করেন।  ২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর  সৎ ভাই স্বপন কুমারসহ ৬ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।  ২০১৯ সালের ৭ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।   আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৭ জন। 


keya