৭:২৮ এএম, ২১ অক্টোবর ২০১৭, শনিবার | | ৩০ মুহররম ১৪৩৯

South Asian College

রোগের ঝুঁকি বেড়েই চলছে

ঝালকাঠিতে আয়োডিন বিহীন শিল্প লবন ব্যবহার হচ্ছে খাবারে

০৪ অক্টোবর ২০১৭, ০৫:০৭ পিএম | ফখরুল


মোঃ রাজু খান, ঝালকাঠিঃ বুদ্ধিদীপ্ত থাকতে চাই, আয়োডিনযুক্ত লবন খাই এ শ্লোগানটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে বিশেষ করে বিসিক ও ইউনিসেফ ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে সারা দেশে।  সরকার আয়োডিন লবন উৎপাদন ও ব্যবহারে প্রচার প্রচারনার পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।  এমনকি লবন মিল মালিকদের সরকার ভর্তুকি দিয়ে আমদানি করা আয়োডিন সরবরাহ করছে।  কিন্তু এতো প্রচার প্রচারণা এবং প্রচেষ্ঠা থাকার পরেও সচেতনতা বৃদ্ধির অভাবে ঝালকাঠির বিভিন্ন বাজারে শিল্প লবন খাবারে ব্যবহার করা হচ্ছে।  ফলে আয়োডিনের অভাব জনিত রোগের ঝুঁকি বেড়েই চলছে। 

এ লবন গরুর খাদ্যসহ চামড়া প্রক্রিয়াজাত করনে শিল্প লবন ব্যবহার করা হয়।  কিন্তু একদিকে নিরক্ষরতা অন্যদিকে অসচেতনতার কারনে উৎপাদিত শিল্প লবন রান্নার কাজে ব্যবহার করছে গৃহবধুরা।  তবে বাজার থেকে এই লবন কিনে নিচ্ছে গৃহকর্তারা।  অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায় ঝালকাঠি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গরীব অসহায় ও বেশির ভাগ সাধারণ মানুষরাই শিল্প লবন রান্নার কাজে ব্যবহার করছে।  তারা এই লবনে আয়োডিন নেই জেনেও নির্বিঘ্নে তা তরকারি রান্নায় ব্যবহার করে আয়োডিনের অভাবজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।  এরফলে গ্রাম গঞ্জের জনসাধারনের মাঝে আয়োডিনের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে বলে বিসিক সূত্রে জানাযায়। 

সম্প্রতি ঝালকাঠির কাঠালিয়া, আমুয়া, নবগ্রাম, বাউকাঠিসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রকাশ্যেই বাজারে আয়োডিন ছাড়া শিল্প লবন বা খোলা লবন বিক্রি হচ্ছে।  সাদা বস্তা ভর্তি শিল্প লবন মিল থেকে নিয়ে দোকানে রেখে ছোট পলিথিনে মানুষের খাবারের জন্য প্রকাশ্যেই তা বিক্রি হচ্ছে।  ক্রেতারা জানায় আয়োডিনের প্যাকেট লবন না কিনে ২টি কারনে তারা এই লবন ক্রয় করছে।  কারন হলো গরুর খাবারের জন্য এই লবন ব্যবহার করা হয়।  এছাড়াও যাদের গরু নেই তারাও তরকারি রান্নায় ব্যবহারের জন্য প্রচুর পরিমানে এই লবন ক্রয় করছে। 

বাউকাঠি বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জানায়, প্রতি হাটে ৫০ থেকে ৬০ কেজি খোলা লবন বিক্রি করি।  প্রতি বস্তা ১২শ টাকায় কিনে কেজি ২০ থেকে ২২ টাকায় বিক্রি করি।  এই খোলা লবন আমরা ঝালকাঠির বিভিন্ন মিল থেকে ক্রয় করি।  তবে ক্রেতারা এই লবন বেশীর ভাগই তরকারি রান্নায় ব্যবহারের জন্য ক্রয় করে থাকে।  বাউকাঠি বাজারের লবন ক্রেতা আঃ ছত্তার, হামেদ মিয়া, জাহানারা, আমুয়া বাজারের লবন ক্রেতা ছোবাহান সিকদার, বেল্লাল হোসেন, নবগ্রামের জয়নাল মিয়াসহ  আরো অনেক ক্রেতারা জানায়, খোলা লবনের ক্ষমতা (দগ) বেশী দাম কম এবং এতে কোন কেমিক্যাল মিশানো হয় না। 

এই কারনে আমরা এই লবন রান্নার কাজে ব্যবহার করে আসছি।  নবগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী কুদ্দুস মল্লিক, আঃ রহিম, আমুয়া বাজারের দোকানদার হালিমসহ আরো অনেক বিক্রেতারা জানায় প্রতি হাটে আয়োডিন যুক্ত প্যাকেট লবনের চেয়ে এই খোলা লবন বেশী বিক্রি হয়।  তারা জানায় হাটের দিন প্যাকেটের লবন বিক্রি হয় ৮ থেকে ১০ কেজি এবং খোলা লবন বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৬০ কেজি।  তরকারিতে ব্যবহার ছাড়াও গরুর খাবারে এই লবন ব্যবহার করায় বেশি বিক্রি হচ্ছে। 

শিল্প লবন খাবারের কাজে ব্যবহার না করার জন্য সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে বস্তার গায়ে “মানুষের খাবারে ব্যবহারের জন্য নয়” বা অন্য কোন কথা লেখা হয়না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে ঝালকাঠি লাকি সল্টের মালিক হুমায়ুন কবির জানান, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আমরা শিগ্রই তা কার্যকর করার কথা ভাবছি।  এ বিষয়ে ঝালকাঠি বিসিক উপব্যস্থাপক জালিস মাহমুদ বলেন, আসলে শিল্প লবন মানুষের খাবার কাজে ব্যবহারের জন্য বিক্রি প্রতিরোধে আমাদের কিছুই করার নেই।  তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে পারলেই এটা খাবারের কাজে ব্যবহার কমে আসবে।  তাদেরকে বুঝাতে হবে আয়োডিন শরীরের জন্য কতটা উপকারি ও প্রয়োজন। 

এর অভাবে কিকি ক্ষতি হয়।  এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এর সহকারি পরিচালক সাফিয়া সুলতানা মুঠোফোনে বলেন, আমি এ বিষয়ে খাবার হোটেল মালিকদের সবসময় সতর্ক করে থাকি আপনারা শিল্প লবন কোন ভাবেই ব্যবহার করবেন না।  তবে গ্রাম পর্যায়ে এ নিয়ে আরো প্রচার প্রচারনা বাড়ানো হলে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।