২:৪২ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার | | ১৮ সফর ১৪৪১




ঝালকাঠি-শেখেরহাট সড়ক নদী ভাঙ্গনে বিলীন হওয়ার পথে

২২ জুলাই ২০১৯, ০৫:৩০ পিএম | নকিব


মোঃ রাজু খান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠি উপজেলা সদরের সাথে শেখেরহাট ইউনিয়নের একমাত্র প্রবেশ পথ গাবখান চ্যানেলের নদী ভাঙ্গনে বিলীন হওয়ার পথে। 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ৬ কিলোমিটারের এই সড়কটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারছেনা। 

গাবখান চ্যানেলের তীর সংলগ্ন সড়কটি প্রতিদিন ভাঙ্গনের পাশাপাশি গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে।  এলজিইডি বলছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিলেই সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।  প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত সঠিক ভাবে সংস্কার না হওয়ায় সড়কের পিচ ঢালাই উঠে আগেই কানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।  ফলে যানবহনগুলো যাত্রীদের নিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। 

গাবখান নৌ রুটের ভারী ও মালবাহী জাহাজ চলাচল করায় পানির ¯্রােতে সড়কের মাটি ও গাছ ভেঙ্গে পরছে প্রতিদিন।  এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি-শেখেরহাট সড়কটি গাবখান চ্যানেলের ভাঙ্গনের কবলে পরে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে।  অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মালিকানাধীন জায়গার উপর নির্মিত এ সড়কের রক্ষানাবেক্ষন করছে এলজিইডি।  গাবখান চ্যানেল দিয়ে ভারী নৌযান চলাচল করায় পানির ¯্রােতে সড়কটির এ বেহাল অবস্থা। 

এ সড়ক দিয়ে ঝালকাঠি থেকে শেখেরহাট হয়ে পিরোজপুরের কাউখালী, আমিরাবাদ, স্বরুপকাঠি, বেকুটিয়া থেকে পিরোজপুর অল্প সময়ে যাতায়াত যেত।  কিন্তু বেহাল দশার কারনে এসব রুটের অধিকাংশ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।  বন্যা প্রকল্পের আওতায় সংস্কারের জন্য প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেলেও নদী ভাঙ্গনরোধ করতে না পারায় এ বরাদ্দ কোন কাজে আসছেনা।  পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, নদী ভাঙানরোধে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।  তবে কবে নাগাদ এর বাস্তবায়ন ঘটবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই।  

(গত শুক্রবার ) সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় , ঝালকাঠি-শেখেরহাট সড়কের গাবখান, সারেঙ্গল, মীর্জাপুর, রাজপাশা, শিরযুগ অংশের অবস্থা সবচেয়ে বেহাল।  নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে সড়কের বিভিন্ন অংশ ছোট হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরেছে।  এ ভাবে বেশি দিন অব্যহত থাকলে এ পথে যান চলাচল বন্ধ হবার উপক্রম হয়ে পরবে।  শিরযুগ এলাকার বাসিন্ধা আঃ ছত্তার হাওলাদার বলেন, এ সড়কটি হয়ে বেকুটিয়া ফেরী ঘাট পর্যন্ত যেতে সময় লাগে মাত্র ৩০ মিনিট।  অথচ ঝালকাঠি থেকে বেকুটিয়া যেতে প্রায় দেড় ঘন্টা লাগে।  কিন্তু নদী ভাঙ্গনে বিলীন হওয়ায় এ পথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।  গাবখান বাজারের ব্যবসায়ি সালাম বলেন, প্রতিদিন সড়কের বিভিন্ন অংশের জায়গা নিয়ে অনেক গাছ গাবখান নদীতে ভেঙ্গে পড়ছে।  সড়কের অনেক অংশ ভেঙ্গে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।  কোথাও সড়কের নীচের মাটি সরে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।  এ পথে জেলা শহর থেকে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনে ব্যবসায়ীদের মালামাল আনতে হয়। 

সারেঙ্গল এলাকার কলেজ ছাত্র সুবজ হোসেন বলেন, প্রতিদিন এ পথে ঝুঁকি নিয়ে এ এলাকার ছাত্রছাত্রীরা ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজ ও সরকারি কলেজে যাতায়ত করে। 

এ বিষয়ে ঝালকাঠি স্থানী সরকার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন জানান , প্রতিদিন নদীতে ভেঙ্গে যাওয়ায় এ সড়কটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পরেছে।  গাবখান চ্যানেল দিয়ে ভারী নৌযান চলাচলে পানির ¯্রােতে সড়কটি নদীতে বিলীন হচ্ছে।  পানি উন্নয়ন বোর্ড সড়কটি রক্ষায় ভাঙ্গন প্রতিরোধে আগে ব্যবস্থা না নিলে বন্যা প্রকল্পের বরাদ্দের ৩ কোটি টাকা কাজে লাগছে না।  তবে এ বিষয়ে ঝালকাঠি-২ আসনের সাংসদ আমির হোসেন আমুর মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। 

এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আতাউর রহমান বলেন , আমাকে এলজিইডি এ বিষেয়ে অবগত না করলেও ইতিমধ্যেই আমি এই সড়কের ৩৭শ মিটার ভাঙ্গন রোধের প্রস্তাব পাঠিয়েছি পানি উন্নয়ন বোর্ডে।  যা বিবেচনায় আছে।  স্থায়ী নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় এ কাজ করা হবে। 

তিনি আরও বলেন , তবে এই সড়কটি চালু রাখতে হলে বর্তমান ভাঙ্গা সড়কের ভিতর থেকে নতুন করে জমি অধিগ্রহন করে নতুন সড়কের জন্য এলজিইডিকে উদ্যোগ নেয়া উচিত।  তাহলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভাঙ্গন প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়ার পর নতুন সড়ক দীর্ঘ মেয়াদি হবে।