১:৪৪ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার | | ৪ সফর ১৪৪২




দীর্ঘদিন ধরেই জনবল সংকটে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম |


এসএনএন২৪.কম ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরেই জনবল সংকটে রয়েছে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়।  এই মন্ত্রণালয়ের ছয়টি অধিদফতর ও সংস্থা পরিচালিত হচ্ছে ‘প্রশাসন’ এবং ‘পরিকল্পনা ও উন্নয়ন’— এ দু’টি উইংয়ের মাধ্যমে।  জনবল মাত্র ১১৪ জন।  আর জনবলের এক-তৃতীয়াংশই অধিদপ্তর ও সংস্থা থেকে ধার করা।  এ অবস্থায় মন্ত্রণালয় থেকে জনবল কাঠামো বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  জনকল্যাণমূলক বৃহৎ কর্মযজ্ঞ চালাতে আরও দু’টি উইং যুক্ত করা হচ্ছে। 
 

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শহিদুজ্জামান বলেন, সামান্য জনবল নিয়েই চলছে মন্ত্রণালয়।  তাই নতুন দু’টি উইং যুক্ত করতে এবং আরও ২৭ জন জনবল বাড়াতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। 
 

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের বর্তমানে ১১৪টি পদের সব পূরণ হয়নি।  বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে শূন্য পদে জনবল নিয়োগের।  তবে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তর ও সংস্থা থেকে ৩৬ জন কর্মকর্তাকে সংযুক্তি দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। 
 

অতিরিক্ত সচিব মো. শহিদুজ্জামান জানান, বর্তমানে ‘প্রশাসন’ এবং ‘পরিকল্পনা ও উন্নয়ন’ শীর্ষক দুইটি উইংয়ের সঙ্গে নতুন করে যোগ হচ্ছে ‘প্রতিবন্ধিতা ও প্রতিষ্ঠান’ এবং ‘বাজেট, অডিট ও কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা’ নামের দু’টি উইং।  মন্ত্রণালয়ের মোট জনবল ১১৪ জন।  এর মধ্যে অনুমোদিত পদ ১১৩টি।  আরও ২৭টি পদ বাড়িয়ে ১৪১টি পদ করার নতুন প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। 
 

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছয়টি সংস্থা ও দফতর পরিচালিত হচ্ছে।  এগুলো হলো, সমাজসেবা অধিদফতর, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ, শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ান ট্রাস্ট (বাংলাদেশ), শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট (মৈত্রী শিল্প) এবং নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট। 
এছাড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত চারটি অনুবিভাগ হলো, প্রশাসন, উন্নয়ন, পরিকল্পনা এবং প্রতিবন্ধিতা ও অটিজম। 

এই চারটি অনুবিভাগের আওতায় প্রতিবন্ধিতা ও অটিজম, দারিদ্র নিরসন, শিশু সুরক্ষা, অনুদান, সামাজিক পুনঃএকত্রিকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও তথ্য অধিকার, কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা ও শুদ্ধাচার, নীতিমালা ও প্রকাশনা এবং ইনোভেশন ও আইসিটি অধিশাখা রয়েছে। 
 

মন্ত্রণালয়ের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখার আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি, হিজড়া জনগোষ্ঠী, বেদে, দলিত, হরিজন, চা-শ্রমিকদের উন্নয়ন, ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার রোগী ব্যবস্থাপনা শাখাগুলো পরিচালিত হচ্ছে। 
 

অন্যদিকে, প্রতিবন্ধিতা ও অটিজম অধিশাখার আওতায় জাতীয় বিশেষ শিক্ষা কেন্দ্র, সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, প্রতিবন্ধী শিশুদের বিদ্যালয়, বেসরকারি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ ও পরিচয়পত্র, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, অটিজম রিসোর্স সেন্টার, কৃত্রিম অঙ্গ ও ব্রেইল প্রেস পরিচালিত হয়। 
 

দারিদ্র্য নিরসন অধিশাখার আওতায় পল্লী সমাজসেবা, পল্লী মাতৃকেন্দ্র, শহর সমাজসেবা, এসিডদগ্ধ ও প্রতিবন্ধী শাখা পরিচালিত হচ্ছে।  শিশু সুরক্ষা অধিশাখার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে সরকারি শিশু পরিবার, ছোটমনি নিবাস ও দিবাযত্ন, শিশু সুরক্ষা প্রকল্প, শিশু (কিশোর) উন্নয়ন কেন্দ্র। 
 

অনুদান কর্মসূচির আতায় চলছে ক্যাপিটেশন গ্রান্ট, সমাজকল্যাণ পরিষদ অনুদান, হাসপাতাল সমাজসেবা, কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট।  সামাজিক পুনঃএকত্রিকরণের আওতায় চলছে প্রবেশন ও আফটার কেয়ার, সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র, সামাজিক প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন, নিরাপদ হেফাজত। 
 

মানবসম্পদ উন্নয়নের আওতায় রয়েছে জাতীয় সমাজসেবা একাডেমি, আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ, সমাজকল্যাণ সংস্থা নিবন্ধন, দুস্থ শিশুদের প্রশিক্ষণ, এতিম ও প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ, শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ, শহর সমাজসেবা’র প্রশিক্ষণ। 
 

এছাড়া, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও তথ্য অধিকার, কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা ও শুদ্ধাচার, নীতিমালা ও প্রকাশনা, ইনোভেশন ও আইসিটি অধিশাখার আওতাতেও চলছে বিভিন্ন কর্মসূচি। 
 

মন্ত্রণালয়ের এসব কর্মকাণ্ড চালাতে দফতর, সংস্থা, অনুবিভাগ ও বিভিন্ন শাখা অধিশাখায় ন্যূনতম লোকবল নিয়োগ করলেও প্রয়োজন হবে সাড়ে ৩শ জনবলের।  এ অবস্থায় চাওয়া হয়েছে ১৪১ জন। 
 

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলুল হক ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিয়মের মধ্য থেকে যে জনবল পাওয়া যাবে তার জন্যই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। 

 

পিডি