১২:১৮ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৫ সফর ১৪৪০


টাকার অভাবে জবি শিক্ষার্থী শারমিনের পড়াশুনা অনিশ্চিত

১২ জুন ২০১৮, ১০:৩৪ এএম | সাদি


আব্দুল মান্নান, নওগাঁ প্রতিনিধি: উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে ভাল প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনার আগ্রহ সব শিক্ষার্থীর।  তবে সাধ থাকলেও সাধ্য থাকেনা অনেকেরই।  মেধা তালিকায় স্থান হলেও অর্থের অভাবে পড়াশুনা করার সুযোগ হয়ে উঠে না অনেকেরই।  তেমনি এক মেধাবী ছাত্রী শারমিন আক্তার মিম।  তিনি নওগাঁর মান্দা উপজেলার মান্দা সদর ইউনিয়নের ঘাটকৈর গ্রামের রিক্সা চালক জামাল হোসেন ও মা গৃহিনী মোরশেদা খাতুনের বড় মেয়ে। 

২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ৩৯৬ নম্বরে মেধা তালিকায় ভর্তি হন।  গত ১০ জানুয়ারী থেকে প্রথম সেমিষ্টারে ক্লাস শুরু হয়েছে।  আবাসিক হল না থাকায় পড়াশুনার জন্য ম্যাসে থাকতেন।  এজন্য প্রতিমাসে থাকা খাওয়া বাবদ প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ হতো।  কিন্তু অর্থের অভাবে আর ম্যাসে থাকা সম্ভব হয়নি।  বাড়িতে অবস্থান করছেন প্রায় ১ মাস থেকে।  হত-দরিদ্র পরিবারে শারমিন আক্তার মিম ভর্তি হলেও থাকা খাওয়া আর পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া টাকার অভাবে চোখে যেন সরষে ফুল দেখার মতো অবস্থা। 

জানা গেছে, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া চার শতাংশের জমির মালিক জামাল হোসেন।  আর সেখানে টিন ও বুনের বেড়া দিয়ে তৈরি একটি ঝুপড়ি ঘর করে বসবাস করেন স্ত্রী মোরশেদা খাতুন, দুই মেয়ে শারমিন আক্তার মিম ও শাহারা আফরীন।  শাহারা আফরিন মান্দা এসসি পাইলট স্কুল ও কলেজে অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। 

আর শারমিন আক্তার মিম ছোটবেলা থেকেই মেধাবী।  ২০০৯ সালে ৫ম শ্রেণীতে সমাপনী পরীক্ষায় মান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫১০ নম্বর এবং মান্দা এসসি পাইলট স্কুল ও কলেজ থেকে ২০১২ সালে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় এ-প্লাসসহ বৃত্তি লাভ করেন।  একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৫ সালে মাধ্যমিকে এ-প্লাস এবং ২০১৭ সালের নওগাঁ সরকারি বিএমসি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে ৪ দশমিক ২৫ অর্জন করেন। 

হত-দরিদ্র পরিবার থেকে বেড়ে উঠা মিম এলাকাবাসীর সহযোগীতায় এতোদিন পড়াশুনা চালিয়ে আসছে।  কিন্তু উচ্চ শিক্ষার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ।  চলতি ২০১৮ সালের অর্নাস ভর্তি পরীক্ষায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হলেও টাকার অভাবে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না শারমিনের পক্ষে।  এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছে তার পরিবার। 

শারমিন আক্তার মিমের মা মোরশেদা খাতুন বলেন, শত কষ্টের মাঝেও মেয়ে দুটিকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করছি।  কিন্তু উচ্চ শিক্ষা নিতে মাঝ পথে টাকার অভাবে মেয়ের স্বপ্নটা এখন থেমে গেছে।  স্বামীর একার আয় ও প্রতিবেশীদের সহযোগীতায় এতোদিন মেয়ে দুটিকে পড়াশুনা করিয়েছি।  কিন্তু অভাবে সংসারের কারণে আর কুলাতে পারছিনা।  সমাজে অনেক সহৃদয়বান ব্যক্তি আছেন যারা সহযোগীতা করলে আমার মেয়েটি লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে।   যোগাযোগ ও বিকাশ নম্বর: ০১৭৩৬-৭৫৩৫৪৪।