৫:২২ এএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১৪ মুহররম ১৪৪০


ধুনট থানায় প্রবাসি ও মূমুর্ষূ রোগীর বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৫:২৯ পিএম | জাহিদ


রফিকুল আলম, বগুড়া প্রতিনিধি :  বগুড়ার ধুনট থানায় বিদেশে থাকা যুবক ও পক্ষাঘাত (প্যারালাইসেস) রোগে আক্রান্ত মূমুূর্ষূ রোগীর বিরুদ্ধে নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের নাংলু গ্রামের রুবেল হোসেন (৩৮)।  তার বাবার নাম লুৎফর রহমার।  তিনি জীবিকার তাগিদে প্রায় ৭ মাস ধরে বিদেশে (মালয়েশিয়া) অবস্থান করছেন।  তারপরও রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে থানায় নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেছে।  মামলার আরজিতে রুবেলের বাবার নামের স্থলে নানা আজিবর হোসেনের নাম লেখা হয়েছে। 

একই এলাকার নান্দিয়ারপাড়া গ্রামের মোবারক আলীর ছেলে আব্দুল খালেক (৯০) প্রায় দেড় মাস ধরে প্যারালাইসেস রোগে আক্রান্ত।  তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে।  শরীরের বাম পাশ পুরই অবশ।  বাম হাত-পায়ে কোন শক্তি নেই।  চলাচল অক্ষম একজন মানুষ।  বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।  তার বয়স ৯০বছরের স্থলে ৩৮ বছর বানিয়ে একই মামলার আসামী করা হয়েছে। 

মামলার আরজিতে বলা হয়েছে গত ৭ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাত ৮টার দিকে এই দুই আসামী নান্দিয়ারপাড়া রহমানিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার পিছনে ফাঁকা মাঠের ভেতর অন্যান্য আসামীদের সাথে গোপন বৈঠকে সরকার বিরোধী নাশকতামুলক কর্মকান্ডের প্রস্তুতি গ্রহন করেছে। 

এই মামলা বাদী ধুনট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহীনুর রহমান।  মামলায় ধুনট পৌর বিএনপির সভাপতি আলী মুদ্দিন হারুন মন্ডলসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাত ১০-১৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। 

সরেজমিনে আব্দুল খালেকের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের বারান্দায় চটের বিছানায় শুয়ে আছেন আব্দুল খালেক।  পাশে তার স্ত্রী ঝর্ণা খাতুন বসে রোগীর শরীরে বাতাস করছেন।  ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল খালেক কথা বলার চেষ্টা করেও বলতে পারছে না।  রোগের কারনে তাঁর বাকশক্তি নেই।    

এসময় ঝর্ণা খাতুন জানান, প্রায় দেড় মাস আগে তার স্বামী প্যারালাইসেস রোগে আক্রান্ত হয়েছে।  গত দুই সপ্তাহ আগে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ীতে আনা হয়েছে।  এখন তাকে কবিরাজি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   এরপর থেকে তাঁর স্বামী চলাচল করতে কিংবা কথা বলতে পারে না। 

নাংলু গ্রামে গিয়ে দেখা পাওয়া যায়নি ওই মামলার আসামী রুবেল হোসেনকে।  এসময় রুবেলের মা রুপালি খাতুন জানান, তার ছেলে প্রায় ৭ মাস আগে জীবিকার তাগিদে বিদেশে চলে গেছে।  তার ছেলে কোন দল করে না।  তারপরও পুলিশ তার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। 

মামলার বাদী ধুনট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহীনুর রহমান বলেন, উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে মামলার বাদী হয়েছি।  মামলার আরজিতে কোন অসংগতি কিংবা এ ধরনের আসামীর নাম থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে। 


keya