১১:৩২ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে চলছে সংবাদকর্মী

২৯ জুলাই ২০১৭, ০৮:০৯ পিএম | রাহুল


এসএনএন২৪.কমঃ ভারী বৃষ্টিতে থৈ থৈ করছে রাজধানী ঢাকা।  ইতোমধ্যে বেশ কিছু এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।  পানি উঠছে বাসায় বাসায়।  অনেকেই ঘর থেকেও বের হতে পারছে না।  স্কুলগামী ছেলে-মেয়েরা পড়েছে আরও বিপাকে।  কর্মজীবীদেরও বিড়ম্বনার শেষ নেই। 

কিন্তু তাতেও কি থেমে আছে নগরজীবন? না, বরং বলা চলে- নগরজীবন একই রকম একই ধারায় বয়ে যায়।  হ্যাঁ, বৃষ্টি বাধা উপেক্ষা করে রাজধানীতে আজও অন্যান্য দিনের মতোই কর্মচাঞ্চল্য আছে যথারীতি।  মাথার উপর ছাতা নিয়ে, কিংবা রেইন কোর্ট পরে, কেউবা শরীরে পলিথিন মুড়িয়ে বেলা বারার সঙ্গে সঙ্গে কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন। 

তবে ঝড়-বৃষ্টি যা-ই থাকুক, বিভিন্ন পেশার মানুষদের কেউ কেউ আলস্যকে স্বীকার করলেও থেকে নেই শুধু সাংবাদিকের পথচলা।  বৃষ্টি অতিমাত্রায় হওয়ার কারণে অনেক সংবাদকর্মীর কাছে ‘বৃষ্টিই’ নিউজ আইটেম হয়ে গেছে।  সকাল থেকে ভেজা শরীর নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ছুটছে তারা।  মাথার উপর আকাশ যতই ভেঙে পড়ুক সময় মতো সংবাদ সংগ্রহ করে অফিসে পৌঁছুনোর একটা তাড়া আছে তাদের মধ্যে।  এটি নিশ্চয় দায়িত্বশীলতার একটি জায়গা।  সেবাদানের একটি অঙ্গিকার। 

বুধবার সকালে দৃশ্যে গোটা রাজধানী যখন পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে তখনও বেশ কিছু সংবাদকর্মীকে দায়িত্বপালনরত অবস্থা দেখা গেছে।  কথাও হয়েছে তাদের কারও কারও সঙ্গে।  তাদের কথায় উঠে এসেছে সেবামূলক একটি পেশা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুষঙ্গ। 

একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সহ-সম্পাদক জুয়েল বিশ্বাস।  প্রতিদিন সকাল ৮টায় তাকে অফিসে হাজির হতে হয়।  আজও তার ব্যত্যয় ঘটেনি।  তার সঙ্গে কথা হলে তিনি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘যেকোনও ঘটনাই ঘটুক দেশবাসী সে ঘটনার সত্য খবরটা সংবাদমাধ্যমের মধ্য দিয়েই জানতে চায়।  মানুষ এখনও মিডিয়ার ওপর আস্থা রাখে।  মিডিয়াও মানুষের সুখে-দুখে বরাবরই মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে।  আমরা যেহেতু সংবাদকর্মী তাই আমাদের ঝড়-বৃষ্টি বলে কিছু নেই।  এই যেমন আজকের দিনটির কথাই ধরুন। ’ 

কথা হয় ব্রেকিংনিউজের নিজস্ব আদালত প্রতিবেদক আব্দুল জাব্বার খানের সঙ্গে।  বাড্ডার একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী-পুত্র নিয়ে থাকেন তিনি।  প্রতিদিনই মোটরসাইকেলে চড়ে আদালতে যাতায়াত তার।  আজ তুমুল বৃষ্টিতেও এতটুকু আলস্য নেই কর্মস্থলে পৌঁছুতে।  তার সঙ্গে কথা হলে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তিনি বলেন, ‘আদালত পাড়ায় সকাল থেকেই সাংবাদিকদের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মতো।  আমরা একটি সেবাদানমূলক পেশার সঙ্গে নিজেদের জড়িত করেছি বলেই আমাদের বিঘ্নতা কিংবা সুবিধে-অসুবিধে বলে কিছু নেই।  এই দেখুন না- রেইন কোর্ট নিয়ে বের হওয়ার পর সারা শরীর ভিজে গেছে।  ভেজা শরীর নিয়েই আদালতের বিভিন্ন বেঞ্চে দৌড়ুচ্ছি।  আসলে আমি একা নই, আমার মতো অনেক সংবাদকর্মীরই একই দশা।  আমরা যেহেুতু জনস্বার্থে জনদুর্ভোগ নিয়ে কাজ করি, সত্য উদঘাটনে প্রতিশ্রুতিশীল তাই আমাদের সামনে বৃষ্টি বড় কোনও বাধা নয়। ’

সকালে একপ্রকার কাকভেজা হয়েই অফিসে পৌঁছেছেন সোহাগ, শামসুল ও অনিক।  তারা তিনজনই ব্রেকিংনিউজের সহ-সম্পাদনার দায়িত্বে আছেন।  তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রবল বৃষ্টির কারণে সকালে রাস্তায় বাস পেতে সমস্যা হচ্ছিল।  মাত্র ৫ মিনিটের রাস্তা ৬০ টাকা ভাড়া দিয়ে অফিসে পৌঁছেছেন আন্তর্জাতিক বিভাগের সহ-সম্পাদক সোহাগ অপূর্ব।  সকালে কল্যাণপুর থেকে বিজয়নগর অফিসে পৌঁছুতে অনেকটা যুদ্ধই করতে হয়েছে সেন্ট্রাল ডেস্কের সহ-সম্পাদক শামসুল আলমকেও।  রাজধানীর ধোলাইপাড় থেকে প্রতিদিন দুবার বাস বদল করে অফিস করতে আসা বিনোদন বিভাগের সহ-সম্পাদক অনিকের অনুভূতিও ছিল একইরকম।  তাদের প্রত্যেকের মুখেই প্রায় এক কথা- আমরা জানি, আমরা কোন পেশার সঙ্গে জড়িত।  এখানে সেক্রিফাইসটুকুর বিকল্প নেই।  আর সেটি করতে পারি বলে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এখনও আছি।  মানুষ ও দেশই আমাদের কাছে বড়। 

কথা হয় প্রেসক্লাব প্রতিবেদক আতিক হাসানের সঙ্গে।  তিনি বলেন, ‘ভাই প্রতিদিন যাত্রাবাড়ী থেকে আসি।  প্রেসক্লাবে পৌঁছুতে প্রায় আধাঘণ্টা লেগে যায়।  আজও এসেছি সময় মতো।  চেষ্টা করছি অন্যান্য দিনের মতোই যথাসময়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য।  মানুষের জন্য দেশের জন্য কিছু করতে পারলেই বেশি ভালো লাগে। ’

তবে বৃষ্টির দিনে সবচেয়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন ফটো সাংবাদিকরা।  অনেক টাকায় কেনা ক্যামেরাটিকে বৃষ্টির পানি থেকে নিরাপদে রাখার পাশাপাশি তাদের ঘাপতি মেরে থাকতে হয় একটি ভালো ছবির জন্য।  তাদেরই একজন একনিষ্ঠ ফটো সাংবাদিক জুয়েল রানা।  যুক্ত আছেন ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডির সঙ্গে।  প্রতিদিনের মতো আজও কাঁধে ক্যামেরা ঝুলিয়ে সকালেই ঘর ছেড়েছেন তিনি।  বৃষ্টি মাথায় নিয়ে মগবাজার মোড়ে জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগের কিছু ভালো ক্লিক নেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।  তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘৯টার দিকে বাসা থেকে বের হয়েছি।  এই দিনে অবশ্যই ভালো কিছু ছবি অফিসকে দেয়া লাগবে।  পুরো রাজধানীই পানিতে থৈ থৈ করছে।  বৃষ্টির মধ্যে ছবি তুলতে গিয়ে ক্যামেরাটা কিছুটা ভিজিয়ে ফেলেছি।  কোনও সমস্যা হয় কিনা- তা নিয়েই ভাবছি।  তার পরও ভালো কিছু ছবি সংগ্রহে আসলে মনটা ভালো লাগবে। ’

শুধু, জুয়েল, জাব্বার, শামসুল, সোহাগ, অনিক, আতিক কিংবা জুয়েল রানাদের মতো সাংবাদকর্মীরাই নন, এমন ঝড়-বৃষ্টির দিনে সব বাধা উপেক্ষা করে সকালে থেকেই কাকভেজা শরীরে সংবাদ সংগ্রহের জন্য হন্যে হয়ে ছুটছেন বিভিন্ন পত্রিকার অসংখ্য সংবাদকর্মী।  দেখলে মনে হয়- যেন রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে। 

Abu-Dhabi


21-February

keya