৫:২১ এএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, রোববার | | ৯ সফর ১৪৪২




নগরফুল"- আর গৃহবন্দী শিশুদের দিনকাল.

২৪ এপ্রিল ২০২০, ১০:০৫ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলমঃ যদি ফুল ভালোবাসো যদি সুর ভালোবাসো,
যদি ভালোবাসো শিশুর অনাবিল মুগ্ধ হাসি। 

হও সুদক্ষ কৃষক কামার কানে কানে 
মন্ত্র দাও,
শিশু হয়ে উঠুক আগামীর গান অবিনাশী"। 

গ্রামীণ জনপদে আর নগরের পথে-প্রান্তরে,ফুটপাতের অলিতে-গলিতে রেললাইনের দুপাশে আর স্টেশনে অসংখ্য স্থান জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু গুলো কেমন আছে -এই দুর্দিনে? যাদের থাকার মতো ভালো আবাসস্থল নেই, যারা রাত্রিযাপন করে রাস্তার ধারেই - ইট-পাথরের স্তুুপে-ডাস্টবিনের কিনারায়।  
অভিভাবক বলতে থাকা না থাকা একসমান কুঁড়ে ঘরে আসলেও কি না আসলেও কি এই মনোভাবে ঘর হতে বের হওয়া শিশু গুলো বস্তাবন্দি করে, ময়লা আবর্জনা থেকে খুঁজে নেওয়া কিছু বস্তু যেগুলো পুনরায় বিক্রি করে দু-চার টাকা কপালে জুটে,যাদের আমরা " টোকাই"-বলে জানি না আছে তাদের শরীরে দেখার মতো জামা-কাপড়-না আছে শরীরের প্রতি যত্ন!খুবই দুর্দান্ত আর দুরন্তপনায় বেড়ে ওঠা এই শিশুরা দিব্যি ঘুরে বেড়ায় যত্রতত্র আজকের চরম দূর্দশায় তারা আছে কিভাবে? আহার করে কই? জীবনে পাওয়া-না পাওয়ার হিসাব তাদের করার সুযোগ নেই, নেই কোনো দুঃখ-কষ্টের হিসেবে কষতে। টুকিটাকি যা আলাপ তা পথে পথে-চলার পথে দুষ্টুমিতে।  

কেউ কাজে বেরিয়ে যায় একসাথে না হয় দুজনার চলার পথ হয় ভিন্ন।  আবার মিলিত হয় কোনো বস্তিতে নাহয় আগে থেকে চিহ্নিত করা স্থানে।  দুচোখে হতাশার চিহ্ন নেই কোনো বড় হওয়ার দুঃস্বপ্ন আছে শুধু কোনো হৃদয়বানের থেকে পাওয়া সহানুভূতি।  

পিতা-মাতা হারানো এমনও পথশিশু আছে যারা এই ছোট বয়সে ছোট্ট ভাই-বোনের মুখে একটি রুটি তুলে দিতে পরিশ্রম করে। 

 নাহয় সাথে সাথে নিয়ে ঘুরে আর যেখানে রাত হয় সেখানেই তাদের দিনের সূর্য উদিত হয়।  ২০১৫ সালে ১৯শে জুন সেচ্ছাসেবী সংগঠন "নগরফুল"-এই পথশিশু গুলোকে পথশিশু নয় বরং তারা নগরফুল এই স্লোগানে যাত্রা শুরু করে।  

সেই থেকে এরা নগরফুল আমি সেই নগরফুলের কথাই বলছি.....
তারা তাদের মতো করে আছেতো?দু'বেলা আহার জুটলেই চলে, বিনোদন তো তাদের জন্য নয় তারা ভুলে গিয়েছে আনন্দের মুহুর্ত, তাদের চোখে স্বপ্ন দূর-দুরান্তে ছুটে চলা একজন আরেকজনকে দৌড়ায় দিকবিদিক এলোমেলো করে পথচলে ইচ্ছা করে পাথর ছুড়ে হয় আকাশ পানে না হয় সাথীদের পরিবেশগত কারণে তাদের মুখে লেগে থাকে অজস্র গালি কিন্তু তারাই মেনে নিতে পারে আবার সহ্যও করে নে এতেই সুখ। 

 ২০১৮ সালের ইউনিসেফ এর এক সমীক্ষায় দেখা যায় ছিন্নমূল এই পথচারীদের সংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ্যের উপরে তাহলে সেটি এই বছরে আরো বহুগুণে বেড়ে যাবে।  

সাথে সাথে তাদের  কাজের ক্ষেত্রগুলো ধীরে ধীরে পরিসর ছোট হয়ে আসে।  বস্তুত তাদের জীবন খুবই কষ্টের আজ নিজের সন্তানের বেলায় চিন্তা করলে সেটা আয়নার মতো স্বচ্ছ হয়ে উঠে,,,আমরা আমাদের সন্তানের হাতে কলম দিয়ে বড় হওয়ার স্বপ্ন লালন করি কিন্তু তাদের হাতে হাতুড়ি দিয়ে তা ভারী কাজে লিপ্ত করি সেটাতো হওয়ার কথা নয়! 

আমাদের গৃহবন্দী শিশুদের দিনকাল কেমন যাচ্ছে সেটা অভিভাবকদেরই ভালো জানা আছে।  

যৌথ পরিবারে আরো কষ্ট শিশুদের সামাল দেওয়া।  যারা অট্টালিকায় আছেন তাদের ভবনের এক কোনায় একটি "বেলকনিতে" দিন পার করছে বাহিরের এটা-সেটা দেখিয়ে কিন্তু সেইভাবে আর কতোদিন সম্ভব? শিশুদের নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়,,, বাবা আমি বাহিরে খেলব, না বাবা এখন না কালকে খেলবে কিন্তু কালটা তো এখনো তাদের জন্য আসছেনা।  

বাসায় কিছুক্ষণ ছবি আঁকা-খেলনা দিয়ে বসিয়ে দেয়া-টিভি দেখা-মোবাইলে কার্টুন নতুবা গেইমস্ এইতো তাদের বিনোদন।  তবুও তাদের মন ভরে না,,,,বাহিরের খোলা আকাশে মাঠে একটি স্বস্তির নিঃশ্বাস পেতে ছটফট করে।  

বেশি হলে নিচতলায় কোনো বড়সড় জায়গায় ঘুরে নিয়ে আসা এই।  এরপরও কতোই না নিরাপদে নিয়ে আসতে হয় আবার দেখা যায় সেখানেও অনেক শিশুর সমাগম যা থেকে বিরত থাকতে আগাম বার্তা বর্তায়।  

কোন দিকে যাবে,,,,, সবদিকে ব্লক আর লক কি শিশু কি প্রাপ্ত বয়স্ক সবাই একি জালে বন্দী।  কেউ কারো সাথে সন্ধি করার সময় নেই থাকলেও এখন বারণ।  

শিশুদের বিনোদনের নানান সুযোগ থাকলেও প্রতিটি ভবনে কি আর "প্লে-জোন" আছে? থাকলেও তো খেলার অনুমতি নেই আছে মায়ের সাথে বসে অসংখ্য হিন্দি সিরিয়াল দেখে বাংলার আগে হিন্দি ভাষার শব্দ শুনা।  

খেলার মাঠের সেই নির্মল পরিবেশ নেই, নেই কোনো কোলাহল কোনো আকাশে বিমান চলাচলের নেই গুঞ্জন সবই যেন নিস্তব্ধ আর মাঝে মাঝে বৃষ্টির আবছা মেঘের গর্জন যেন মনটা আরো মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।  

শিশুদের নিয়ে অস্কার ওয়াইল্ড -লেখক এবং কবি উনার একটি উক্তি স্মরণে আসে,,,,
"শিশুদের গড়ে তোলার সবচেয়ে উত্তম পন্থা হলো তাদেরকে আনন্দ দেয়া"। 

আজকে আমরা শিশুদের সে আনন্দ হতে বঞ্চিত করতে বাধ্য হচ্ছি তাদের মেধার বিকাশ ও মননে সেই আনন্দ বড়ই প্রয়োজন। 

লেখক:কলামিস্টঃচিত্রশিল্পী,মুহাম্দ   শাহীদুল আলম।     
            সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা । 
 


keya