১২:০৮ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার | | ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




ঝালকাঠিতে লেবুর ভাসমান হাট ২২ গ্রামে উৎপাদিত

০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৩১ পিএম | জাহিদ


মো.রাজু খান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ভেজাল আর ফরমালিনমুক্ত ফল এখন হাতের কাছেই।  তেমনি এসব ফলের জুস বা শরবত না খেয়ে উপায় কি।  শ্রাবণের রিমঝিম বর্ষার ফাকে তীব্র রোদের তাপদাহে অতিস্ট হয়ে ওঠে প্রাণিকূল।  তখন ঠান্ডা পানির সাথে এক গ্লাস খাটি লেবুর শরবতের জুরি নেই। 

আর তা যদি হয় কাগজি লেবু তা হলেতো কথাই নেই।  ভিটামিন “সি” যুক্ত রসালো এই লেবুর ঘ্রাণে ভরে গেছে ঝালকাঠির ২২ গ্রাম।  তাই লেবু মৌসুমে জমে উঠেছে ঝালকাঠির ভিমরুলীতে নৌকায় ভাসমান লেবুর হাট।  প্রতিদিন এখানে লাখ লাখ কাগজি লেবু কেনা বেচা হচ্ছে।  এখান থেকে পাইকাররা ডিঙ্গী নৌকা থেকে লেবু কিনে নিয়ে গাড়িতে করে ঝালকাঠি বরিশাল আড়তে এনে বিক্রি করছে।  সেখান থেকে সড়ক পথে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। 

ঝালকাঠির বাউকাঠি, শতদশকাঠি, ভিমরুলী, কাফুরকাঠি, আটগড়, গাভারামচন্দ্রপুর, পোষন্ডা, ডুমুরিয়া, খেজুরা, কির্ত্তীপাশা, মিরাকাঠিসহ ২২ গ্রাম এখন লেবুর ঘ্রাণে ভরপুর।  প্রতিদিন এসব গ্রামের কৃষকরা গাছ থেকে লেবু সংগ্রহ করে নৌকায় স্থানীয় ভিমরুলী বাজারে নিয়ে আসছে।  এখানে অপেক্ষমান পাইকাররা নৌকায় বসেই কৃষকের লেবু কিনে রাখছে নৌকা থেকেই। 

একদিকে নৌকায় লেবুর হাট অন্যদিকে পানির উপরে সবুজের সমারহ দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যায়।  গত বছরের তুলনায় এবার লেবুর ফলন একটু কম হওয়ায় দাম বেশী।  গত বছর ১ পোন  (৮০টি) লেবু ছিলো দেড়শ’ টাকা।  এবার তা বিক্রি হচ্ছে ২শ’ টাকায়।  এসব গ্রামের কৃষকরা কাঁদি কেটে লেবুর চাষ করছে যুগ যুগ ধরে।  এক একটি কাঁদি ১শ থেকে ১শ ১০ হাত লম্বা এবং ৭/৮ হাত চওড়া হয়। 

প্রতিটি কান্দিতে ২২ টি গাছ লাগানো যায়।  এরকম ১ বিঘার কাঁদিতে লেবু চাষ করতে খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা।  ফল ধরার পরে প্রতি বছর লেবু বিক্রি করে দেড় থেকে দু’লাখ টাকা পাওয়া যায়।  এ হিসেবে ২২ গ্রামের লেবু বিক্রি করে প্রতি বছরে কৃষকরা আয় করছে দেড় থেকে দু কোটি টাকা। 

ভিমরুলী গ্রামের লেবু চাষী মানিক মজুমদার জানান, একবার লেবু গাছ লাগানোর পর তা একাধারে ২০/২৫ বছর ফলন দেয়।  বছরে ৩ বার ফল আসে।  ঝালকাঠির এ কাগজি লেবুর কদর ও সরবরাহ হয় ঢাকা, বরিশাল, ফরিদপুর, মাদারিপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।  আমরা ফলন ধরার পর দু’ভাবে লেবু বিক্রি করে থাকি।  স্থানীয় ভিমরুলী বাজারে নৌকায় অপেক্ষমান পাইকারদের জন্য। 

এছাড়াও গাছে ফল আসার পর পাইকারদের কাছে বাগান বিক্রি করি এককালিন নগদ টাকায়।  এরপর চারা তৈরী করি আমরা নিজেরাই কলম ও বিচির মাধ্যমে। 

শতদশকাঠির লেবু চাষি সুভাষ, অতুল হালদার জানান, আমরা সহজ শর্তে ঋন পেলে এবং কৃষি বিভাগের সহযোগীতা পেলে লেবু চাষ আরো সম্প্রসারণ করতে পারি।  কিন্তু তা পাচ্ছিনা।  সরকার কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করার কথা শুনছি কিন্ত তার সুফল আমাদের ভাগ্যে জোটেনা।  তাই চড়া সুদে এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে।