৯:৪০ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার | | ৮ মুহররম ১৪৪০


ডলারের দাম বেড়েই চলেছে

২১ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৩২ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনের ক্ষেত্রে বেড়েই চলেছে ডলারের দাম।  ডলারের দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

মুদ্রা বাজার এখনও নিয়ন্ত্রণে দাবি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, শিগগিরই স্থিতিশীল হয়ে আসবে ডলারের দাম।  যদিও সে সম্ভাবনা দেখছে না রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক।  এদিকে, ডলারের দাম বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। 

চলতি বছরের শুরু থেকেই বাড়ছে ডলারের দাম।  সোনালী ব্যাংকের তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, ১ জানুয়ারিতে প্রতি ডলারের মূল্য ছিল ৭৮ টাকা ৫০ পয়সা।  আর সর্বশেষ গেল সোমবার আমদানি ব্যয়ে প্রতি ডলারের মূল্য ওঠে ৮২ টাকা ০৫ পয়সায়।  অর্থাৎ সাড়ে দশ মাসে ডলারের দাম বেড়েছে ৩ টাকা ৫৫ পয়সা। 

ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য কমে যাওয়ার এই পরিমাণ খুব বেশি না হলেও, আলোচনার কেন্দ্রে ডলারের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা।  এর কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, রপ্তানি ও প্রবাস আয়ের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে গেছে আমদানি ব্যয়। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে পণ্য আমদানিতে এলসি খোলা হয়েছে ১ হাজার ৯২০ কোটি ডলারের।  যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৭ শতাংশ বেশি।  একই সময়ে এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে ২৪ শতাংশ।  এসময়ের মধ্যে রপ্তানি আয় যোগ হয়েছে ১ হাজার ৭৫ কোটি ডলার।  আর রেমিট্যান্স এসেছে ৪৫৫ কোটি ডলার। 

তবে, রপ্তানি ও প্রবাস আয়ের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে শিগগিরই ডলারের দাম স্থিতিশীল হয়ে আসবে বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দর একটু বেশির দিকে ঝোঁক আছে।  এর মূল কারণ আমরা যেটা দেখেছি তাহলো, ইমপোর্ট পেমেন্ট কিছু বেড়েছে।  আমরা সমন্বয় করার চেষ্টা করছি।  আশা করি, এই অবস্থা দ্রুতই দূর হয়ে যাবে। 

যদিও, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আর গেল বন্যার বাস্তবতায় চাল আমদানিতে এলসি খোলার পরিমাণ বাড়তে থাকায় ডলারের দাম স্থিতিশীল কিংবা কমার সম্ভাবনা দেখছে না সোনালী ব্যাংক। 

সোনালী ব্যাংকের ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এমডি-১ তারিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, 'ঊর্ধমুখীতা অবশ্যই থাকবে।  আমি আমার ব্যাংকের কথা বলতে পারি।  আমদানির তুলনায় রপ্তানি খুবই কম এবং রেমিটেন্সও অনেক কম।  সেজন্য আমার ডলারের চাহিদা বেশি। 

রপ্তানিকারকদেরও দাবি, প্রতিযোগিতায় টিকতে বাড়াতে হবে ডলার দাম।  একই মত, অর্থনীতিবিদদেরও।  তবে, যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে মূল্যস্ফীতি। 

বিজিএমইএ'র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাসির বলেন, এক টাকা দুই টাকা করেও যদি বাড়ে তাহলেও এই শিল্পের মধ্যে যে ক্রান্তিকাল চলছে সেটা কিন্তু অনেকাংশে লাঘব হবে।  কিন্তু আপনি যেটা পাচ্ছেন সেটা কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বৃদ্ধি না। 

এদিকে, বছর জুড়েই মানি একচেঞ্জগুলোতে ডলার বেচা-কেনা হয়েছে ৮২ থেকে ৮৩ টাকায়।