৫:৩২ পিএম, ২৯ মার্চ ২০২০, রোববার | | ৪ শা'বান ১৪৪১




দেশের সংকটে-ব্যবসায়ী,শিল্পপতি ও দানবীরের ভূমিকা কি?

২৪ মার্চ ২০২০, ০১:৪৯ পিএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম: মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে। 

একটু সহানুভূতি কি- মানুষ পেতে পারেনা? ও বন্ধু.....

দেশের সংকটময় মুহূর্তে বুঝা যায়, যার যার প্রকৃতরূপ।  পত্রিকায় এখন আগেরমতো একের পর এক খুনের-অপহরণ-ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে উৎকন্ঠায় ভুগছেনা। 

বিশ্ববাসীর  সকল উদ্বেগের কারণ এখন "নোভেল করোনা ভাইরাস" (কোভিড১৯) প্রতিরোধ।  এই মহাসংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য দেশের সেবায় এগিয়ে আসা সকল নামীদামি ব্যবসায়ী-শিল্পপতি-দানবীর-ব্যাংকের চেয়ারম্যানদের ভুমিকা কেমন হওয়া উচিত? চীন দেশ দিয়ে শুরু হওয়া এই ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে হাজার হাজার চীনাবাসীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হলো,সেই মহামারী ছোবল থেকে বাঁচতে পারেনি ধনী রাষ্ট্র "ইতালি'ও"। এই ভাইরাসে  সর্বাধিক মৃত্যুর ঘটনা ইতালিতে ছাড়িয়ে গেলো। 

এই ভাইরাস সংক্রমণের ভয়াবহতা সম্পর্কে চীনের মাধ্যমে অবগত থাকার পরও সেটি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।  তৎক্ষনাৎ তার কোনো সুচিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি।  কারণ রোগ নির্ণয় করা-রোগের লক্ষণ-কীট-সার্জিকেল সরঞ্জাম যথাযথ ব্যবস্থা হয়নি তবে এখন তা কেটে উঠেছে।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী এই ভাইরাসের ভয়াবহতা এই দেশেও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

তাহলে আজ বিশ্ব এক আল্লাহর মুখাপেক্ষী হয়ে আছে এই সংকট থেকে পরিত্রাণের জন্য।  ইতালির প্রধানমন্ত্রী চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলতে পারে আমাদের চেষ্টা এখানে শেষ বাকিটা আকাশের দিকে অর্থাৎ " সৃষ্টিকর্তার পানে"। 

আমাদের দেশের জনগণকে শুধু প্রতিরোধ করার জন্য নিজেদেরকে মুখে "মাস্ক", ভালোভাবে "হ্যাক্সিসল" দিয়ে জীবানুমুক্ত করতে, অযথা বাহিরে না ঘুরে বাসায় অবস্থান করার জন্যে, "হ্যান্ডসেক" না করা সহ কিছু সতর্কতামূলক নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।  যেইমাত্র এই সামান্য মাস্ক,হ্যাক্সিসল,ডেটল,স্যাভলন,হ্যান্ড গ্লোবস,এমনকি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি পাওয়া।  এই কাজ অসাধু ব্যবসায়ীরা করছে তা-নাহলে বড় বড় ব্যবসায়ীরা সাধারণ জনগণের কথা চিন্তা করলে, এই বিপদের মধ্যে আরো বিপদে ফেলা কতটুকু যৌক্তিক? তাদের কি দয়া-মায়া নেই? এই দেশে এদের নিয়ন্ত্রণ করার কোনো উপায় নেই? মাঝে মাঝে এরাই আবার সরকার পতনের ডাকও দে। 

তাহলে জাতীয় নির্বাচন আসলে কি যেদল ক্ষমতায় যাবে মনে হয় সেদলের প্রধানকে খুশি আর নিজেদের অবস্থান ঠিক রেখে আর সাধারণ জনগণকে চুষে চুষে খাওয়ার লাইসেন্স নিয়ে নে? জাতীয় নির্বাচন আসলে দেখবেন বড় বড় ব্যাংকের চেয়ারম্যান-শিল্পপতি-ব্যবসায়ী-দানবীর'রা দলের প্রধানকে বড় অংকের "চেক হস্তান্তর" করছেন অথচ বিশ্বের বড় দশটা (১০) গার্মেন্টসের মধ্যে তিনটা (০৩) টা গার্মেন্টস বাংলাদেশে।  আজ অর্ধমাস পেরিয়ে গেলো কই কোনো গার্মেন্টস কোম্পানির এমডি বলেন মালিক বলেন, কেউ এখনো পর্যন্ত ঘোষণা দিলো না যে,তাদের এই ফ্যাক্টরি থেকে এতো হাজার,এতো লাখ পিস্ মাস্ক দেশবাসীর জন্য বিনামূল্যে কিংবা নামমাত্র মুল্যে প্রদান করা হবে। 

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কোনো দানবীর আজ পর্যন্ত ঘোষণা দিলোনা আমার পক্ষ থেকে ডাক্তারের পোশাক-কীটসনাক্তকরণ সরঞ্জামের জন্য এতো লক্ষ টাকা প্রদান করবো।  আমরা বাজারে কোনো হ্যাক্সিসল পায়না, যেটা বেশি প্রয়োজন হয় জনগণের তখন সেটার দাম বেড়ে যায়, জনগণকে বোকা বানায়, অথচ এশিয়ার দশজন (১০) ধনী ব্যক্তির মধ্যে দুই জন (০২) বাংলাদেশি।  শিল্পপতিরাও চুপ মেরে বসে আছে, তাদের থেকেও কোনো সাড়া নেই।  এই দেশের ঔষধ শিল্পের বেশ্ সুনাম রয়েছে। 

এই দেশে রয়েছে নামকরা বিভিন্ন ঔষধ শিল্প " স্কয়ার -বেক্সিমকো-ইউনিলভার-ইনসেপ্টা-রেনেটা-বসুন্ধরা-পদ্মা-যমুনার মতো বিশাল কোম্পানি এতো কিছু থাকতে কেন সামান্য হাত জীবাণু মুক্তকরণের হ্যানডারসল-হ্যাক্সিসল সাধারণ জনগণের জুটে না? তারচেয়ে তো গ্রামের উদার মনের সেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলো অনেক প্রশংসনীয় কাজ করে যাচ্ছে এই সংকটে! যদিও তাদের সেই সামর্থ্য নেই কিন্তু যা আছে তা নিয়ে তো রাস্তায় নেমে পড়েছে। 

আসলে আমরা নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য- আর লোক দেখানোর জন্য এমনকি নিজের পিট ঠিক রাখার জন্য সব অর্থ ব্যয় করি।  নিঃস্বার্থ কাজ খুব কমই হয় যার কোনো প্রতিদান বা নামবিহীন করা হয়।  সামান্য ত্রাণ বিতরণে দেখেন কে ত্রাণ নিচ্ছে বুঝতে পারবেননা, চারিদিক থেকে হাতের স্পর্শে ত্রাণ গ্রহণকারী-প্রদানকারী আর সহযোগীদের উপস্থিতি দানের কাজটিকে হাস্যরসে আর ফটোসেশনে রূপ দে।  এই পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসা, আর সেটি অপ্রকাশ্যে-গোপনে করা উত্তম।  মানুষ যদি সে প্রয়োজনে নাহয় মানুষ তখন লজ্জা কি পাবেনা? মানব যদি হয় "দানব"-লজ্জা কি পাবেনা?

লেখক: কলামিস্টঃ চিত্রশিল্পী, মুহাম্মদ শাহীদুল আলম। 
                       সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।