৮:৩২ এএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

থামছে না পাখি শিকার

১৩ নভেম্বর ২০১৭, ০৩:৩৬ পিএম | রাহুল


মো. আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর নাটোর প্রতিনিধি: বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী পাখি বা পরিযায়ী পাখি হত্যা অপরাধ এবং নিষিদ্ধ। 

এর জন্য কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দেওয়া হয়ে থাকে অপরাধীদের।  এরপরেও চলনবিলে খাবারের সন্ধানে ছুটে আসা নানা প্রজাতির পাখি ধরা পড়ছে শিকারীদের ফাঁদে।  আবার এসব পাখি ফেরি করে বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় হাট-বাজারে।  কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।  এর ফলে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র।  সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে চলনবিলের ঐতিহ্য।  অনুসন্ধানে দেখা গেছে,- নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলা জুরে বিস্তৃত দেশের সর্ববৃহৎ চলনবিল খ্যাত এই অঞ্চলের খাল, বিল, নালা ও জলাশয়গুলোতে থাকা বন্যার পানি কমে যেতে শুরু করেছে।  বিলে রয়েছে বোনা আমন ধান।  এ সময় মাছ ও ধান খাওয়ার লোভেই নানা প্রজাতির পরিযায়ী ও দেশীয় প্রজাতির পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে চলনবিলে আসছে।  পাখি শিকার অপরাধ জানা সত্বেও বিভিন্ন স্থানে শিকারীরা বিষটোপ, জাল ও ফাঁদ পেতে নির্বিচারে পাখি শিকার করছে। 

চলনবিলের ইতিকথা’ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে ‘নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া, বড়াইগ্রাম, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও নঁওগার আত্রাই উপজেলাকে নিয়ে গঠিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এই চলনবিল।  এক সময় মাছে সমৃদ্ধ ছিল চলনবিল।  তখন থেকেই দেশি ও পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল গড়ে ওঠে এই চলনবিলে।  মাছের লোভে শীতের শুরুতে থেকে তীরশুল, মানিকজোড়, সারস, চইহাঁস, বাটুলিয়া, বালিহাঁস পাখি খাবারের সন্ধানে দুর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসত এই চলনবিলে।  মাছ আর বোনা আমন ধান ছিল তাদের প্রধান খাদ্য। 

এ প্রসঙ্গে এলাকার প্রবীণ মানবাধিকার কর্মি অধ্যাপক আত্হার হোসেন বলেন, আশির দশক পর্যন্ত মাছ আর পাখির অভয়াশ্রম ছিল চলনবিল।  খাদ্যের সন্ধানে পাখির আনাগোনা ছিল লক্ষণীয়।  এখন তা অতীত।  কারণ অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও বাড়ি নির্মাণের কারণে চলনবিল আর আগের মতো নেই।  কমেছে মাছের উৎপাদন ও পাখির আনাগোনা।  এক শ্রেণির লোভী মানুষ চলনবিল থেকে নানা পন্থায় পাখি শিকার করে স্থানীয় হাট-বাজারে ফেরি করে বিক্রি করছেন।  রাতের শেষ প্রহর থেকে ভোর পর্যন্ত তারা পাখি শিকার করে থাকেন।  আমাদের জীববৈচিত্রকে টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  পাখি নিধন রোধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ বেশি প্রয়োজন। 
চলনবিলের প্রাণকেন্দ্র গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারের কয়েকজন পাখি বিক্রেতা বলেন, চলনবিলের সব উপজেলাতেই পাখি শিকারি রয়েছে। 

সবাই হাটে ফেরি করে বিক্রি করে না।  বেশি দামে দেশের বিভিন্ন মোকামে তারা বিক্রি করেন।  প্রতিটি বক ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, বালিহাঁস ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা এবং চাকলা পাখি প্রতি হালি বিক্রি করছেন ৩২০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায়।  তবে পরিযায়ী পাখি ওজন আকৃতি ভেদে দেড় হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।  গুরুদাসপুর বন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, লোকবলের সংকটের কারণে সবদিকে নজর দিতে পারেন না।  তাছাড়া সরকারিভাবে পরিবহন সুবিধাও নেই।  তারপরও সতর্ক রয়েছেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, পাখি শিকার জীববৈচিত্রের জন্য ক্ষতিকর।  পাখি যাতে হাট-বাজারে বিক্রি না হয় এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।