৮:১০ এএম, ২২ আগস্ট ২০১৮, বুধবার | | ১০ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


দুই দিনব্যাপী পুরস্কার বিতরণী উৎসব সমাপ্ত হলো

২০ জানুয়ারী ২০১৮, ০৭:৩২ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী উৎসবের শেষ দিনে আজ নগরীর মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে ২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২০৭৯ জন ছাত্রছাত্রীকে পুরস্কার দেওয়া হয়। 

আজ সমাপনী পর্বে অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ. জ. ম. নাছির উদ্দীন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক আলী ইমাম, কবি ও সাংবাদিক ( দৈনিক প্রথম আলো) ওমর কায়সার, দুইবার এভারেস্ট বিজয়ী একমাত্র বাংলাদেশী এম.এ মুহিত, গ্রামীণফোনের হেড অব ডিস্ট্রিবিউশন প্লানিং এন্ড সাপোর্ট কফিল উদ্দিন আহম্মেদ, ছড়াকার অরুন শীল এবং চট্টগ্রাম মহানগরের সংগঠক ও সহযোগি অধ্যাপক আলেক্স আলীম। 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তোমরা শুধুমাত্র গতানুগতিক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে একজন সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত মানুষ হবে না।  তোমাদেরকে বই পড়ার মাধ্যমে মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন একজন সম্পন্ন মানুষ হতে হবে।  এ জন্য আরো বেশি বেশি বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।  তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। 

বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী উৎসবের সমাপনী দিনে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ব্রিটিশরা যেভাবে বাঙালীদের চা খাওয়া শিখিয়েছিল, আমরা তেমনি সবার হাতে বই তুলে দিতে চাই।  পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের বলেন তোমরা বেশি বেশি করে বই পড়, আলোকিত হও।  তোমরা আলোকিত হলে বাংলাদেশ আলোকিত হবে। 

শিশু সাহিত্যিক আলী ইমাম তিনি বিশ্বব্যাংকের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই বইপড়া কর্মসূচিকে বিশ্বব্যাংক সারা পৃথিবীতে একটি অনন্য কর্মসূচি বলে স্বীকৃতি দেন।  এই বইপড়া কার্যক্রম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র অতি সুচারুভাবে পরিচালনা করায় তিনি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রকে ধন্যবাদ জানান।  পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের আরো বেশি বেশি বই পড়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। 

কবি ও সাংবাদিক ( দৈনিক প্রথম আলো) ওমর কায়সার পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তোমরা সবসময় মনে রাখবে যার কিছু নাই, তার বই আছে।  এই বই পড়ার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তোমরা সব জয় করতে পারবে।  তাই বেশি বেশি বই পড়ার পরামর্শ দেন। 

দুইবার এভারেস্ট বিজয়ী একমাত্র বাংলাদেশী এম. এ মুহিত বলেন, প্রত্যেক মানুষের ভিতরেই একটা এভারেস্ট রয়েছে।  এই এভারেস্টটা হল তার স্বপ্ন।  তোমরা স্বপ্ন দেখ এবং নিজের স্বপ্নের প্রতি অবিচল থাকো।  দেখবা, প্রত্যেকেই যার যার এভারেস্টে উঠতে পারছো। 

গ্রামীণফোনের হেড অব ডিস্ট্রিবিউশন প্লানিং এন্ড সাপোর্ট, কফিল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কার্যক্রমে সাথে গ্রামীণফোন যুক্ত থাকতে পেরে গর্বিত।  একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় তারা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চান বলে জানান।  তিনি অনলাইনে বইপড়া প্রসঙ্গে জানান, http://www.alorpathshala.org ওয়েবসাইটে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই অনলাইনে পড়ার সুযোগ আছে, যা ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।  পুরস্কারপ্রাপ্ত সকল ছাত্রছাত্রীসহ উপস্থিত সকলকে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। 

চট্টগ্রাম মহানগরের সংগঠক ও সহযোগি অধ্যাপক আলেক্স আলীম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বছরজুড়ে বইপড়া কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনায় সহায়তা করার জন্য শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের ধন্যবাদ জানান।  আগামী বছরগুলোতে ছাত্রছাত্রীদের এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।  অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যুগ্ম পরিচালক (প্রোগ্রাম) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন। 

পুরস্কার বিতরণী শেষে সন্ধ্যায় কয়েক হাজার মোমবাতি জ্বালিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে. .  .” গানের সুরে উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।  পুরস্কারের বইসহ উৎসব আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে গ্রামীণফোন লিমিটেড। 

উল্লেখ্য, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত চট্টগ্রাম মহানগরীতে দুই দিনব্যাপী পুরস্কার বিতরণী উৎসবের তিনটি পর্বে মোট ৯৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ৬ হাজার ৩৯২ জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার দেওয়া হয়।  দিনব্যাপী পুরস্কার বিতরণী উৎসবের দুইটি পর্বে মোট ৬৪টি স্কুলের ৪  হাজার ৩১৩ জন ছাত্রছাত্রীকে পুরস্কৃত করা হয়।