৬:০০ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, শনিবার | | ৮ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

South Asian College

দূষণবিরোধী অভিযানে দাম বেড়েছে চীনা পণ্যের

২০ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:৫৮ এএম | রাহুল


এসএনএন২৪.কম : বিশ্ববাজারে পণ্যের চাহিদা বাড়ায় রপ্তানি নিয়ে আশাবাদী চীনের ব্যবসায়ীরা।  তবে তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে সরকারের দূষণবিরোধী অভিযান। 

এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে ব্যাপকভাবে বেড়েছে পণ্যের দাম।  আর তাতে বিদেশি ক্রেতারা চীনা পণ্যের প্রতি কিছুটা অনাগ্রহ দেখাতে পারে বলেও মনে করে ব্যবসায়ীরা।  এতে বেশি উদ্বিগ্ন চীনের ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের ব্যবসায়ীরা।  দূষণবিরোধী অভিযানে তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

গত মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশটির সবচেয়ে বড় বাণিজ্য প্রদর্শনী ক্যান্টন ফেয়ার।  গোয়াংগঝুহু প্রদেশে অনুষ্ঠিত এ মেলা চীনের রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  মেলায় ২৫ হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের প্রদর্শন করেছে।  মেলায় গৃহসামগ্রী থেকে শুরু করে শিল্প ইঞ্জিন পর্যন্ত সব ধরনের পণ্যই উঠেছে।  প্রতিবছরের মতো এ মেলায় বিপুলসংখ্যক বিদেশি ক্রেতারাও আসে।  মেলায় এক জরিপে দেখা যায়, ১০২ রপ্তানিকারকের মধ্যে ৭৭ শতাংশ মনে করে আগামী বছর পণ্যের রপ্তানি অর্ডার বাড়বে।  তবে অনেক রপ্তানিকারক বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চীনের মুদ্রার দর বৃদ্ধি ও দূষণবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।  তারা জানায়, ধোঁয়া নির্গতকরণ মান অনুসরণ করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়েছে।  সেই সঙ্গে নতুন যন্ত্রাংশ খরচও বেড়েছে। 

এক হিসাবে দেখা যায়, চীনে দূষণ বিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত ৪০ শতাংশ কারখানা সাময়িক বন্ধ করে দিয়েছেন নিরাপত্তা পরিদর্শকরা।  এছাড়া গত একবছর ৮০ হাজারের বেশি কারখানার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কার্বনগ্যাস নির্গমন বিধি লংঘনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 

চীনের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মাসদার পরিচালক লিন চেন বলেন, পরিবেশবিধি মানতে গিয়ে প্রায় সবাই সমস্যায় পড়েছে।  আমি বলতে পারি ৩০ শতাংশ কারখানা মারত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  তিনি বলেন, দূষণবিরোধী অভিযানে বড় কারখানাগুলো টিকে যেতে পারলেও মূল্য দিতে হয়েছে ছোট কারখানাগুলোকে।  অনেককে ব্যবসা ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে।  তিনি বলেন, জেজিয়াংগ প্রদেশে অ্যালুমিনিয়াম টিউবের উৎপাদন খরচ বেড়েছে ২০ শতাংশ।  এভাবে অনেক খাতেই উৎপাদন খরচ বেড়েছে। 

গোয়াংগঝুহু লাইট হোল্ডিংস কম্পানির ডেভিড লি জানান, তাদের পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়েছে ৫ থেকে ১০ শতাংশ।  রয়টার্সের এক জরিপে ১০২ জন রপ্তানিকারক জানায়, তাদের বড় উদ্বেগের বিষয় উৎপাদন খরচ।  ক্যান্টন ফেয়ারে আসা বিদেশি ব্যবসায়ীরা জানায়, বেশ কিছু পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তারা কিছুটা হতবাক। 

চীন থেকে নাইজেরিয়ায় লিড ব্যাটারি আমদানি করা এক ব্যবসায়ী জানালেন, গত চার মাসে ব্যাটারির দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ।  এটাতে তিনি অবাক।  তিনি এখন চীন ছেড়ে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এ পণ্য নেওয়া শুরু করেছেন। 

পরিবেশ দূষণ অভিযানের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে চীনা মুদ্রা ইউয়ানের দাম বৃদ্ধি।  এ বছর ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ।  ৫০ শতাংশ ব্যবসায়ী জানায়, এতে তাদের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

এদিকে দূষণবিরোধী অভিযানে শিল্পোৎপাদন কমেছে চীনের।  সম্প্রতি চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (এনবিএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত অক্টোবর মাসে শিল্পোৎপাদনে প্রবৃদ্ধি হয় ৬.২ শতাংশ।  যেখানে সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬.৬ শতাংশ।  এ ছাড়া ব্লুমবার্গের জরিপেও বলা হয়েছিল দেশটির শিল্পোৎপাদন হবে ৬.৩ শতাংশ। 

এনবিএস আরো জানায়, অক্টোবরে খুচরা বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি কমে হয়েছে ১০ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বরের তুলনায় ০.৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।  অর্থনীতিবিদরা জানান, ধূসর বায়ুতে ছেয়ে গেছে চীনের আকাশ।  এ অবস্থায় দেশের আকাশকে দূষণমুক্ত করতে সরকারের হাতে বিকল্প নাই। 

Abu-Dhabi


21-February

keya