৮:৪২ এএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৮ শা'বান ১৪৩৯

South Asian College

ডিজিটাল ভোটিং মেশিন (ডিভিএম) পদ্ধতি

২১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:৪২ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : ডিজিটাল ভোটিং মেশিনে (ডিভিএম) মূলত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)।  আমাদের দেশে প্রচলিত ইভিএম পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা কাটাতে নির্বাচন কমিশন গত বছর একটি বিশেষায়িত কমিটি গঠন করে।  আর এই কমিটির মূল্যায়নের ভিত্তিতে ইভিএমের যে উন্নয়ন করা হয়েছে, সেটাইকে বলা হচ্ছে ডিভিএম।   

আজ বৃহস্পতিবার রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে একটি ভোট কেন্দ্রে ডিজিটাল ভোটিং মেশিনে (ডিভিএম) ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে।  ডিভিএমের মাধ্যমে কীভাবে ভোট দিতে হয় গত এক সপ্তাহ সে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।  নগরীর (২৫নং ওয়ার্ডের) শালবন এলাকার ১৪১ নম্বর ভোটকেন্দ্র সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজে এ ডিজিটাল ভোটিং মেশিনে ভোটগ্রহণ চলছে। 

রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, ইভিএম পদ্ধতিতে শুধু একটি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হচ্ছে।  নতুন এ পদ্ধতিতে ভোটাররা যাতে কোনো সমস্যায় না পড়েন, সে জন্য ভোটারদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। 

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০১৬ সালে কাজী রকিবউদ্দীন কমিশন আগের প্রযুক্তিটি বাদ দিয়ে নতুন প্রযুক্তির একটি ভোটিং মেশিন তৈরি করে, যার নাম দেয়া হয় ডিজিটাল ভোটিং মেশিন (ডিভিএম)। 

বলা হচ্ছে ডিভিএমের নিরাপত্তাকবচ হিসেবে থাকবে ভোটারের ফিঙ্গার প্রিন্টের সন্নিবেশ।  ভোটারের ফিঙ্গার প্রিন্ট ম্যাচ করলে ভোটিং মেশিন চালু হবে; না করলে হবে না।  আবার একজন ভোটারের ভোট দেয়া সম্পন্ন হলে আপনা-আপনিই মেশিন লক হয়ে যাবে।  ভোটার চাইলেও তার ফিঙ্গার প্রিন্টে দ্বিতীয় বার ভোটিং মেশিন খুলবে না।  এভাবে কোনো ভোটারের একাধিক ভোট দেয়ার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করা হবে। 

এ ভোটিং মেশিন পরিকল্পনা ও সুপারিশ প্রণয়নে ইসির অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি করা হয় যার উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী।  ওই কমিটিতে আরও আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপকবৃন্দ, আইসিটি ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, কম্পিউটার কাউন্সিলের কর্মকর্তাবৃন্দ। 

ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৯ সালের নির্বাচন ডিজিটাল ভোটিং যন্ত্রে অনুষ্ঠিত হবে।  তবে এই পদ্ধতি নিয়ে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপির অবস্থান দুই দিকে।  আওয়ামী লীগ ই-ভোটিংয়ের পক্ষে থাকলেও বিএনপি এটিকে দেখছে কারচুপির যন্ত্র হিসেবে। 

ডিভিএম পদ্ধতিতে কী কী সুবিধা জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কমিটির একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ইভিএমে যে কেউ যে কারো ভোট দিতে পারতেন।  ধরার উপায় ছিল না।  কিন্তু ডিভিএমে সেই সুযোগ থাকবে না।  এখানে বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) পদ্ধতিতে ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।  প্রথমে একজন ভোটার ওই যন্ত্রে আঙুলের ছাপ দেবেন।  জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ডেটাবেইসের সঙ্গে ভোটারের আঙুলের ছাপ মিলিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।  আঙুলের ছাপ মিললে ভোটার ভোট দিতে পারবেন।  ওই ভোটার একটি ভোট দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যন্ত্রটি বন্ধ (লক) হয়ে যাবে। 

এরপর ওই ভোটার আর কোনোভাবেই আরেকটি ভোট দিতে পারবেন না।  তা ছাড়া ডিভিএমে স্মার্ট কার্ড প্রবেশ করিয়েও ভোটারের পরিচয় শনাক্ত করার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।  নির্ধারিত ভোটার ভোটকেন্দ্রে না গেলে বা কেন্দ্র দখল করে কোনো ভোটারের ভোট অন্য কারো পক্ষে দেয়ার সুযোগ থাকবে না।  ভোট গ্রহণের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে বা বাক্সে ফেলার কোনো উপায় থাকবে নাএ ছাড়া আরেকটি সুবিধা হলো, আগের প্রস্তাবিত ইভিএম মেশিনের কারিগরি ত্রুটির কারণে ভোটের তথ্য মুছে যেত। 

কিন্তু ডিভিএমে এই সুযোগ থাকছে না।  এখানে মেশিনের কারিগরি ত্রুটি হলেও এর সর্বশেষ তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।  নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, এটা হবে অনেকটা উড়োজাহাজের ‘ব্ল্যাকবক্সের মতো।  মেশিনের যত সমস্যাই হোক, সব তথ্য এখানে সংরক্ষণ করা হবে।  মেশিন বিদ্যুতে চলবে।  তবে ব্যাকআপ হিসেবে ব্যাটারিও থাকবে।  যেসব স্থানে বিদ্যুৎ নেই, সেখানে ব্যাটারিতে চলবে।