৬:০৫ পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ২ রবিউস সানি ১৪৪০




ডায়াবেটিসে বছরে ২১ লাখ নারীর মৃত্যু

১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১০:৪৯ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : প্রতি বছর ২ দশমিক ১ মিলিয়ন বা ২১ লাখ নারী শুধু ডায়াবেটিসের কারণে মৃত্যুবরণ করে। 

যেসব নারী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় ১০ গুণ বেশি।  বর্তমানে পৃথিবীতে মোট ডায়াবেটিস রোগীর কমপক্ষে ১৬ দশমিক ২ শতাংশ শুধু গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।  দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এ হার মোট ডায়াবেটিস রোগীর ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ।  ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে তথ্য প্রকাশ করেছে। 

আইডিএফ প্রতি বছর ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালন করে।  এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘নারী ও ডায়াবেটিস : স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ আমাদের অধিকার’।  পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। 

প্রতি পাঁচজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত নারী প্রজনন সময়কালের মধ্যে আছেন, যা প্রায় ৬০ মিলিয়ন।  আর যাদের টাইপ-১ ডায়াবেটিস আছে তাদের গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।  প্রতি সাতটি প্রসবের মধ্যে একজন মা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।  এর অর্ধেকেরই বেশি ৩০ বছরের কম বয়সী প্রসূতিদের ক্ষেত্রে ঘটে।  যাদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস আছে পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে এদের অর্ধেকেরও বেশি টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন।  অধিকাংশ গর্ভকালীন ডায়াবেটিস আক্রান্ত নারীর বসবাস অনুন্নত দেশগুলোতে।   জানা যায়, ২০১৬ সালে বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নারীর সংখ্যা ছিল ১৯৯ মিলিয়ন।  ২০৪০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়াবে ৩১৩ মিলিয়নে। 

অন্যান্য অসংক্রামক রোগের সঙ্গে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসকে বিবেচনায় না আনার পরামর্শ আইডিএফের।  সংস্থাটির মতে, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস গর্ভবতীকে আক্রান্ত করলেও, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করছে গর্ভস্থ শিশুর।  অর্থাৎ সরাসরি রোগটি সংক্রামক না হলেও এর সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে পরবর্তী প্রজন্মের ওপর।  এক্ষেত্রে এসব শিশুর ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস (টাইপ-২) হওয়ার আশঙ্কা তার সমসাময়িকদের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নারীর পর্যাপ্ত অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সুনিশ্চিত করতে হবে।  এর মধ্যে চিকিৎসা উপাদান (ওষুধপত্র, যন্ত্রপাতি) ডায়াবেটিস চিকিৎসা বিষয়ক শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ফলোআপ ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।  ডায়াবেটিস প্রতিরোধ নীতিমালা ও পরিকল্পনায় নারীদের সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি এবং প্রাক-গর্ভকালীন ও গর্ভকালীন এবং নবজাতকের ও শৈশবকালীন পুষ্টিকে প্রাধান্য দিতে হবে।  নারীদের গর্ভকালীন দ্রুত ডায়াবেটিস স্ক্রিনিং, ডায়াবেটিস সংক্রান্ত শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা বিশেষ গুরুত্বসহকারে নিশ্চিত করতে হবে। 

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহাজাদা সেলিম বলেন, যারা ডায়াবেটিস নিয়ে সন্তানধারণ করতে চান, তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে।  যাতে গর্ভধারণের আগে থেকেই গর্ভধারণ ও গর্ভকালীন সময়ের জন্য উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুল না হয়।  কন্যাশিশু ও নারীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় কায়িক শ্রমের বিষয়ে উৎসাহ দিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।  যেহেতু নারী ও কন্যাশিশুরাই ভবিষ্যৎ জাতি গঠনে মুখ্য ভূমিকা রাখবে তাই তাদের সুস্বাস্থ্য, স্বাভাবিক নিরোগ শারীরিক কাঠামো তৈরিতে উদ্যোগী হতে হবে।  বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।  কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, বিনামূল্যে ডায়াবেটিস স্কিনিং ইত্যাদি। 



keya