৮:০২ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

তুমি শুধুই তুমি

০১ অক্টোবর ২০১৭, ০৮:১১ এএম | নিশি


এসএনএন২৪.কম : সম্পর্কের শুরুর গল্পটা একেকজনের জীবনে একেক রকম হলেও অনুভূতিটা প্রায় কাছাকাছিই।  রোদ ভাল লাগে, চাঁদ ভাল লাগে।  অকারণ হাসতে ভাল লাগে।  কিছুদিন আগেও যে বৃষ্টিটাকে হতচ্ছাড়া মনে হতো, এখন তার তরে ভীষণ অপেক্ষা! কালকের “আমি” আর “তুমি” মিলে আজকের “আমরা”।  এই আমরা হয়ে উঠার গল্পটাই সব, এই “আমরা” হয়ে থাকার গল্পটাই যেন এক রহস্য!

সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে লেখার বা বলার আসলে কিছু নেই।  দুইজন মানুষ একসাথে থাকতে গেলে খুনসুটি, মান-অভিমান, রাগ-ক্ষোভ, ভালবাসা থাকবেই। 

তবে আসল ব্যাপারটা ঘটে তখনই যখন সেই সুর-তাল-লয় কেটে যায়, যখন সম্পর্কটা আর না টেকে।  হয়তো বাস্তবিক কারণে দুজনের মাঝে আপোষ হতে পারে, যে যার রাস্তা বেছে নিতে পারে।  কিন্তু যখন খুব ছোট একটি ভুলের জন্য, অথবা হঠাৎ একদিন মনে হলো, ‘হচ্ছে না আর তার সাথে’, কিংবা কখনো কখনো পরিবারের দোহাই দিয়ে, অথবা নতুন কোনো সম্পর্কের স্বাদ পেয়ে যখন সম্পর্কটা শেষ হয়ে যায়, ঠিক তারপরেই শুরু হয় আসল গল্পটা!

সম্পর্কে থাকা দুইজন মানুষের একজন অতি অবশ্যই তার সম্পূর্ণ পৃথিবীটাকে ঐ একজন মানুষের মাঝে কেন্দ্রীভূত করে ফেলে।  তার ভালো লাগা, খারাপ লাগা, পছন্দ-অপছন্দ সব কিছুই সে তার নিজের করে ফেলে।  আদুরী-আহ্লাদী মেয়েটা হাত পুড়িয়ে তার ভালবাসার মানুষটার জন্য রান্না শেখে।  অমনোযোগী ছেলেটা পড়াশোনায় মন দেয় আর ভাবে, ভালো রেজাল্ট করেই সে মেয়েটার বাবার সামনে বুক ফুলিয়ে দাঁড়াবে! ঐ যে উড়নচণ্ডী মেয়েটা? সে-ও লাজুক হেসে সংসার করার স্বপ্নে বিভোর হয়।  সিগারেটের খরচ বাঁচিয়ে ছেলেটা টাকা জমায় অল্প অল্প করে! এরা নিজেরাই নিজেদের পা শেকলে বেঁধে ফেলে, আর এটাই হয়তো সবচে’ বড় ভুল হয়ে দাঁড়ায়!

ভালবাসো ঠিক আছে, তাই বলে সব কিছু ছেড়ে দিয়ে না! কেবল তাকেই শুধু তোমার পৃথিবী করে নিও না! জানি, তুমি তাকেই ভালবেসেছ, জীবনটা তাকে নিয়ে কাটাবে বলে দিন রাত তার কথা ভেবেছ, বন্ধু-পরিবার সব বিসর্জন দিয়েছ কেবল তার জন্যেই! কিন্তু তার মানে এই না, তুমি নিজেকে সস্তা প্রমানিত করে নিজের কাছেই হেরে যাবে।  এই যে ঘুমের ওষুধ খাচ্ছ, কী হচ্ছে তাতে? সে ফিরবে? বলেছে তোমাকে? ভেবেছ একবার? নিজে কতটা দুর্বল মানসিকতার হলে তুমি সস্তা কিছু বড়ির কাছে নিজেকে বিকিয়ে দিচ্ছো! গাঁজা টানছো তাকে ভোলার জন্য? মিনিটে মিনিটে সিগারেট ফুঁকছ? এত বায়বীয় তোমার আবেগ যে ধোঁয়ার সাথে উড়ে যাবে? তাহলে তো সে ঠিকই করেছে তোমাকে ছেড়ে দিয়ে! সুইসাইড করবে চিন্তা করছো? প্রস্তুতিও নেওয়া শেষ প্রায়? আরে, তুমি তো নিজেকেই ভালবাসতে পারো না, অন্যকে কী ভালোবাসবে! তুমি যে একজন নির্বোধ সাইকো, তা বুঝতে পারছো? আর হয়তো এই কারণেই, হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক এই কারনেই সে তোমাকে ছেড়ে দিয়েছে ভেবে নিও! ভালবাসা এত সস্তা না মেয়ে, ভালবাসা এত সহজ না ছেলে। 

ছেলেটা তোমাকে ছেড়ে দিয়েছে? পরিবারের দোহায় দিয়ে? তবে মনে রেখো সে তোমাকে ভালোইবাসেনি কোনো দিন।  যে তোমাকে তার পরিবারের একজনই ভাবতে পারেনি, সে এর থেকে ভাল আর কী করতে পারে? তোমাকে ছেড়েছে সুন্দরী কোনো মেয়ের জন্য? তবে বলে রাখি- বেঁচে গেছো, যা বাঁচার এখনই বেঁচে গেছো! সে যদি বিয়ের পরে ঘরে তোমাকে রেখে বাইরে ছোক ছোক করতো, কেমন লাগতো তখন তোমার? তখন কী করতে? না পারতে মরতে, না পারতে মারতে!

মেয়েটা তোমার হাত ছেড়ে অন্যের হাত ধরে চলে গেছে? পরিবারের কথায় অন্য একজনকে বিয়ে করেছে কোনো প্রতিবাদ না করেই? তবে জেনে রাখো, এই মেয়ে তোমার সাথে টাইম পাস টাইম পাস খেলা খেলেছে শুধু! তুমি তার খেলনা ছিলে কেবল।  ভালো লাগতো খেলনা হয়ে বেঁচে থাকতে? বড়লোক কিংবা তোমার থেকে হ্যান্ডসাম ছেলে দেখে চলে গেছে? জেনে রাখো বেঁচে গেছো! বিয়ের পর যদি এমন কাউকে পেতো, সে তো তখনও যেতে পারতো! তখন তোমার বিছানায় সে থেকেও তোমার বিছানা খালি পরে থাকতো! কেমন হতো তখন?
তোমাকে যে ছেড়েছে বিশ্বাস করো সে ঠকেছে।  সে ঠকবেই।  জিতেছ তুমি।  তুমি শুধু বোকার মতো এই ঘুমের ওষুধ, সিগারেট-গাঁজা খেও না।  তুমি ঘুরে দাঁড়িয়ে তার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দাও, কত বড় ভুল সে করেছে তোমাকে ছেড়ে দিয়ে।  তাকে জিততে দিও না তুমি! তুমি তার সাথে যতটা ভালো ছিলে, তার থেকে আরো খানিক বেশি ভালো নিজেকে রাখো।  নিজেকে ভালোবেসে পরিবারকে, কাছের মানুষদের, নিজের সমাজকে কিছু দাও।  তোমার আলো দেখে তার চোখ ঝলসে যাক, মানুষ তোমাকে নিয়ে গর্ব করুক, আর সে গর্বে তার মাথা নত হয়ে যাক! তবেই তো তুমি জিতে যাবে, তবেই তো তুমি বেঁচে থাকার মানে খুঁজে পাবে!

কে না জানে, বলাটা সহজ, কিন্তু করে দেখানোটা কঠিন! সহজ কাজ তো সবাই পারে, কঠিনেরে না হয় তুমিই ভালোবাসলে! কঠিন কাজটাই করে তুমি প্রমান করে দাও, তুমি আলাদা।  তুমি সব থেকে আলাদা! তোমাকে যে হারিয়েছে সে সবচেয়ে আলাদা মানুষটাকেই হারিয়েছে।  তাকে অনুতপ্ত হতে দাও।  তবেই তো তোমার ভালোবাসা জিতে যাবে!

মানুষ ভালবাসবেই।  তুমিও বেসেছো, কিন্তু তার মানে এই না যে তোমার নিজের জীবনের চেয়ে তার প্রাধান্য বেশি থাকবে।  এটা তোমার জীবন, তাই তোমার প্রাধান্যই বেশি থাকতে হবে তোমার জীবনে।  মনে রেখো, সে না, তোমার জীবনে তুমি-ই সব।  তুমি! শুধুই তুমি!


লেখক : এন এ খোকন

সহ-সম্পাদক, এসএনএন২৪.কম ।