৬:০০ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার | | ১৯ সফর ১৪৪১




বাস্তবিক মিছিলে সবারি উচ্চ কণ্ঠে উচ্চারিত হোক

দোহাই লাগে গুজবে কান দিবেন না

২৫ জুলাই ২০১৯, ০৩:৩৯ পিএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে ইতিমধ্যে পাঁচজনের অধিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।  তথ্যমতে আহত অর্ধশতাধিকের কাছাকাছি। 

হতাহতের বেশিরভাগই নারী।  দেশের গণমাধ্যমগুলোতে নিয়মিত প্রচার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছেলেধরা সন্দেহ গণপিটুনির খবর। 

তবে আইন শৃংখলা বাহিনীর তথ্যমতে গণপিটুনির শিকার বেশিরভাগই মানসিক ভারসাম্যহীন।  তবে সবচেয়ে ঘৃণিত হত্যাকাÐটি সংঘটিত হয়েছে ঢাকায়।  রেনুকা নামক এক মহিলা নিজের ছেলেকে ভর্তির জন্য স্কুল খুঁজতে আসলে সেখানে অবস্থানরত কিছু মহিলা অভিভাবকদের সন্দেহ হলে ছেলেধরা চিৎকার দিয়ে উঠে।  এতে তার ওপর নেমে আসে সময়ের আলোচিত শব্দ গণপিটুনি।  গণপিটুনি দেওয়া ঘাতকদের নির্মম আঘাতে নিতর হয়ে যায় রেনুকার দেহ।  অবশ্যই ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে আলোচিত রেনুকা হত্যাকাÐের প্রধান আসামিসহ কয়েকজন।   তবে প্রশ্ন হচ্ছে হঠাৎ করে দেশব্যাপী এই গণপিটুনির ঘটনা কেন ঘটছে।  মানুষের এই মানসিক অসন্তোষের কারণটা কি? 

বেশিরভাগ মনোবিজ্ঞানীদের মতে যখন একটা বিষয়ে দেশের মানুষের মাঝে যখন ভয় আতঙ্ক তৈরি হয় তখনই এরকম ঘটনা ঘটে।  আর ছেলেধরা বিষয়ে ব্যাপক প্রচার পেয়েছে।  ইতিমধ্যে গণপিটুনি বিষয়টি একধরনের নাগরিক জীবনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।  আর এতে নিরাপত্তা বলয় তৈরির নামে অপরিচিত কাউকে দেখলে তার ওপর সহিংস হয়ে উঠছে একটি শ্রেণী পেশার মানুষ।  

তবে বলা যায় এই বিচারহীনতা সংস্কৃতির অভাবে এই গণপিটুনি নামক ব্যাধি সংঘটিত করে পার পেয়ে যাচ্ছে ঘাতকরা।  কেননা এমনও দেখেছি ডাকাত সন্দেহে শিক্ষার্থী সাধারণ মানুষ পিঠিয়ে মারার ঘটনা।  মোটামুটি বলা চলে বিচার ব্যবস্থার উপর দেশের মানুষের অনস্থা তৈরি হয়েছে একরকম।  তারা মনে করে সন্দেহজনক ব্যক্তিটিকে আইনের হাতে তুলে দিলে তাদের প্রত্যাশিত বিচার নাও হতে পারে।  আর এই জন্য আইন হাতে তুলে নিচ্ছে এক শ্রেণীর মানুষ।  বলতে হবে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ উনড়বয়নে আমাদের সমাজে একধরনের অনৈতিকতা বিশৃঙ্খলা ও সামাজিক বৈষম্য তৈরি হয়েছে।  আর তাতেই তৈরি হচ্ছে পারিবারিক দূরত্ব।  পারিবারিকভাবে প্রত্যাশিত মোটিভেশন না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে সমাজের প্রতিটি মানুষ।  যার কারনে ঘটছে এসব সামাজিক বিশৃঙ্খলা।  তাতেই প্রাণহানি ঘটছে অসংখ্য সাধারণ মানুষের।  

বলা যায় আর এই সুযোগে নিজেদের ফায়দা হাসিল করে নিচ্ছে দেশ বিরোধী একটি মহল।  তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মহামারি আকারে ছড়িয়ে দিচ্ছে ছেলে ধরার গুজব।  এতেই তারা ক্ষান্ত হয়নি সামাজিক মাধ্যমগুলো ফটোশপের মাধ্যমে ছবি বানিয়ে তারা রটিয়ে দিচ্ছে ছেলেধরা গল্প।  বিশেষ করে গ্রামগুলোতে এদের গুজবে বিশ্বাস করে অভিভাবকরা তাদেন সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্টানে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে।  এতেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন।   ভয়ংকর খবর হচ্ছে গ্রামগুলোতে অপরিচিত কাউকে দেখলে কোন ধরনের জিঙ্গাসাবাদ ছাড়া শুরু হয় গণপিটুনি। 

পরবর্তীতে দেখা যায় যাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে হয়তো মানসিক ভারসাম্যহীন নয়তো বিশেষ কাজে সেই এলাকায় এসেছে।  এসেই গণপিটুনির শিকার হয়েছে।  এসব ঘটনা হয়তো আপনার আমার সবার জীবনে ঘটতে পারে।  যা বর্তমান সময়ের জন্য স্বাভাবিক বিষয়।   তাই ছেলেধরা গুজব বন্ধ করতে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে আইনশৃংখলা বাহিনীকে।  শুধুমাত্র লিফলেট প্রচার করে বসে থাকলে হবে না। 

গুজব বন্ধে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।  সেইসাথে আমাদের গুজবে কান না দিয়ে সচেতন হতে হবে।  রুখে দিতে হবে ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র।  তাহলেই নিরাপদ হবে আমাদের সমাজ।    

 লেখক :           

মাসুম খান

গণমাধ্যম কর্মী চট্টগ্রাম।