৩:৫৯ এএম, ২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৫ শাওয়াল ১৪৪১




দুই শতাংশ ডাউনপেমেন্ট' নীতিমালা ব্যাংকিং খাতে সংকট বাড়াবে

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:২২ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম:খেলাপিদের ঋণ পুনঃতফসিলকরণে দুই শতাংশ ডাউনপেমেন্টের সুবিধা পেতে নিয়মিত পরিশোধকারীরাও হচ্ছেন অনিয়মিত। 

এ অবস্থায় সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপিদের প্রশ্রয় দিলে আর্থিক খাত আরো ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের। 

খেলাপিদের সুবিধায় 'দুই শতাংশ ডাউনপেমেন্ট' নীতিমালা ভুল সিদ্ধান্ত বলেও মনে করেন তারা।  এতে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি না পাওয়ায় বেসরকারি খাতে কমবে বিনিয়োগ।  একইসঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে না বলে মনে করেন সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন। 

দেশের ব্যাংকিং খাতের ঋণ বিতরণের পরিমাণের মধ্যে খেলাপিই প্রায় ১২ শতাংশ।  মন্দ ঋণের এসব অর্থ ব্যাংকের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে নানা পদক্ষেপের মধ্যে বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছে দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলকরণ।  এমন নীতিমালার মাধ্যমে সরকার খেলাপির পরিমাণ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিলেও ঘটছে তার উল্টো। 

এমন অবস্থা চলতে থাকলে নাজুক ব্যাংকিং খাতের মূল কাঠামো ভেঙ্গে পড়বে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। 

অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেন, যখনই দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট ঘোষণা করলো তখনই কিন্তু সরকার আমাদের ভুল পথ নির্দেশ করছে।  এরফলে যারা নিয়মের ভেতরে ছিলো তারাও ভাবছে আমি কেনো লোকসান করবো।  আমি যদি না দেই তাহলে তো আমিও ওই দুই শতাংশ পেতে পারি।  এটা যদি সবাইকে দেয়া হয় তাহলে ব্যাংকিং খাত যেভাবে চলছে তা আরো ভেঙে যাবে। 

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে কথা না বললেও খোদ অর্থমন্ত্রীর কথায় উঠে এসেছে বাস্তব চিত্র।  সম্প্রতি ইআরডিতে তফসিলি ব্যাংকগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় এমনটাই জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। 

তিনি বলেন, কোর্টের অর্ডারের কারণে খারাপ ঋণগ্রহীতা এদের তো লম্বা সময় দিতে হবে।  যারা ভালো ছিলেন তারাও টাকা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। 

কর্মসংস্থান বৃদ্ধির শ্লোগান নীতি নির্ধারকদের মুখে মুখে থাকলেও, বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন বলছেন, পুনঃতফসিলের এ সুবিধায় ব্যাংকে অর্থের ঘাটতি অব্যাহত থাকায় বৃদ্ধি পাবে না বেসরকারি বিনিয়োগ।  বাড়বে না কর্মসংস্থানও। 

তিনি বলেন, আল্টিমেটলি এর প্রভাবটা পড়বে ব্যাংকের লিকুইডিটির ওপর।  আমাদের ব্যক্তি খাতে যে ঋণ প্রভাব সেটা কিন্তু কমে যাচ্ছে দিন দিন।  ব্যক্তিখাতে ঋণ করলে গ্রোথ কমে যাবে।  আর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো কর্মসংস্থান কমে যাবে। 

ব্যাংকের প্রতি সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বশীল ভূমিকা না থাকায় ব্যাংগুলোকে নিজস্ব দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।