৫:৩৬ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




ধবধবে সাদা ফুলের ভয়ংকর সুন্দর সুঘ্রাণ

০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৫৯ পিএম | জাহিদ


তোফায়েল পাপ্পু, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) : ফুল সবাই ভালবাসে।  ফুল পছন্দ করে না এমন মানুষ নেই পৃথিবীতে। 

ফুলের সৌন্দর্যে আমরা মুগ্ধ হই; ফুলের গন্ধে হই মোহিত।  ফুল হচ্ছে সৌন্দর্যের প্রতিক।  আমাদের দেশে নানা রকম ফুল ফুটে।  বাংলাদেশ ষড় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ।  ১২টি মাসে ৬টি ঋতু বিভক্ত।  একেক ঋতুতে ভিন্ন ধরনের ফুল ফুটে।  ফুল ফুটে জানান দেয় ঋতু পরিবর্তন হচ্ছে। 

প্রকৃতিতে এখন নবান্নের ঋতু হেমন্ত।  শুরু হয়নি এখনো অগ্রায়হন ছোট হয়ে এসেছে দিন।  বেলা না গড়াতেই দ্রুত দিন ফুরিয়ে নামছে সন্ধ্যা।  ক্রমশ: কমছে তাপমাত্রা।  বাতাসে হিমের ছোঁয়া।  রাতে মৃদু কুয়াশা।  একটু আগাম এসে গেছে শীত। 

গত দিন (মঙ্গলবার) রাত প্রায় ৮টায় শ্রীমঙ্গল শহরতলীর শাহীবাগ এলাকার জামে মসজিদ সড়ক দিয়ে হাটার সময় হঠাৎ সুঘন্ধ গন্ধ পাওয়া যায়।  সামান্য একটু এগোলেই লক্ষ করা যায় রাস্তারে পাশে ভিক্টোরিয়া হাউস নামক একটি বাড়ির বাউন্ডারি দেয়ালের উপড়ে একটি গাছের কয়েকটি ডালে ধব ধবে সাদা ফুলের মাঝে সবুজ পাতাই তো দেখা যাচ্ছে না! বাসার ভিতরে প্রবেশ করে দেখা যায় ওঠানের এক পাশে একটি গাছে এত্তো ফুল! ফুলের নিচে পাতা আর কী ঘ্রাণ!


ছোট্ট ছোট্ট সাদা গুচ্ছফুলে যার শোভা প্রকাশিত।  মুহূর্তেই চোখ জুড়ালো।  মন জুড়ালো।  জুড়ালো নাশিকতন্ত্রও।  ব্যাপারটা একেবারেই ভিন্ন।  সুন্দর এই ফুলের সাদা রঙে এবং সুঘ্রাণ নিয়ে ফোটে আসলে নিজের স্বার্থেই।  যেন মনে হয় সৌন্দর্য-সুঘ্রাণ নিয়ে পৃথিবীকে জানান দিচ্ছে তার নিজস্ব গৌরব।  বাড়ির লোককে ডেকে জিজ্ঞেস করা হলে বলেন ফুল গাছটি হচ্ছে হাসনাহেনা ফুল গাছ।  

বিমুগ্ধকারী সুগন্ধী এই তীব্র সুগন্ধি ফুলটি রাতের বেলায় এমন ভয়ংকর সুন্দর সুগন্ধ ছড়ায় কিন্তু দিনের বেলায় এর চেহারা দেখলে কেউ বুঝতেই পারবেনা এই নিরিহ চেহারার ভিতর তার কি ভয়ংকর সম্মোহনী শক্তি লুকিয়ে আছে।  যা আধুনিক মানুষের কাছে  হাসনাহেনা বা Night Queen নামে সুপরিচিত ফুলের গাছ।  রাতের বেলায় সাধারণত এই ফুল ফোটে বলেই এমন নামকরণ। 

কথিত আছে হাসনাহেনার সুতীব্র ঘ্রাণে গভীর রাতে সাপ ছুটে আসে।  সাধারণত সন্ধ্যার পর পরই এ ফুল ফুটতে থাকে।  সারারাত অকৃপণভাবে বিলাতে থাকে তার সুবাস।  তাই প্রকৃতিতে হাসনাহেনাকে বলা হয় রাতের রাণী। 

কেউ কেউ অতি আকর্ষণীয়া বা প্রলুব্ধকারী রমণী বুঝাতেও হাসানাহেনা ফুলকে তুলনা করেন।  কোন কোন কবি হাসনাহেনার ঘ্রাণের চেয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি দৃঢ় ঈমানকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।  ’হাসনাহেনার ঘ্রাণে ভোলেনা হৃদয় তার, কালেমার মেশক মাখা হৃদয় রয়েছে যার’। 


হাসনাহেনা ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম- Cestrum nocturnum।  হাসনাহেনা সাদামাটা ফুল, তবু কিছুতেই এড়ানো যাবে না এমনই গন্ধের জোয়ার।  যেখানেই ফুটুক, জানান সে দেবেই।  এ ফুলটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রজাতি।  লতানো ধরণের ঝোপাল গাছ।  ডালের গায়ে অজস্র সাদা সাদা তিল থাকে, এদের নাম ল্যান্টিসেল। 

পাতা লম্বাটে, ১৪.৪ থেকে ৩-৪ সেমি, মসৃণ।  বছরে কয়েকবার ফুল ফোটে।  তবে গ্রীষ্ম ও বর্ষায় বেশি ফোটে।  পাতার গোড়া বা ডালের ও আগায় ফুলের ছোট ছোট থোকা, সন্ধ্যায় ফোটে ও সুগন্ধ ছড়ায়।  সাদাটে ফুল নলাকার, ২ সেমি লম্বা, ৫ পাপড়ি।  ফল গোল, সাদা।  কলমে চাষ।   Cestrum diurnum বুনো প্রজাতি, বাংলাদেশেও জন্মে।  গাছ খাড়া, তেমন ঝোপাল বা লতান নয়। 

হাসনাহেনার রাজত্ব শুরু হয় রাতে।  সন্ধ্যা হতে না হতেই ওরা হাত ধরাধরি করি মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়।  মাতাল করা তীব্র গন্ধে সবাইকে সে পাগল করে তোলে।  মুগ্ধতা তার এখানেই। 



keya