১১:১৬ এএম, ২১ মে ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১৬ রমজান ১৪৪০




ধুনটে বখাটের ভয়ে নিজগৃহে অবরুদ্ধ কলেজছাত্রী

১৬ মে ২০১৯, ০৪:৩১ পিএম | জাহিদ


রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া) : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় কলেজছাত্রী ও তার পরিবার মিল্টন মিয়া (২১) নামে এক বখাটের ভয়ে নিজগৃহে অবরুদ্ধ অবস্থায় দূর্বিষহ জীবনযাপন করছে। 

মিল্টন মিয়া উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের ভূতবাড়ি গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।  এ ঘটনায় বখাটে মিল্টন মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে উত্যক্তের শিকার কলেজছাত্রী।  

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামের এক গার্মেন্টস কর্মীর মেয়ে হরিনাথপুর আমেনা মুনসুর ডিগ্রী কলেজের ছাত্রী।  জীবিকার তাগিদে বাবা ঢাকায় অবস্থান করায় মেয়েটি তার মা ও ২ ভাইয়ের সাথে পুকুরিয়া গ্রামে বসবাস করে।  মেয়েটি এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।  

প্রায় ২ বছর আগে বখাটে মিল্টন মিয়ার সাথে তার বিয়ে হয়।  কিন্ত মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে মেয়েটি এক বছর আগে মিল্টনকে তালাক দিয়েছে।  এতে মেয়েটির উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে মিল্টন মিয়া।  এ অবস্থায় মেয়েটি বাড়ির বের হলেই মিল্টন মিয়া তাকে নানা ভাবে উত্যক্ত ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।  মেয়েটিকে আবারো ঘরে ফিরে নিতে মিল্টন নানা কৌশল অবলম্বন করে।  কিন্ত মেয়েটির পক্ষ থেকে কোন ভাবেই সাড়া মেলেনি।  মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি মিল্টনের অভিভাবকদের জানানোর পরও কোন কাজ হয়নি।  

এক পর্যায়ে ১৪ মে রাতে মেয়েটি বাবার বাড়িতে যে ঘরে ঘুমিয়ে ছিল সেই ঘরে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে ভীতির সৃষ্টি করে মিল্টন।  তার কুড়ালের কোপে ঘরের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  এ ঘটনায় বুধবার রাতে মেয়েটি বাদী হয়ে মিল্টন মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।  এদিকে থানায় অভিযোগের বিষয়টি জেনে মিল্টন মিয়া পলাতক রয়েছে। 

অভিযোগকারি মেয়েটি বলেন, মাদকাসক্ত মিল্টন মিয়ার নির্যাতন সইতে না পেরে তাকে প্রায় এক বছর আগে তালাক দিয়েছি।  এরপর সে আমাকে নানা ভাবে উত্যক্ত ও ভয়ভীতি দেখায়।  আমি তার ভয়ে ঘরের বের হতে পারছি না।  স্বজনদের সহযোগীতায় কলেজে যেতে হয়।  নিজগৃহে বন্দী জীবন পার করছি।  সে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ক্ষতি করেছে।  তার ভয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন যাপন করছি।  

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, কলেজছাত্রীর অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।