১০:৪৪ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৮, শনিবার | | ৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


ঝালকাঠিতে ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে মামলা করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ব্যবসায়ী

০৭ আগস্ট ২০১৮, ০৬:২৪ পিএম | মাসুম


মো.রাজু খান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠিতে এক লাখ টাকা চাঁদাদাবির ঘটনায় ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে মামলা করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এক ব্যবসায়ী।  পুলিশের সঙ্গে সখ্যতা থাকায় নথুল্লাবাদ ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান মন্টুকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। 

মঙ্গলবার দুপুরে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলার বাড়ৈগাতি গ্রামের ব্যবসায়ী ইছাহাক তালুকদার এ অভিযোগ করেন। 

অভিযোগে জানা যায়, বড়ৈগাতি গ্রামের সুলতান তালুকদারের ছেলে ইছাহাক তালুকদার ইঞ্জিন চালিত একটি ট্রলির মালিক।  তাঁর ট্রলিতে করে ভাড়ায় মালামাল আনা নেওয়ার কাজ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।  ট্রলিটি সড়কে চালাতে হলে দশ হাজার টাকা চাঁদাদাবি করেন নথুল্লাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খলিলুর রহমান ও তাঁর দুই সহযোগী।  টাকা না দিলে ট্রলি চালাতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন তারা। 

এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে গত ২৫ এপ্রিল দাবিকৃত চাঁদার দশ হাজার টাকা পরিশোধ করেন ইছাহাক।  কিছুদিন পরে ওই ইউপি সদস্য লোকজন নিয়ে ইছাহাকের কাছে আরো এক লাখ টাকা চাঁদাদাবি করেন।  ব্যবসায়ীর বাবা সুলতান তালুকদার গত ২৯ জুন রাতে চৌপলা বাজারে বসে লোকজনের সামনে ওই ইউপি সদস্যর কাছে চাঁদাদাবির বিষয়টি জানতে চান। 

এ সময় উভয়ের মধ্যে কথার কাটাকাটি হয়।  রাতে বাজার থেকে সুলতান তালুকদার বাড়ি ফেরার সময় লাটিমসার চৌপলা সেতু এলাকায় লোকজন নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় ইউপি সদস্য।  তাঁর হাত-পা ও মুখ বেধে অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায় লেশপ্রতাপ গ্রামের একটি নির্জন বাগানে।  সেখানে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে আঘাত করা হয়। 

খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন পুলিশের সহযোগিতায় রাতেই ওই বাগান থেকে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।  অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।  ওই রাতেই ঝালকাঠি থানায় পিতাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা করতে যায় ব্যবসায়ী ইছাহাক তালুকদার। 

পুলিশ মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ১ জুলাই ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে ৯ জনকে আসামী করে একটি মামলা করেন।  আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। 

পুলিশ সময়ক্ষেপন করে ১৬ জুলাই মামলাটি লিপিবদ্ধ করে।  মামলা লিপিবদ্ধ হওয়ার পরে আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। 

ইছাহাক অভিযোগ করেন, তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনের সামনে বসেই আসামীরা আমাকে ধাওয়া করে।  পুলিশ তাদের আটক না করে উল্টো আমাকে সাক্ষীদের নিয়ে সরে যেতে বলেন।  আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে আসামীদের সঙ্গে বৈঠক করে উপপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন।  মামলা করে এখন আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। 

আসামীরা প্রকাশ্যে এলাকায় দাবিয়ে বেড়াচ্ছে।  তারা আমাদের নানাভাবে খুনজখমের হুমকি দিচ্ছে।  তাদের ভয়ে আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি। 

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান মিন্টুর সেলফোনে কল করা হলেও তিনি কল গ্রহণ করেননি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝালকাঠি থানার উপপরিদর্শক (তদন্ত কর্মকর্তা) দেলোয়ার হোসেন বলেন, আসামীরা বাড়িতে থাকে না।  এরপরেও যদি কোন খবর পাই, সেখানেই অভিযান চালাই।  আসামী ধরতে কোন কালক্ষেপন করা হচ্ছে না।