১১:৪২ এএম, ২২ জুন ২০১৮, শুক্রবার | | ৮ শাওয়াল ১৪৩৯

South Asian College

টার্কি পালন করে মাসিক আয় করেন প্রায় ৪০ হাজার টাকা

০৭ মে ২০১৮, ০৬:৫৫ পিএম | রাহুল


এস.এম.মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, জাককানইবি প্রতিনিধি : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালন বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ রনি  টার্কি পালন করে মাসিক আয় করেন  প্রায় ৪০ হাজার টাকা। তানভীর এিশাল থানার, বালিপাড়া ইউনিয়নের, কাজীপারা গ্রামের মোঃ ফজলুল কবীর চৌধুরীর ছেলে। 

টার্কির মাংসের সুখ্যাতি বিশ্বজুড়ে।  এর উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে কম।  তাই টার্কি পালন বেশ লাভজনক।  আর এ টার্কি মুরগি পালনে ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের তানভীর ও এমদাদের।  তানভীর ও এমদাদ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের  লোক প্রশাসন বিভাগের ছাত্র। 

তানভীর আহমেদ রনি জানান, আমি পড়াশোনার পাশাপাশি এই টার্কি পাখির প্রতিপালন করে থাকি।  আর এই টার্কি পাখি পালনে তেমন বিশেষ কোন জায়গার প্রয়োজন হয় না।  আর এটি পালন খুব সহজ আর যে কেউ অর্থাৎ বাড়ির মহিলারাও পালন করতে পারবে।  টার্কি পাখির জীবনীশক্তি আমাদের দেশীয় মুরগির চেয়ে অনেক বেশি শাক্তিশালি।  আর আমার কাছে টার্কির ভিবিন্ন জাত রয়েছে।  যেমন: হোয়াইট ব্রড বেস্টেড টার্কি, রয়েল পাম টার্কি, নরফল ব্রোঞ্জ টার্কি ।  ১ থেকে ১.৫ মাস বয়সী বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে ১৫-১৬০০ টাকা জোড়া। 

ডিম বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকা হালি। ছয় মাসের একটি পুরুষ টার্কির ওজন হয় পাঁচ-ছয় কেজি এবং স্ত্রী টার্কির ওজন হয় তিন-চার কেজি।  ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ২৮ দিনেই এর ডিম ফুটানো যায়।  এছাড়া বর্তমানে দেশীয় মুরগির মাধ্যমে টার্কির ডিম ফোটানোর ব্যবস্থা রয়েছে।  জানা যায়, দেশীয় মুরগি বা হাঁসের সাথেও এই টার্কি পাখি অনায়াসে পালন করা যায়। 

উদ্যোক্তা এমদাদুল হাসান খান জানান, পোল্ট্রি ফার্ম ও নানা ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করলেও স্বচ্ছলতা আসেনি।  প্রায় ৮ মাস আগে পাশের গ্রাম থেকে একজোড়া টার্কি মুরগি কিনে আনেন।  সেই টার্কিই ভাগ্য বদলে দিয়েছে এমদাদুলের। তিনি বলেন, প্রতি মাসে ডিম ও টার্কি মুরগি বিক্রয় করে ভালোই আয় হয়।  এ মুরগির সাধারণ মুরগির মতো রোগ বালাই হলেও বড় ধরনের কোনো অসুখ এখন পর্যন্ত হয়নি। 

ময়মনসিংহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা   শরাফত জামান জানান, টার্কি আমাদের প্রাণিসম্পদ; একটি নতুন প্রজাতি। ময়মনসিংহের বিভিন্ন  অঞ্চলে টার্কি পালন করা হচ্ছে অনেক দিন ধরে।  টার্কি পালন একটি লাভজনক ব্যবসা।  এ কারণে খামারিরা এ ব্যবসার প্রতি ঝুঁকছেন।  প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে সকল টার্কি খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে।