৯:৫১ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

প্রাচীন স্থাপত্যের সৌন্দর্য মন্ডিত

জয়পুরহাটের লকমা জমিদারবাড়িটি রক্ষনাবেক্ষনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষন করা সম্ভব

১৪ নভেম্বর ২০১৭, ০৮:৪৫ পিএম | সাদি


মোঃ বাবুল হোসেন, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট প্রতিনিধি: দেশের উত্তর জনপদের সীমান্তবর্তী জেলা জয়পুরহাটে রয়েছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন।  এসব নিদর্শনের মধ্যে একটি হলো পাঁচবিবির লকমার জমিদার বাড়ি।  প্রাচীন স্থাপত্যের সৌন্দর্য মন্ডিত এ নিদর্শনটি যথাযথ রক্ষনাবেক্ষন করা গেলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষন করা সম্ভব হবে।  সেই সাথে বাড়িয়ে তুলবে সরকারের রাজস্ব আয় । 

উত্তর জনপদের জয়পুরহাট জেলার প্রাচীন স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন লকমার জমিদার বাড়ি।  বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পিলারের মাত্র ৪ গজ দুরে পাঁচবিবি উপজেলার সীমান্তবর্তী কড়িয়া গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক এ নিদর্শনটি।  ধ্বংশপ্রায় এ জমিদার বাড়িটি  কে কবে নির্মান করেছিল তার সঠিক ইতিহাস পাওয়া না গেলেও, অনেকের ধারনা প্রায় ৪/৫শ’ বছর আগে কোন এক জমিদার এটি নির্মান করেন। 

প্রায় তিন একর জমির উপর পৃথক দুই ভাগে নির্মিত এ জমিদার বাড়ি।  লোহার রড ছাড়াই শুধু ইট, চুন সুরকী দিয়ে নির্মিত ৩ তলা এ জমিদার বাড়ির এক তলা ইতি মধ্যেই দেবে গেছে মাটির নীচে।  জমিদার বাড়িটিতে রয়েছে ২৫/৩০ টি কক্ষ।  যার ভিতরে রয়েছে আরো ছোট ছোট কুঠরী বা কামরা।  হাতিশালা, ঘোড়াশালা, কাচারীবাড়ি সবই ছিল এখানে।  রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে আজ শুধু কালের সাক্ষী হয়ে ধ্বংশপ্রায় অবস্থায় নীরবে দাঁড়িয়ে আছে এ জমিদার বাড়িটি। 

কিছুদিন আগেও এটি একটি জঙ্গলে পরিনত ছিল।  তবে বর্তমানে এলাকার কিছু উদ্যোগী যুবক এটি পরিস্কার করে আরো আকর্ষনীয় করে তুলেছে।  প্রত্যেন্ত গ্রামে অবস্থিত সীমান্ত ঘেঁষা, নয়নাভিরাম প্রাচীন এ জমিদার বাড়িটি দেশী বিদেশী দর্শনার্থীদের কাছে আরো জনপ্রিয় করে তুলতে সরকারী-বেসরকারী সহয়তার মাধমে এটি সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসি। 

পাঁচবিবি শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দুরে এই জমিদার বাড়ির যোগাযোগ ব্যাবস্থা খুব ভাল না হলেও টেম্পু আর রিক্সা-ভ্যানে করে সহজেই আসা যায় এখানে।  এলাকাবাসি ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসেন প্রাচীন এই নিদর্শনটি দেখার জন্য। 

সবশেষে বলা যায়, পর্যটনে সম্ভবনাময় প্রাচীন স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন এই লকমার জমিদার বাড়িটির যথাযথ রক্ষনাবেক্ষনের মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তোলা সম্ভব।  যা একদিকে প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষনে সহায়ক হবে অন্যদিকে বাড়িয়ে তুলবে সরকারের রাজস্ব আয়।  আর এ প্রত্যাশা এলাকাবাসির।