১১:১৩ এএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

ঠাকুরগাঁওয়ে ধান বীজ সংকট দিশেহারা কৃষক

০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ০২:১৭ পিএম | মুন্না


মজিবর রহমান শেখ,  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : চলতি বোরো মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে ধান বীজের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।  হাট-বাজারে বীজ পাওয়া গেলেও তা ভেজাল ও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।  বিএডিসি বীজ বিক্রয় কেন্দ্রে বীজের জন্য কৃষকরা ধরনা দিয়েও বীজ পাচ্ছে না।  মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই বিএডিসি থেকে বীজ হাতিয়ে নিয়েছে মুনাফাখোর ব্যবসায়ী ও ডিলার’রা। 

গত বোরো মৌসুমে ২৮ জাতের ধান আবাদে এ জেলার চাষীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।  কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা জানায় ওই বছর ব্লাস্টরোগের আক্রমন ও প্রাকৃতিক দূর্যোগে হাজার-হাজার বিঘা জমির ধানক্ষেত বিনষ্ট হয়।  তাই এবার ২৮ জাতের ধান চাষে কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।  ওই জাতের বদলে এবার ২৯-জাতের ধানচাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে কৃষক। 

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিএডিসির ডিলাররা অক্টোবরেই ২৮ ও ২৯ জাতের বীজ হাতিয়ে নিয়েছে।  সরকারি খুচরা দর অনুযায়ি ১০কেজি ওজনের এক ব্যাগ ধানবীজ ৫শ টাকা।  কিন্তু সুযোগ বুঝে ডিলার ও ব্যবসায়ীরা প্রতি ব্যাগ বিক্রি করছে ৫৩০টাকা থেকে ৬শ টাকা দরে ।  অথচ এক ব্যাগ ধান বীজ বিএডিসি থেকে ডিলাররা কিনছে ৪৩৯টাকা দরে। 

গত সোমবার সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের লস্করা গ্রামের আবুল কাশেম স্থানীয় বিএডিসির বীজ বিক্রয় কেন্দ্রে এসে বীজ না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফেরেন।  তার অভিযোগ ডিলার ও ব্যবসায়ীদের বিএডিসি বীজ দিচ্ছে।  কিন্তু আমরা (কৃষক) বীজ পাচ্ছি না।  একই অভিযোগ পাশের এলাকার ভূল্লীর আবুল ফজলের। 

তিনি জানান এলাকার হাট-বাজারে বিএডিসির ২৯ জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে ৬’শ থেকে ৬৩০ টাকা দরে।  তবে ২৮ জাতের ধানের বীজ বিক্রি হচ্ছে ৫শ থেকে ৫১০ টাকা দরে।  ভূল্লী বাজারের ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন বলেন ডিলারদের কাছে তাদের বেশী দাম দিয়ে বীজ কিনতে হচ্ছে।  তাই ২০-৩০ টাকা লাভ রেখে তিনি বীজ বিক্রি করছেন।  একই কথা বলেন রুহিয়া রামনাথ হাটের ব্যবসায়ী জিয়াউল ইসলাম। 

বিএডিসির বীজ ও সার ডিলার নেতা এনামুল হক বলেন হাওর অঞ্চলে ফসল হানী ও উত্তর জনপদে বোরো ধান ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়ায় কাঙ্খিত ফলন হয়নি।  একারণে বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি।  এছাড়া কৃষকরা এবার ২৯ জাতের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে।  অনুসন্ধানে জানা যায় অধিক মুনাফার লোভে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও ডিলার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চড়া দামে ধানবীজ বিক্রি করছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।  জেলা শহর ও উপজেলার বিভিন্ন মুদির দোকান ও মোবাইল ফোন দোকানে ধান বীজ বিক্রি হচ্ছে, সুযোগ বুঝে ১০ কেজি ওজনের প্রতি ব্যাগ ২৯ জাতের ৭শ টাকা পর্যন্ত। 

বিএডিসি সুত্রে জানা গেছে এ জেলায় ২৯-জাতের ধান বীজের ১৬৫ মে.টন ও ২৮ জাতের ৩৫০ মে.টন বরাদ্দ মিলেছে।  অন্যদিকে কৃষি বিভাগ জানায় এজেলার ৬০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমি আবাদের জন্য হাইব্রিড ১৮২ মে.টন ও উচ্চ ফলনশীল ১হাজার ৪৪৭ মে.টন বীজ দরকার।  তবে কৃষি বিভাগ দাবি করেছে এ জেলায় বীজের সংকট নেই।  বিএডিসি ছাড়াও চাষী ও বিভিন্ন বীজ উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের কাছে বীজ মজুত রয়েছে। 

ঠাকুরগাঁও বিএডিসি মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র সহকারি পরিচালক শাহানা পারভীন বলেন ২৯ জাতের বীজের এবার সরবরাহ কম।  তবে তিনি বলেন ১০ কেজি ওজনের প্রতি ব্যাগ বীজ ৫শ টাকার বেশী বিক্রি করতে পারবেনা কোন ডিলার বা ব্যবসায়ী। 

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কে.এম মাউদুদুল ইসলাম বলেন, আরো অতিরিক্ত ৫০মেট্রিক টন ধান বীজ বরাদ্দের জন্য বিএডিসিকে চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে ।  অধিক দামে কোন ডিলার বীজ বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।