৩:০৭ এএম, ২১ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৭ শাওয়াল ১৪৩৯

South Asian College

দেশে অসমতা ক্রমেই বাড়ছে

০১ মার্চ ২০১৮, ০৮:০৫ এএম | মুন্না


এসএনএন২৪.কম : দেশে অসমতা ক্রমেই বাড়ছে।  এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে সুযোগের ক্ষেত্রে যে বৈষম্য রয়েছে তা দূর করতে হবে।  মানুষকে কেন্দ্র করেই প্রবৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।  ভাবতে হবে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীকে নিয়ে। 

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) “গণমানুষের কণ্ঠস্বরঃ বাংলাদেশে ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন” শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

সেমিনারে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-৮ (সকলের জন্য পূর্ণাঙ্গ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান এবং শোভন কর্মসুযোগ সৃষ্টি এবং স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন) ও ১০ (অন্তঃ ও আন্তঃদেশীয় অসমতা কমিয়ে আনা) এর ওপর দুইটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। 

পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খুলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ।  বক্তব্য রাখেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কেএম আবদুস সালাম।  পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল করিম সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। 
প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরি ও ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিক্স'র শিক্ষক ড. তৌহীদ রেজা নুর। 

আবুল কালাম আজাদ বলেন, এসডিজির লক্ষ্য হলো ১৬৯ টি।  সরকার সবগুলো সমভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে না সম্পদের কারণে।  তাই সরকার প্রাথমিকভাবে ৩৯ টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।  তিনি আরো বলেন, আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাও এসডিজির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই করা হয়েছে।  এসডিজি শুধু কেন্দ্রীয়ভাবে বাস্তবায়নের বিষয় নয়।  দেশের সকল অঞ্চলে বাস্তবায়নের উপর সরকার জোর দিচ্ছে। 

আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগামী মাসে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীতের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। 

ড. মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, এসডিজির ১০ নম্বর অভীষ্ঠ সর্বক্ষেত্রে বৈষম্যতা ও অসমতা দূর করা।  আমাদেরকে সুযোগের অসমতা দূর করার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।  তিনি বলেন, দেশে বৈষম্য বাড়ছে।  আর এই বৈষম্যটা বহুমাত্রিক।  তবে শহরের চেয়ে গ্রামে এটি বেশি। 

ড. তৌহীদ রেজা নূর টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ৮-এর উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বলেন, টেকসই উন্নয়নের একটি অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে স্থিতিশীল কর্মসংস্থান ও পরিপূর্ণ কর্মপরিবেশ।  তিনি বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্যের নানা দিক তুলে ধরেন।  পাশাপাশি বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জনের জন্য প্রয়োজন বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন। 

ড. কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, আমরা সব সময় বলি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে।  কিন্তু সেটা কিভাবে বাড়াবো তা ঠিক করতে হবে।  মানুষকে কেন্দ্র করেই প্রবৃদ্ধির প্রক্রিয়া সাজাতে হবে।  ধনীদের নিয়ে ভাবনার দরকার নেই।  ভাবতে হবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে।  বাস্তবভিত্তিক ও মানুষ কেন্দ্রিক কর্মসূচি নিতে হবে এবং একই সাথে আমিত্ব থেকে বের হয়ে বহুত্বের দিকে যেতে হবে উন্নয়নের ধারাকে টেকসই করতে। 

তিনি আরো বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নই কেবল নয় সামাজিক ও নৈতিকতা উন্নয়ন, টেকসই উন্নয়ন অর্জনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।