৬:৫৬ এএম, ৭ জুলাই ২০২০, মঙ্গলবার | | ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪১




দুঃস্থের সেবায় উৎসর্গিত হোক মানবতার দেয়াল

২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:৩৮ পিএম | নকিব


পুষ্প মোহন চাকমা:  মানুষ মানুষের জন্য।  মানুষ যদি মানুষের পাশে না দাঁড়ায় তবে সে মনুষ্যত্বের কোন মূল্য ও প্রয়োজন নেই। 

মানুষ বাঁচার জন্য স্বার্থের প্রয়োজন আছে।  কিন্তু সেটি কেবল নিজের জন্য নয়।  সবার জন্য প্রয়োজন এই স্বার্থ।  তাই সার্বজনীন স্বার্থচিন্তা ও রক্ষা করা মানুষের কর্তব্য।  শুধু ব্যক্তিস্বার্থের মধ্যে একটি জীবন ও জাতি হয়না। 

হয় না প্রকৃত শান্তিও।  ঠিক তেমনি পৃথিবীতে সবাই প্রকৃত মানুষ না হলেও পৃথিবীর শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যতিক্রমধর্মী মানবতাবাদী উদার ব্যক্তিত্ব অতীতে ছিল এবং বর্তমানেও আছে; বলেই পৃথিবী ও মানব জাতি এখনও টিকে আছে সৌরজগতে।  তা না হলে কয়েকটি পরমাণু অষ্ট্রই মহাপৃথিবীকে নিমিষে ধ্বংস করতে যথেষ্ট।  বিশে^ আত্মরক্ষার নামে যারা এসব পরমাণু অষ্ট্র আবিস্কার ও লালন করে তাদের দুরভিসন্ধিমূলক মনোভাবকে কায়দা-কৌশলে বা কৌশলগত প্রভাব খাটিয়ে যারা সেই পরমাণু অষ্ট্রের ব্যবহার ও প্রয়োগ ঠেকাতে সোচ্চার তারাই পৃথিবীর সেই প্রকৃত মহান মানবতাবাদী প্রতিনিধি ও অভিভাবক। 

একজন মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব হতে কেবল অর্থের প্রয়োজন হয়না।  প্রয়োজন হয় প্রধানতঃ মনের।  অর্থের দ্বারা প্রকৃত মানবতা তৈরি হয়না।  অর্থ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বরং অহম তৈরি করে মানুষকে অন্ধকারে ধাবিত করে।  তবে হ্যাঁ মানবতা আর অর্থ একই বিন্দুতে আবর্তিত হলে সে তো আর কথাই নেই।  যা পরমাণু শক্তির চেয়ে অধিক যে শক্তি, সেই শক্তিই উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়।  আর তাই যার যার অবস্থান ও সক্ষমতা থেকে যেটুকু সম্ভব ঠিক সেটুকুই আমাদের মানব কল্যাণে হাত রাখা বা হাত বাড়ানো দরকার। 

ঠিক এরই আলোকে আর্তমানবতার সেবায় সম্প্রতি বিলাইছড়িতে তৈরি হয়েছে এক মানবতার দেয়াল।  রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বিলাইছড়ি উপজেলা ইউনিট এর যুব প্রধান ও সাবেক ছাত্রনেতা সৈকত দাশ (রুবেল) এর সার্বিক তত্ত¡াবধানে সোসাইটির অন্যান্য সদস্যদের সমন্বয়ে বিলাইছড়ি বাজারে এ মানবতার দেয়াল তৈরি করা হয়েছে।  ২৩ ডিসেম্বর মানবতার দেয়াল উদ্বোধন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজ চৌধুরী।  এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ ইকবাল, বিলাইছড়ি থানা অফিসার-ইন-চার্জ পারভেজ আলী, বিলাইছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সভাপতি শাক্যপ্রিয় বড়–য়া ও সংশ্লিষ্ট ইউপি ওয়ার্ড মেম্বার প্রিয়ানন্দ বড়–য়া প্রমুখ। 

এ মানবতার দেয়ালে কারো ব্যবহার উপযোগী রিজেক্টেড অথবা নতুন পড়নের কাপড় কিংবা অন্যকোন জিনিসপত্র আগ্রহী কেহ জমা বা দান দিয়ে যেতে পারেন।  আর যারা দুঃস্থ বা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল তারা নির্দ্বিধায় তাদের প্রয়োজনীয় পছন্দের জিনিস এ দেয়াল থেকে নিয়ে যেতে পারবেন। 

এ দেয়াল থেকে যে তার প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে যাবেন ইচ্ছে করলে সামর্থ্য সাপেক্ষে সেও এ মানবতার দেয়ালে কিছু দান করতে পারবেন।  অর্থস্বচ্ছল সকলের মানবতাবাদী হাত প্রসারিত হলে এভাবে বিলাইছড়ির মানবতার দেয়াল দুঃস্থদের কল্যাণে সুদূর প্রবহমান থাকবে নিশ্চয়।  অপরদিকে আপনার আমার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এ থেকে মানবতা ও উদারতার শিক্ষা গ্রহন করে মানব কল্যাণে নিবেদিত হতে পারে।  বলা যায়, একটি দর্গম ছোট্ট মফস্বল উপজেলায় মানবতার সেবায় এটুকু প্রয়াস কোন অংশে ছোট নয়! বিন্দু থেকে সিন্ধু হয়।  এক এক করে পরিণত হয় শত, হাজার, লক্ষ আর কোটিতে। 

তেমনি আমাদের উপজেলার সক্ষম সকলের মহৎ চেতনা ও সহায়তা দ্বারা বিলাইছড়ির ‘মানবতার দেয়াল’ নামের এ ছোট্ট প্রয়াসই হোক ধীরে ধীরে হিমালয় ও এভারেস্ট চ‚ড়া সমতুল্য মহান উঁচুু ও সুদূর প্রসারী এ প্রত্যাশা রাখি। 

প্রত্যাশা রাখি এ প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ হোক সরল ও নির্মলিন।  যার ফলশ্রæতিতে অর্থস্বচ্ছল ও দুঃস্থ সকলের পরস্পরের মাঝে তৈরি হোক একটি মেল বন্ধন, সংবেদনশীলতা আর অকৃত্রিম ভালবাসা। 

লেখক,

পুষ্প মোহন চাকমা

সাংবাদিক