৪:২২ এএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০


ঢাকার পাশে এমন ১০ টি দর্শনীয় স্থান

২২ জুলাই ২০১৮, ১০:২৮ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম :  বাংলাদেশের এমন কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে বাঙালিদের অনেকেই জানেন না।  যদিও পুরো বাংলাদেশটাই রূপ বৈচিত্র্যে ভরা। 

তারপরও নতুন এসব দর্শনীয় স্থান পর্যটক টানছে।  মন চাইলে এসব জায়গা থেকে ঘুরে আসতে পারেন।  জেনে নিন ঢাকার পাশে এমন ১০ টি দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে। 

পদ্মারিসোর্ট
ঢাকা থেকে ৪০ কি.মি. দূরে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং নামক স্থানে পদ্মা নদীতে চড়ের উপর এই রিসোর্টটি অবস্থিত।  পদ্মা নদীর পারে অবস্থিত বলেও জায়গাটি অতি মনোরম আর সুন্দর।  বর্ষা ঋতুর সময় গেলে আপনার বেশি ভালো লাগবে। 

যেভাবে যাবেন
ঢাকার গুলিস্তান, সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী থেকে এই রুটে বিভিন্ন পরিবহনের অসংখ্য বাস প্রতি ১০/১৫ মিনিট পর পর চলাচল করে।  গুলিস্তান সুন্দরবন স্কোয়ার মার্কেটের পূর্ব পাশ এবং যাত্রাবাড়ী গোলচত্ত্বরের পূর্ব-দক্ষিণ দিক থেকে ঢাকা-মাওয়া ও ঢাকা-লোহজং এর বাস ছেড়ে যায়।  ঢাকা থেকে সড়কপথে এই জেলার ভাড়া ৬০ টাকা।  মাওয়া ফেরিঘাট থেকে রিসোর্টে যাওয়ার জন্য রিসোর্টের নিজস্ব স্পিডবোট রয়েছে। 

বেলাই বিল
গাজীপুরের বেলাইবিল মনোরম একটি জায়গা।  চেলাই নদীর সাথেই বেলাই বিল।  এখানে ইঞ্জিনচালিত আর ডিঙ্গি নৌকা দুটোই পাওয়া যায়।  যেটাতে ভালো লাগে উঠে পড়ুন।  সারাদিনের জন্য ভাড়া করে নিতে পারেন এবং ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিলে নিজেরাই চালিয়ে ঘুরতে পারেন। 

বিকেলে এই বিলের চারপাশে অপূর্ব দৃশ্য তৈরি হয়, সঙ্গে শাপলার ছড়াছড়ি।  শুধু চারিদিক তাকিয়ে থাকবেন।  আবার কিছুক্ষণ পরপরই বাতাসের ঝাপটা লাগবে গায়ে।  বেশি সময় নিয়ে গেলে অবশ্যই খাবার নিয়ে যাবেন। 

যেভাবে যাবেন
গাজীপুর সদর পর্যন্ত যাওয়ার পর, সেখান নেমে টেম্পুতে কানাইয়া বাজার যাবেন।  ভাড়া নিবে ১০ টাকা করে।  রিকশাতেও যেতে পারেন।  কানাইয়া বাজারে নেমেই সামনে ব্রিজ আছে, ব্রিজ পার হয়েই নদীতে বাধা নৌকা ঠিক করে উঠে পড়ুন। 

আড়াইহাজার মেঘনার চর
ঢাকার কাছে আড়াইহাজার চর এলাকা  অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে খুব অল্প সময়ে।  বিস্তীর্ণ এলাকায় এরকম মনোরম পরিবেশ আর কোথাও নেই শহরের আশেপাশে। 

সারাদিনের জন্য ঘুরতে আসতে পারেন এখানে।  নদীর তীরে ট্রলারে সন্ধ্যার সময়টা কাটাতে পারেন।  ঢাকার কাছে মেঘনা নদীর মাঝখানে এই বিশাল বালির চর।  তার মধ্যে অর্ধেকের বেশিই কাশবন।  এখানেবালি অনেক শক্ত তাই কোন চোরাবালির ভয় নেই।  ভাটার সময় এখানে ঘুরতে যাওয়া বেশি সুবিধার। ৎ

এ সময় ১০-১৫ ফিট বালির চর থাকে।  দেখতে পারবেন কাশবন, খোলা আকাশে পাখির মেলা আর মাঝে মাঝে ট্রলার আর জাহাজের শব্দ। 

যেভাবে যাবেন
প্রথমে গুলিস্তান থেকে দোয়েল বাসে স্বদেশ পরিবহন এ মদনপুর যাবেন।  ভাড়া নিবে ৪৫ টাকা।  সেখানে নেমে আড়াইহাজার এর জন্য সিএনজি নেবেন।  ভাড়া নিবে ৫০ টাকা।  মদনপুর নামার পর আশেপাশে অনেক দোকানপাট বা হোটেলে খেয়ে নিতে পারেন।  যাতায়াত, খাওয়া-দাওয়া এবং ট্রলারের খরচ মিলিয়ে মোটামোটি ৩/৪ জনের জন্য ৭০০-১০০০ টাকা খরচ হতে পারে। 

জল জংগলের কাব্য
গাজিপুর জেলার টংগীর পুবাইলে অবস্থিত জল জংগলের কাব্য রিসোর্ট।  প্রাকৃতিক এক ভূমিকে অবিকৃত রেখে আরো প্রাকৃতিক করা হয়েছে ডিজাইনারের নিপুণ ছোঁয়ায়।  জোছনা দেখতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন এখান থেকে।  বিলের ওপর জোছনার আলো এক অন্য রকম অনুভূতি দিবে আপনাকে।  অল্প খরচে সারাদিনের ঘুরে আসার জন্য এর চেয়ে ভাল জায়গা হবে না। 

মেঘনা ভিলেজ
মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলায়, মেঘনা নদীর কাছে মেঘনা ব্রিজ হতে ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মেঘনা ভিলেজ।  সারাদিনের জন্য পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে খুব সহজে ই ঘুরে আসতে পারেন এখান থেকে।  আপনি চাইলে রিসোর্ট ভাড়া করে থাকতে পারেন।  সেখানে রয়েছে এসি-ননএসি উভয় প্রকার কটেজ। 

এখানকার কটেজগুলো একটু ভিন্ন ভাবে তৈরি হয়েছে যা দেখতে অনেকটা নেপালি কটেজের মত।  আছে খেলাধুলার সুব্যবস্থা।  এমন কি নৌকা ভ্রমণ করতে চাইলে তারও ব্যবস্থা আছে।  এখানকারর খাবারে ঘরোয়া স্বাদ পাবেন।  আপনি চাইলে শুধু এক দিনের জন্যও কটেজ ভাড়া করতে পারেন।  আবার দিনে দিনে গিয়েও ফেরত চলে আসতে পারেন। 

নুহাশপল্লী
হুমায়ূন আহমেদকে সবাই চেনেন, তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৪০ বিঘা জায়গা নিয়ে তৈরি করেছেন ‘নুহাশ পল্লী’।  নুহাশপল্লী গাজীপুরে অবস্থিত একটি বাগানবাড়ী, নুহাশ চলচিত্রের শুটিং স্পট ও পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র।  নুহাশপল্লীতে ঢুকে মাঠ দিয়ে একটু সামনে এগিয়ে গেলে হাতের বামপাশে শেফালি গাছের ছায়ায় নামাজের ঘর।  এরপাশেই পুরনো লিচু বাগানের উত্তর পাশে জাম বাগান আর দক্ষিণে আম বাগান।  ওই লিচু বাগানের ছায়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। 

নুহাশ পল্লীর পুরো জায়গাটি সবুজ গাছপালা দিয়ে আবৃত।  দেখলেই মন জুরিয়ে যাবে।  এখানে অনেক প্রজাতির এবং অনেক রকমের গাছ রয়েছে।  গাছের গায়ে সেটে দেয়া পরিচিতি ফলক রয়েছে।  আরও রয়েছে সুইমিংপুল আর ছোট্ট পুকুর।  মাঠের মাঝখানে একটি গাছের উপর ঘর তৈরি করা আছে, যা আবাক করবে আপনাকে! হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত প্রায় অনেক নাটক সিনেমার অন্যতম শুটিংস্পট এটি। 

তাই যারা হুমায়ূন আহমেদ স্যারের ভক্ত আছেন তারা অবশ্যই এই জায়গায় ঘুরে আসুন। 

যেভাবে যাবেন
প্রথমে গুলিস্তান থেকে প্রভাতী-বনশ্রী বাসে হোতা পাড়াবাজারে নেমে সেখান থেকে ছোট টেম্পুতে করে পৌঁছে যাবেন নুহাশ পল্লী।  এছাড়া নিজস্ব গাড়ি বা মাইক্রো ভাড়া করে যেতে পারেন।  এপ্রিল থেকে নভেম্বর নুহাশপল্লী দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। 

১২ বছরের উপরে জন প্রতি টিকেট লাগবে ২০০ টাকা। 

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক
বিস্তৃত শালবনের ভেতর প্রাচীর দিয়ে তৈরি এই পার্ক।  ভেতরে আছে সরু পিচঢালা সড়ক।  দু’দিকে নানা প্রজাতির গাছ দিয়ে বিস্তৃত।  থাইল্যান্ডের সাফারি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এশিয়ার সর্ববৃহত্তম বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক বাংলাদেশের গাজীপুরে নির্মিত হয়েছে ।  ২ ইঞ্চি কাচের দেয়াল দিয়ে ঘেরা আছে হিংস্র বন্য পশুদের জায়গা।  তাই আপনি তাদের কাছ থেকে দেখতে পারলেও ভয়ের কোন কারণ নেই।  তাছাড়া খুব সুন্দর ব্যবস্থায় তৈরি করা হয়েছে এটি। 

পার্ক সমন্ধে যেকোনো তথ্য জানার জন্য এখানে  প্রথমেই রয়েছে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও শিক্ষা কেন্দ্র।  কোর সাফারি পার্কে বন্য প্রাণীরা স্বাধীনভাবে বিচরণ করে।  পার্কের গাড়িতে চড়ে ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পারেন বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক, আফ্রিকান চিতা, চিত্রা হরিণ,জলহস্থি, নীল গাই, এবং আরও অনেক বিদেশি বন্য পশুও। 

তবে এখানে ঢুকতে ২০০ টাকা দিয়ে জন প্রতি টিকিট কাটতে হয়।  সাফারি কিংডমে রয়েছে প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র, জিরাফ ফিডিং স্পট ও পেলিকেন আইল্যান্ড।  মজার বিষয় হলো এখানে বিশাল জায়গা নিয়ে পাখিদের রাখা হয়েছে।  পাখির খাঁচার কাছে যেতেই আপনার মন আনন্দে ভরে উঠবে।  নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখি এখানে আছে। 

খাওয়া-দাওয়ার জন্য আছে টাইগার ও লায়ন রেস্টুরেন্ট।  ওয়াচ টাওয়ার থেকে আপনি দেখতে পাবেন সমগ্র সাফারি পার্কের মনোরম দৃশ্য।  দেখতে পাবেন পার্কের ভিতর বিচরণরত বন্যপ্রাণী। 

এশীয় তৃণভোজী এবং ছোট মাংসাশী প্রাণী, পাখি সরিসৃপ ও উভয়চর প্রাণী নিয়ে এক্সটেনসিভ এশিয়া সাফারি প্রতিষ্ঠিত। এ ছাড়া তৈরি করা হয়েছে হাতির আশ্রম।  বন্য পশুপাখির জলের চাহিদা পূরণ করার জন্য আছে আটটি জলধারা ও দুটি কৃত্রিম হ্রদ।  এ ছাড়াও সাফারি পার্কে আছে বাটারফ্লাই পার্ক,বায়ো-ডাইভারসিটি পার্ক,স্নেক পার্কে ক্রোকোডাইল ও লিজার্ড পার্ক।  সাফারি পার্কে হাতির পিঠে উঠার ব্যবস্থাও আছে। 

যেভাবে যাবেন
গাজীপুরে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত বাঘের বাজার।  সেখান থেকে আরও সামনে কিছু দূর থেকে দেখা যাবে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের গেইট।  সেটি পার করে দেখতে পারবেন বাঘ, সিংহ, বাজ পাখি বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর ভাস্কর্য। 

উয়ারী-বটেশ্বর
ইতিহাস আপানার পছন্দ! আগ্রহ আছে প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয়ে তবে ঘুরে আসতে পারেন উয়ারী-বটেশ্বর থেকে।  নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবিস্থত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম।  এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ।  অসম রাজার গড় নামে এটি সমাধিক পরিচিত। 

এখানে প্রায় তিন হাজার পূর্বের প্রাচীন শিলালিপি মূদ্রাসহ সভ্যতার অনেক নিদর্শন পাওয়া গেছে।  এখানে পর্যটকদের জন্য রেষ্ট হাউজ রয়েছে।  এখানে প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে তাম্র প্রসার যুগ, আদি-ঐতিহাসিক যুগ, প্রাক মধ্যযুগের সভ্যতার নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায়।  মাটির একটি ঘরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি হয়েছে একটি প্রত্নসংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার।  আর এইসংগ্রহশালায় রক্ষিত আছে খ্রীষ্টপূর্বসময়ের মূল্যবান কিছু প্রত্নতাত্ত্বিকনিদর্শন। 

জল জংগলের কাব্য
গাজিপুর জেলার টংগীর পুবাইলে অবস্থিত জল জংগলের কাব্য রিসোর্ট।  প্রাকৃতিক এক ভূমিকে অবিকৃত রেখে আরো প্রাকৃতিক করা হয়েছে ডিজাইনারের নিপুণ ছোঁয়ায়।  জোছনা দেখতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন এখান থেকে।  বিলের ওপর জোছনার আলো এক অন্য রকম অনুভূতি দিবে আপনাকে।  অল্প খরচে সারাদিনের ঘুরে আসার জন্য এর চেয়ে ভাল জায়গা হবে না। 

গোলাপ গ্রাম
ছোট ছোট দ্বীপ সবুজে ঢাকা।  চারপাশে নীলাভ জলের ঢেউ।  পানকৌড়ির ডুব সাঁতার, বকের একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকা।  ছোট ছোট নৌকায় মাছ ধরার দৃশ্য আপনাকে নিয়ে যাবে নৈসর্গিক এক ভুবনে।  নদীর চারপাশে সবুজে ঢাকা গ্রামগুলো দেখতে মনে হবে ছবির মতো।  যেতে পারেন নদীর ওপারে গ্রামে। 

বড় বটবৃক্ষের নিচে ছোট ছোট দোকান, নদীর মাছ বিক্রি করা, মিষ্টির দোকান, গ্রাম্য খাবারের হোটেল, পাশেই শাক-সবজির মাচা।  তার পাশেই বিস্তীর্ণ গোলাপের বাগান।  কিভাবে গোলাপের চাষ করা হয় তা নিজ চোখে দেখতে পাবেন।  গোলাপের চারা তৈরি, গোলাপ খেত পরিচর্যা, গোলাপ তোলা দেখতে দেখতে আপনার মন হারিয়ে যাবে ফুলের রাজ্যে। 

যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে যেতে হলে মিরপুর মাজার রোড হয়ে বেড়িবাঁধ সড়কে যাবেন।  এ ক্ষেত্রে মিরপুর-১ থেকে বাস, টেম্পো, অটোরিকশা বা রিকশায় চড়তে হবে।  বেড়িবাঁধ তুরাগের তীর তথা শিন্নিরটেক ঘাট থেকে ট্রলারে উঠতে হবে।  এই জলযান আপনাকে সাদুল্যাপুর ঘাটে নিয়ে যাবে।  তবে শুকনো মৌসুমে নদী পার হয়ে বেশ খানিকটা পথ হাঁটতে হবে। 


keya