২:৪৪ এএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | | ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

ঝালকাঠি হানাদার মুক্ত দিবস আজ ৮ ডিসেম্বর, আজও অরক্ষিত জেলার বধ্যভূমিগুলো

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:৩৪ এএম | নিশি


মোঃ রাজু খান, ঝালকাঠিঃ আজ ৮ ডিসেম্বর।  ১৯৭১ সালের এ দিনে পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরতা থেকে মুক্তি পায় ঝালকাঠিবাসি।  ঝালকাঠি জেলার প্রায় অর্ধশত স্থানে নিরীহ বাঙালিকে ধরে গুলি করে পাকহানাদাররা।  কিন্তু স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও  জেলার বধ্য ভূমিগুলো সংরক্ষনের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়।  সরকার গঠনের পট পরিবর্তন হলেও বধ্যভূমিগুলোর কোন পরিবর্তন নেই।  বাঙালীর রক্তের স্মৃতি বধ্য ভূমিগুলো আজও অরক্ষিত, অবহেলিত ও উপেক্ষিত। 

ঝালকাঠি হানাদার মুক্ত হওয়ার বর্ণনাঃ  মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক, মুক্তিযোদ্ধা ও সংশ্লিষ্টদের দেয়া স্মৃতি নির্ভর তথ্যে জানাগেছে, ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ স্থানীয় পুরাতন স্টেডিয়ামে স্বাধীন বাংলার পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করা হয়।  আর এর পরপরই স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিষদের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে।  পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে বরিশাল থেকে সংগৃহিত স্বল্প সংখ্যক রাইফেল ও ক’টি বন্দুক দিয়ে চলে মুক্তিবাহিনী গঠনের কাজ। 

এতে স্বতঃস্ফুর্তভাবে সহায়তা করেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ ও ইপিআর এর সদস্য।  এরই এক পর্যায়ে পাকিস্তানী হানাদারদের রূখতে মুক্তিপাগল স্বতঃস্ফুর্ত যুবকের সংখ্যা এতটাই বেড়ে যায়, যে কারণে অবশেষে বন্দুকের সাদৃশ্য কাঠের অস্ত্র দিয়ে প্রশিক্ষণ কাজ চালাতে হয়। 

এভাবেই ছোট ছোট কটি মুক্তিবাহিনী দল গঠিত হয়।  এর মধ্যে পৃথক পৃথকভাবে একেকটি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সর্বহারা পার্টির সিরাজ সিকদার, সেলিম শাহনাজ, কির্ত্তীপাশা ইউনিয়নের মানিক প্রমুখ।  শেষ পর্যন্ত এই মানিকের নেতৃত্বাধীন ২৪ সদস্যের দলটি স্থানীয়ভাবে মানিকবাহিনী নামে পরিচিত ছিল। 

এরপর ১ মাস ৪ দিনের মাথায় ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাক হানাদারদেও একটি দল গানবোট যোগে এসে প্রচন্ড গোলাগুলি করে শহর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে প্রথমে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগ করে।  বর্বরদের ভারী অস্ত্রের কাছে টিকতে না পেরে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরাসহ শহরবাসী যে যেভাবে পারছে শহর ছেড়ে আত্মরক্ষার্থে অজানা গন্তব্যে চলে গেছে।  কিন্তু এরই মধ্যে পাকহানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেছে অসংখ্য অসহায় লোক। 

স্থানীয় কতিপয় পদলেহীর পরামর্শে  বেছে বেছে ক’টি বাড়ি ঘর রেখে এককালের ঐতিহ্যবাহী “দ্বিতীয় কলকাতা খ্যাত” ব্যবসায়ীক ঝালকাঠি বন্দর জ্বালিয়ে দেয়।  যে আগুনের লেলিহান শিখা ১২/১৫ মাইল দূর থেকেও মানুষ দেখতে পেরেছে।  এ আগুনের স্থায়ীত্ব ছিল টানা ৩ দিন।  ফলে পাকিস্তানী বর্বর উম্মত্তদের তান্ডবে শত বছরের গড়া ঝালকাঠি বন্দরবাসীর সোনার সংসার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানা পুড়ে ছাই হয়ে মাটিতে মিশে গেছে।  ১৬ জুন প্রায় ৫ শতাধিক পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় বেশাইনখানের মানিক বাহিনীর ২৪ জনের পুরো দলটিকে ধরে এনে নিষ্ঠুর নির্যাতনের পর অবশেষে হত্যা করে। 

এভাবেই তথাকথিত শান্তি কমিটির বা পিস কমিটির অথবা পাকিস্তানী দালাল রাজাকারদের সহায়তায় ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত নৃশংস বর্বরতা চালিয়ে গোটা ঝালকাঠির মানুষকে নিঃস্ব করে এবং কল্পনাতীত নিষ্ঠুরতার স্বাক্ষর রাখে পাক হানাদার দস্যুরা।  এর মধ্যে ছিল ধর্ষণ, লুটতরাজ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও হত্যা।  কালের স্বাক্ষী হয়ে সুগন্ধা প্রবাহমান থাকলেও তারই করাল গ্রাসে বিলীন কসাইর মত জবাই আর সারিবদ্ধভাবে শত শত আদম সন্তানকে গুলি করে হত্যা করার সেই স্থান বধ্যভূমিটি।  

দেশকে শত্রু মুক্ত করার প্রাণপণ এই লাড়াইর এক পর্যায়ে ৭ ডিসেম্বর পাক বাহিনী ঝালকাঠির উত্তরাঞ্চলে অভিযান শেষে সুগন্ধা নদী দিয়ে নৌ-পথে বরিশাল যাবার সময় স্থানীয় কাঠপট্টির চরে ৩০ জন রাজাকারকে নামিয়ে দেয়।  ওই দিন কতিপয় নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা লাঠি হাতে পিছন থেকে রাজাকার দলটিকে “হ্যান্ডসআপ” বলা মাত্রই রাজাকাররা হাতের অস্ত্র ফেলে দু’হাত উপরে তোলে আত্মসমর্পণ করে।  মুক্তিপাগল মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকারদের চারিদিক থেকে ঘিরে ফেললে “টিক্কাখান” নামে পরিচিত আঃ বারেক নামের এক রাজাকার প্রতিবাদ করলে বিক্ষুদ্ধ জনতা তার চোখ তুলে ফেলে উল্লাস এবং যার যেভাবে সম্ভব তাকে আঘাত করে।  সন্ধ্যায় টিক্কাখান নামের রাজাকার মারা যায়।  ধৃত বাকি রাজাকারদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।  আর এরই মধ্য দিয়ে রক্তপাতহীন শান্ত পরিবেশে ঝালকাঠি হানাদার মুক্ত হয়, প্রতিষ্ঠিত হয় বীরমুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণ।  ২৩ নভেম্বর রাজাপুর এবং ৮ ডিসেম্বর ঝালকাঠি ও নলছিটি হানাদার মুক্ত হয়। 

ঝালকাঠি জেলা বনিক সমিতির সাবেক সভাপতি সালাহ উদ্দিন আহমেদ সালেক জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের বয়স তেমন একটা বেশি হয়নি।  ভালো-মন্দ বুঝার ক্ষমতা হয়েছে।  ঝালকাঠি শহরে পাক সেনাদের অগ্নিকান্ডে সর্বস্ব হারিয়ে শহর তলীর ইছানীলে পুরান বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেই। 

সেখানে আগুনের এতটা তাপ ছিলো, যা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বাসন্ডা নদীর পশ্চিম পাড়েও থাকতে পারলাম না।  সহ্য করতে না পেরে সদর উপজেলার তারুলী গ্রামের একটি বাড়িতে উঠে থাকি।  খবর পেলাম ঝালকাঠির উত্তরাঞ্চল থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের তোপের মূখে পাকবাহিনী সুগন্ধা  নদীর দিকে আসছে।  মুক্তিযোদ্ধা বড় ভাইদের সাথে বাঁশের লাঠি নিয়ে পাক হানাদার বাহিনীকে আক্রমনের জন্য যাই।  যখন দেখি গান বোটে গুলি করতে করতে আসছে তখন আমরা তার সামনে অসহায় মনে করে কচু ক্ষেতের মধ্যে মাটিতে শুয়ে পড়লাম।  পাকবাহিনী আমাদের না দেখে গান বোট চালিয়ে গেল।  পরে শুনলাম তারা কতিপয় রাজাকারকে সুগন্ধা নদীর তীরে নামিয়ে দিয়ে নলছিটিতে থাকা বাকি পাকবাহিনীদের নিয়ে চলে গেছে। 

জেলার বধ্য ভূমি সংরক্ষনের উদ্যোগ নেইঃ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনী নির্মম অত্যাচার চালায় স্বাধীনতাকামী ঝালকাঠি’র বিভিন্ন স্থানে।  পাকহানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের স্বাক্ষী ঝালকাঠি’র বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষনের অভাবে প্রায় নিশ্চিহ্ন হবার পথে।  শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে সারাদেশের সাথে ঝালকাঠি জেলায়ও নির্মাণ করা হয় একটি মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্তম্ভ।  সেই স্মৃতি স্তম্ভটি নির্মাণের ৬ মাসের মধ্যেই মুছে যায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামগুলো।   দেশের জন্য আত্মত্যাগী শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় স্বাধীনতার ৪৫ বছর পার হলেও বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষন কিংবা কোন স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়নি।  বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধকালীন জঘন্যতম হত্যাকান্ডের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস আজও রচিত হয়নি।  বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে তাদের ইতিহাসের স্বাক্ষী হিসেবে স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করে সেই স্মৃতি আজও স্বগৌরবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে চলছে। 

ঝালকাঠির বধ্যভূমি গুলোর সঠিক কোন পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।  বিভিন্ন সূত্রে কয়েকটি বধ্যভূমি’র তথ্য পাওয়া গেছে।  ঝালকাঠি জেলার সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি ছিল পৌর শহরের সুগন্ধা নদীর পাড়ে।  এখানে ১৯৭১ সালের ৩০ মে একদিনেই ১শ ৮ জন বাঙালীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।  স্থানটি এক পর্যায়ে সুগন্ধা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও বর্তমানে সে স্থানটিতে চর জেগে উঠছে।  চরটি সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি বরং সেখানে রয়েছে পৌর কসাইখানা এবং ময়লা ফেলার স্থান। 

এছাড়া সদর উপজেলার ভীমরুলী বধ্যভূমিতে ৭ জুন ৭ জন বাঙালীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।   সেখানেও নেই কোন স্মৃতি চিহ্ন।  ডুমুরিয়া বধ্যভূমিতে ১০ জুন ১৯ জন বাঙালীকে হত্যা করা হয়।  সে স্থানটি বর্তমানে একটি ক্লাবের দখলে।  বেশাইনখান বধ্যভূমিতে ১৭ জুন ১৪ জন বাঙালীকে হত্যা করা হয়।  সেখানে বর্তমানে রয়েছে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।  রমনাথপুর বধ্যভূমিতে ২১ মে ৫ জনকে এবং ২৩ মে ১৭ জনকে শরীফ বাড়ির মসজিদ থেকে টেনে বের করে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।  মসজিদের পার্শে¦ একটি স্মৃতি ফলক নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে তা নিশ্চিহ্ন।  সাচিলাপুর গ্রামের বধ্যভূমিতে ২২ জুন স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধা রামাবতী বসুসহ ৬ জন গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।  এখানেও কোন স্মৃতি চিহ্ন নেই।  রাজপাশা বধ্যভূমিতে ২২ জুন বিভিন্ন স্থান থেকে অগণিত লোককে ধরে এনে জবাই ও গুলি করে হত্যা করা হয়।  সেখানে বর্তমানে রোকেয়া খাতুন বালিকা বিদ্যালয়।  গুয়াটন বধ্যভূমিতে ২ অক্টোবর মুক্তিকামী কয়েকজন গ্রামবাসীকে হত্যা করা হয়।  তারও কোন স্মৃতি চিহ্ন নেই।  খায়ের বধ্যভূমিতে তৎকালীন খায়েরহাট ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে বিভিন্ন দিনে অনেক লোককে হত্যা করা হয়।  শহীদদের সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।  পালবাড়ি গোডাউনঘাট বধ্যভূমিতে বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে একটি ঘাটলার উপর রেখে গুলি ও জবাই করে হত্যা করে।  ঘাটলাটি এখন রয়েছে।  কিন্তু বধ্যভূমির কোন স্মৃতি চিহ্ন নেই।  এছাড়াও শহরের পৌরসভা সংলগ্ন ব্রিজ এবং সদর উপজেলার পাঁজিপুথিপাড়া, কুতুবকাঠি, শ্রীমন্তকাঠি ও কিস্তাকাঠির চর এলাকা ছিল বধ্যভূমির উল্লেখযোগ্য। 

রাজাপুর উপজেলার বাঘড়িতে অবস্থিত বধ্যভূমিতে ৩ জুলাই ১০জন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ অসংখ্য মুক্তিকামী জনতাকে হত্যা করা হয়।  নলছিটি পৌর এলাকায় বধ্যভূমিতে ১৩ মে স্বাধীনতাকামী ১৪ জন ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।  স্থানটি বধ্যভূমি সংরক্ষন কমিটির নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সেটি এখন গো-চারণ ভূমি।  কাঠালিয়া উপজেলায় বধ্যভূমির সঠিক কোন পরিসংখ্যান পাওয়া যায় নি। 

সাবসেক্টর কমান্ডার ক্যাপটেন শাহজাহান ওমর বীরউত্তমঃ ‘৭১ এর মার্চে আমি ছিলাম পাকিস্তানের খারিয়া ক্যান্টনমেন্টে।  ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক ভাষণে বলেছেন, ‘এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম, আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। ’

এরপর ২৭ মার্চ বিবিসি রেডিও থেকে জানতে পারলাম, বঙ্গবন্ধুর পক্ষে মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।  ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস।  সরকারি ছুটির দিন হিসেবে আমাদের কিছু সময়ের জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলো।  আমরা এক পোশাকেই পাকিস্তান ত্যাগ করেছিলাম।  এরপর আমাদের বিমানে কলকাতায় পাঠানো হলো।  সেখানে ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে ছিল প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের হেড কোয়ার্টার।  জেনারেল ওসমানীর হেড কোয়ার্টারও ছিল এখানে।  ওসমানীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি ৯ নম্বর সেক্টরে পোস্টিং দিলেন।  এ সেক্টর ছিল সাতক্ষীরার হাসনাবাদ, টাকিনগর বলে এক জায়গায়।  সেক্টর কমান্ডার হলেন মেজর জলিল।  ২১ আগস্ট আমি সেক্টরে এলাম।  মেজর জলিল আমাকে পেয়ে খুশি হলেন।  আমাকে তিনি বরিশালের অভ্যন্তরে যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব দিলেন। 

২৬ আগস্ট ৬০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে আমি পশ্চিম বাংলার বর্ডার ক্রস করে বাংলাদেশে প্রবেশ করি।  যশোরের পাশ দিয়ে কালিগঞ্জ, তাহেরপুর, টুঙ্গিপাড়া ও পয়সাঘাট হয়ে আমি উজিরপুর এসে ক্যাম্প গঠন করি।  আমাদের পেয়ে সেখানকার মুক্তিযোদ্ধারা সাহস পেলেন।  ২ সেপ্টেম্বর উজিরপুরের হার্তা এলাকায় পাকিস্তানিরা আমাদের ওপর বিমান ও গানবোট হামলা করে।  মুক্তিযুদ্ধে এখানে আমি প্রথম যুদ্ধ শুরু করি।  পাকিস্তানের গানবোটগুলো লক্ষ্য করে রকেট লাঞ্চারের গোলা ছুঁড়তে থাকি।  একটা গানবোট ওখানেই ধ্বংস হয়ে যায়।  সেখানে আমরা ছয়টি লঞ্চ ধ্বংস করতে সক্ষম হই। 

এ ছাড়া সেখানে অনেক পাঞ্জাবি ও রাজাকার মারা যায় এবং শত্রু পক্ষের অনেকেই আহত হয়।  এতে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস বেড়ে যায়।  শত্রু মুক্ত করার জন্য প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকে আমার একটার পর একটা অপারেশন। 

১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর আমরা ৯ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা বরিশাল শহর দখল করে নিই।