৭:৪৮ এএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | | ২০ মুহররম ১৪৪১




ভ্রাম্যমাণ আদালতের টহল

ঝালকাঠির ঈদ বাজার জমজমাট নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা

২৭ মে ২০১৯, ০৩:২০ পিএম | জাহিদ


মো.রাজু খান, ঝালকাঠি : আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে তীব্র গরম উপেক্ষা করে ঝালকাঠিতে জমে উঠেছে ঈদের বাজার।  জমে উঠেছে কেনাকাটাও।  ঈদের এখনও বেশ কিছুদিন বাকি রয়েছে কিন্তু ক্রেতারা বসে নেই। 

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ধর্মীয় ভাবগম্ভির্যপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ঝালকাঠিতে প্রস্তুতি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রবিবার সকালে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।  জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হকের সভাপতিত্বে প্রস্তুতি কমিটির সভায় সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখা এবং দুর্ঘটনা রোধে অদক্ষ চালকদের হাতে যানবাহন তুলে না দেওয়ার জন্য বাস মালিক সমিতিকে সতর্ক করে দেওয়া হয়।  ঝালকাঠির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৮ টায় প্রধান ঈদের জামাত এবং দ্বিতীয় জামাত ৮.৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।  প্রধান জামাতের ইমামতি করবেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম। 

ঝালকাঠি শহরের কুমারপট্টি, মনোহরি পট্টি, কাপুড়িয়া পট্টি, কাঠপট্টির গলি, দূর্গাপ্রাসাদ রোড, তামাক পট্টি, জয়নাল মার্কেট, খান সুপার মার্কেট, তুতন প্লাজা’র বিপনী বিতানগুলোতে গুলোয় দিনদিন বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়।  পোশাক, কসমেটিক্স এবং জুতার দোকানগুলোতেও বেচা-বিক্রি বাড়ছে সমান তালে। 

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, বেচা-কেনা ততই বাড়ছে।  ঈদ মার্কেটে কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুজর মোঃ ইজাজুল হক এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশী টহল রয়েছে।  কাপুড়িয়া পট্টির মোড়ে পুলিশ কন্ট্রোল রুম রয়েছে।  যাতে ইভটিজারদের উত্যক্ততা এবং নাভিশ্বাস ওঠা দাম রাখা না হয়।  

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আবুজর মোঃ ইজাজুল হক জানান, মার্কেটে বিভিন্ন বয়সের পুরুষ ও নারীরা কেনাকাটা করতে আসে।  এসময় একশ্রেণির কিশোরদের আগমন ঘটে তরুণীদের উত্যক্ত করতে।  পাশাপাশি ক্রেতাদের ভীড়ের সুবাদে ব্যবসায়ীরাও নাভিশ্বাস ওঠা দাম রাখে। 

এধরনের কাজ থেকে পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইভটিজার বিরোধী মোবাইল কোর্ট’র টহল এবং সেই সাথে ব্যবসায়ীরা যাতে ইচ্ছামতো দাম না রাখে এজন্য সচেতনতা মূলক প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার আইন সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হয়েছে।  

গরম উপেক্ষা করে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ক্রেতারা।  ফলে জমছে ঈদ বাজার।  ঈদে নতুন পোশাক কিনতে হবে।  ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে ঝলমলে লাইটিংসহ বিভিন্ন আকারে সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকান। 

শহরের কাপুড়িয়া পট্টির লোকনাথ বস্ত্র বিতানের মালিক পবিত্র হালদার বলেন, ‘এবারও নারীদের পছন্দের চাহিদায় ভারতীয় সিরিয়ালের নামানুসারে বেশ কিছু পোশাক বাজারে এসেছে।  তবে তীব্র গরমের কারণে টিস্যু কাপড় এবং সুইচ কটনের পোশাকের চাহিদা বেশি। 

এছাড়া গাউন, কোটি, ওয়ান পিসের চাহিদাও রয়েছে।  ব্যবসায়ী আশরাব খান জানান, সন্ধ্যার দিকে মার্কেটে ঢোকা মুশকিল হয়ে যায়।  তাই আগেভাগে কেনাকাটা করতে আসছি।  অনেক গরম পড়েছে, তাই মেয়ের জন্য পোশাক কিনতে আসলাম। 

বরিশাল সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থী সাইদ বলেন, আমার বাবা নেই।  আছে শুধু মা।  আমি পড়া লেখার পাশাপাশি ছোট একটা চাকরি করি।  রোজার তিন মাস আগে থেকেই বেতন থেকে কিছু টাকা আলাদা করে রেখেছি।  আমি মায়ের জন্য মার্কেট করবো।  তাই ঈদের বেশ কিছু দিন আগে আজ মার্কেটে আসলাম কেনাকাটা করার জন্য।  কারণ এখন দাম একটু কম এবং মার্কেটে ভিড়ও একটু কম রয়েছে। 

এবার ঈদে যুবকরা পাঞ্জাবির পাশাপাশি জিন্স প্যান্টের প্রতি ঝুঁকছে বেশি।  মনোহরী পট্টির মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা লিজা আক্তার জানান, দাম বেশি হলেও পোশাকগুলো মান সম্পন্ন।  ঈদ যতো এগিয়ে আসছে, বাজারে ভিড় ততো বাড়ছে।  তাই আগে থেকেই কেনাকাটা সেরে রাখতে আগাম বাজারে আসা। 

যুবক বাপ্পি বলেন, অনলাইনে নতুন নতুন পোশাক দেখে মার্কেটে আসলাম সেগুলো কেনার জন্য।  তরুণী সাদিয়া আক্তার মৌ বলেন, এবারের ঈদে নতুন কালেকশন দেখে পোশাক কিনবো।  তাই ঘুরে ঘুরে দেখছি কোনটা ভালো লাগে। 

ঈদের নতুন কালেকশন দেখতে শিক্ষার্থীরা মার্কেটে লক্ষ্য করা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে প্রতিদিন বেচাকেনা বাড়ছে।  শুরু তাই নতুন নতুন কালেকশন দেখতে প্রতিদিনই মার্কেটে দেখা যায় বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের।  অন্য দিকে থান কাপড়ের বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি আগের চেয়ে অনেকটাই কমেছে।  যারা ভিড় এড়িয়ে একটু স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে চান তারাই হাজির হচ্ছেন দোকানগুলোতে।  ১৫ রোজার মধ্যে বেশিরভাগ টেইলার্স অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।  তাই কেনাকাটা করা হচ্ছে বলে জানান ক্রেতারা।  রেডিমেড কিংবা শাড়ি-কাপড়ের বিক্রি এখন থেকেই বাড়বে বলে ধারণা ব্যবসায়ীদের। 

ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, আশা করি সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে বেতন-বোনাস এলেই ঈদ মার্কেট জমবে।