১:৫৯ পিএম, ৩০ মে ২০২০, শনিবার | | ৭ শাওয়াল ১৪৪১




ধৈর্য্যের নাম "শেখ হাসিনা"- রাজপথে আজ "বীর সেনা

২৬ মার্চ ২০২০, ০৭:০০ পিএম | নকিব


ধৈর্য্যের নাম "শেখ হাসিনা"- রাজপথে আজ "বীর সেনা

"যার চলে যায় সে বুঝে হায়! বিচ্ছেদের কি যন্ত্রণা"- বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা একটি ইতিহাসের নাম যা বাঙালি কখনো ভুলতে পারবেনা। 

অতীত আলোচনা পিছনে ফেলে বলি...যুদ্ধ পরবর্তী একটি দেশে কিবা থাকতে পারে রাষ্ট্রীয় সম্পদ? আর জাতির জনকের সে সম্পদ হলো তাঁর পরিবার, সুখেই যাচ্ছিলো বাঙালিয়ানায় সাদামাটাভাবে বঙ্গবন্ধুর সংসার।  সে ভয়াল ১৫ই আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য কলঙ্কময়- আর জাতির শোকের দিন। 

একি পরিবারের জাতির পিতাসহ একসাথে ১৭জন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল।  সেসময় প্রাণে বেঁচে যান জাতির জনকের দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা।  কিভাবেই মনকে সান্ত্বনা দেবে পুরো পরিবারের স্বজন হারানোর বেদনা? সেই থেকে শত কষ্ট নিয়ে পিতার আদর্শকে বুকে লালন করে শোক সয়ে যায় আর ধৈর্য্য কাকে বলে সেটাই জাতিকে দেখিয়েছেন। 

ধীরে ধীরে জাতির হাল ধরে বারে বারে প্রধানমন্ত্রী হয়ে হাজারো লোমহর্ষক ঘটনা তাহার উপর দিয়ে গেছে, তারমধ্য নিজের জীবনের উপর মৃত্যু ঝুঁকি এসেছে বহুবার, সেইদিনের গ্রনেড হামলায় দেশবাসীর দোয়ার বদৌলতে পুনরায় বেঁচে যান সেই দিন অসংখ্য নেতা কর্মী নিহত হয়েছে। 

সে বিভীষিকাময় দিনগুলি ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করছেন।  রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালীন বঙ্গবন্ধুর খুনীকে শাস্তি ও মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা বিরোধিতা করেছিলো স্বীকৃতিপ্রাপ্ত " রাজাকারদের"- ফাঁসি কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের উপর বিচার হস্তান্তর করে এবং সেই দোসরদের রায় কার্যকর করা, দুরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। 

তাঁর রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা দেশের যে ক্ষতি -রানা প্লাজা ধ্বসে পড়ায় অসংখ্য লোকের প্রাণহানি-নারায়নগঞ্জের সেভেন মার্ডার ঘটনা-ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা মোকাবেলা- মায়ানমারে নির্বিচারে মুসলিম নিধনের যে হলি খেলায় মেতে উঠেছিলো বিশ্বের কোনো দেশ সে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে কোনো সীমান্ত খুলে দেয়নি। 

আর সহানুভূতি দেখাবে ঐরকম রাষ্ট্র তুরস্ক ছাড়া কেউ প্রকাশ্যে এগিয়ে আসেনি।  সেসময় একমাত্র মুসলিম হিসেবে নয় বরং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষকে আশ্রয় দিয়েছেন মমতাময়ী শেখ হাসিনা।  সেদিন দেশের বিভিন্ন জনের কথার রুল উঠেছে কেন তাদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে? সেদিন সে কঠিন পরিস্থিতিও ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করছেন। 

বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে ধৈর্যের সাথে দেশবাসীকে সেবা প্রদান-দেশের উন্নয়নে সত্যিকারের দেশপ্রেম, সততা, ন্যায় নিষ্ঠা,রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত না করা মানবতার "মা"-জননেত্রী শেখ হাসিনা হলো ধৈর্যের আরেক নাম।  পদ্মা সেতু করার জন্যে বিশাল অর্থায়ন সেটাও ধৈর্য্য পরীক্ষার মাইলফলক যা বিশ্বব্যাংকও অর্থায়নে সহযোগিতা করতে দ্বিধান্বিত ছিলেন। 

আর সে বিশ্বব্যাংকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিয়ে " পদ্মা সেতু"-দৃশ্যমান হয়েছে।  দেশের কোনো বিপদ মুহূর্তে ব্যবহার করেছেন আরেক আস্থার নাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। 

আজ বিশ্বের সকল মানুষ ভয়াবহ মহামারি করোনায় আতংকে হোম কোয়ারান্টাইনে দিনযাপন করছে।  সেই আতংকে আতংকিত না হয়ে অগ্রিম এই মহামারী থেকে পরিত্রাণের জন্য, দেশের মানুষকে সচেতনসহ নিরাপদ করতে স্বীয় পিতা,জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের বহু কাঙ্ক্ষিত বর্ণাঢ্য আয়োজনকে বিসর্জন দিয়েছেন।  দেশের অনেক জায়গায় লকডাউনের আওতায় নিয়ে এসেছেন আর দেশের প্রতিটি জায়গায় সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান ব্যতীত সকল দোকান বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশের জনগণের মঙ্গলের জন্য। 

এককথায় শেখ হাসিনা ও বীর সেনা এই দুইটির উপর দেশের জনগণের আস্থা আছে সেটা কিন্তু সবারই জানা।  সকলেই যেন এই মহা সংকট কাটিয়ে ওঠে সেজন্য করি কামনা। 

লেখক:কলামিস্টঃ চিত্রশিল্পী,মুহাম্মদ শাহীদুল আলম।    
          সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।