৪:০১ এএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার | | ২৩ সফর ১৪৪১




থানায় ধর্ষণের অভিযোগ করে বিপাকে ধর্ষিতার পরিবার!

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:১৯ এএম | নকিব


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকের স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে জবরদস্তি করে ধর্ষণের চেষ্টায় বিবস্ত্র করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশী লম্পট হামিদুল ইসলামের (২২) বিরুদ্ধে। 

এবিষয়ে থানায় অভিযোগ করে এখন বিপাকে পড়েছে ওই ভিক্ষুক পরিবারটি।  থানা থেকে অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য দিচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি।    

রোববার  বিকালে উপজেলার পশ্চিম নওদাবাস (কালীবাড়ি) এলাকায় ঘটনার তদন্তে সাংবাদিক গেলে শতশত নারী-পুরুষ লম্পট হামিদুল ইসলামের কঠিন বিচার চেয়ে তার কু-কিত্তির বর্ণনা দেয়।  এর আগে (২৭ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার বিকাল ৫টায় ওই এলাকার প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক আলম শেখের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।  

লম্পট হামিদুল ইসলাম ওই এলাকার মেছের আলীর ছেলে।  মেয়েটি একই এলাকার প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক আলম শেখের মেয়ে ও স্থানীয় নওদাবাস কালীমোহন তফশীলি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী।       

থানায় করা অভিযোগ ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা ওই এলাকার প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক আলম শেখ ভিক্ষাবৃত্তি করে ও তার স্ত্রী মোহছেনা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।  

 ভিক্ষুক দম্পতি (২৭ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার তাদের স্বস্ব কাছে চলে যান।  বাড়িতে রেখে যান তার স্কুল পড়ুয়া মেয়েটিকে।  জেএসসির টেস্ট পরীক্ষা চলায় মেয়েটি বাড়ির টুকিটাকি কাজ শেষে বিকাল ৫টার দিকে ঘরে পড়ার টেবিলে বসে।  বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী মেছের আলীর ছেলে লম্পট হামিদুল ইসলাম ঘরে ঢুকে মেয়েটির মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।  মেয়েটির আত্ম চৎকারে তার মা ও বড় ভাই ছুটে এসে লম্পট হামিদুলকে আটক করে তার বাবা-মাকে খবর দেয়।  খবর পেয়ে লম্পট হামিদুলের বাবা-মা ও বোন এসে ছেলের বিচার না করে উল্টো মেয়েটিসহ তার মা ও বড় ভাইকে বেধড়ক মারধর করে তার ছেলেকে নিয়ে যায়।  এতে মেয়েটিসহ তার মা ও ভাই গুরুতর জখম হয়।   

এদিকে চিল্লাচিল্লি শুনে এলাকাবাসী ছুটে এসে  হামিদুল ইসলাম ও তার বাবা মেছের আলীর এহেন অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তারা এলাকাবাসীকে চরম অপমান করেন।  পরে এলাকাবাসী মেয়েটিসহ তার মা ও ভাইকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে দেন।  যার রেজি নং মেয়েটির মা ১১৫২৯/২৮, মেয়েটি১১৫৩০/২৯ ও ভাই হাবিবুর ১১৫৩১/৩০।  এ ঘটনায় মেয়েটির মা মোহছেনা বেগম (৪৫) বাদী হয়ে হামিদুল ইসলামসহ ৪ জনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়।  

হামিদুলসহ তার পরিবারের নামে থানায় অভিযোগ দেয়ার কারণে চরম বিপাকে পরেছে ভিক্ষুকের পরিবারটি।  থানা থেকে অভিযোগ তুলে না নিলে ভিক্ষুক পরিবারটিকে প্রাণের হুমকিসহ এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে হামিদুলের পরিবার বলে মেয়েটির মা জানান। 

এবিষয়ে লম্পট হামিদুল ইসলাম ও তার বাবা মেছের আলীর সাথে কথা বলার জন্য তার বাড়িতে গেলেও দেখা পাওয়া যায়নি।  তবে হামিদুলের মা হনুফা বেগম বলেন, এসব মিথ্যা কথা, তারা উল্টো আমার মেয়ের নামে বদনাম ছড়াচ্ছে।  

এবিষয়ে কথা হলে এলাকাবাসী সুজন (৩০), জগো (৩০), বিশাদু (২৮), হজরত আলী (৫০), খায়রুজ্জামান, ৫৫), বিলাতন নেছা (৫০), একাদশী (৩৫)সহ এলাকার শতশত নারী-পুরুষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রতিবন্ধী আলম শেখ ভিক্ষাবৃত্তি করে বলে কি তার মেয়েকে লম্পট হামিদুল ইসলাম কর্তৃক জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা করাসহ তার মা-ভাইকে মারধোরের ঘটনার যদি বিচার না হয় তাহলে প্রয়োজনে আমরা এর জন্য আন্দোলন করব।  

নওদাবাস ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নরেশ মেম্বারের সাথে কথা হলে, তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে যাতে আর বারাবাড়ি না হয় এবং এলাকায় বসে মুরুব্বিদের নিয়ে সুষ্ঠ বিচার করা যায়, সেবিষয়ে আমি দুই পক্ষের সাথে কথা বলেছি। 

হাতীবান্ধা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) উমর ফারুক বলেন, এবিষয় আমি একটি লিখিত অভিযোগ পত্র পেয়েছি।  তদন্তপুর্ব আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।