৭:৩৪ এএম, ২৫ অক্টোবর ২০২০, রোববার | | ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২




নজরদারি বাড়ানোয় শুল্ক দিয়ে স্বর্ণের বার বৈধকরণ বাড়ছে

১৭ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৪০ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কমঃ চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দরে মাত্র ৬ দিনে শুল্ক পরিশোধ করে ৫০ কেজি ওজনের ৩৮৭ পিস স্বর্ণের বার ছাড় করিয়ে নিয়েছেন যাত্রীরা। 

যার বাজার মূল্য ৪০ কোটি টাকার বেশি।  মূলত দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের উপর নজরদারি বাড়াতেই শুল্ক দিয়ে স্বর্ণের বার ছাড় করার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। 

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দরের কাস্টমস অফিসের সামনে দীর্ঘলাইন ধরে দুবাই থেকে আনা স্বর্ণের বার বৈধ করে নিচ্ছেন যাত্রীরা।  কেউ একটি কিংবা কেউ দু'টি বার কাস্টম কর্মকর্তার কাছে ঘোষণা দিয়ে বৈধ করছেন।  এভাবে গত ৬ দিনে ৩৮৭ পিস স্বর্ণ বৈধ করার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা।  এর আগে কখনোই এতো স্বর্ণের বার বৈধ করার নজির নেই শাহ আমানত বিমান বন্দরে। 

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের উপ কমিশনার রোকশানা খাতুন বলেন, 'এই ফ্লাইটটা যেদিন যেদিন থাকে আমরা খুব তৎপর থাকি, তদারকি করি। '

অনুসন্ধানে বের হয়ে আসছে, মূলত দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের বি জি-ওয়ান ফোর এইট ফ্লাইটের যাত্রীদের উপর নজরদারি বাড়াতেই স্বর্ণ বৈধ করার হার বাড়ছে।  গত ১ অক্টোবর ফ্লাইট থেকে ৮২ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধারের পরের শিডিউলে ২৬ পিস স্বর্ণের বার বৈধ করা হয়।  সবশেষ ১৫ অক্টোবর ১৬০ পিস অবৈধ বার জব্দ হওয়ার দিনই বৈধ হয়েছে আরো ১১৫ পিস স্বর্ণের বার। 

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ মুসা খান বলেন, 'যাত্রীরা মনে করছে হয়তো তারা লুকিয়ে নিতে পারবে না।  তখন সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। '

যে কোনো যাত্রী ২০ হাজার ২শো টাকা শুল্ক পরিশোধের মাধ্যমে একটি স্বর্ণের বার বৈধ করতে পারেন।  আর একজন যাত্রী সর্বোচ্চ দু'টি বার বৈধ করতে পারেন।  এ অবস্হায় স্বর্ণ শিল্পের বিকাশে শুল্ক হার কমানোর দাবি জুয়েলারি সমিতির। 

চট্টগ্রাম জুয়েলার্স সমিতি সভাপতি মৃণাল কান্তি ধর বলেন, 'ট্যাক্সটা একটু কমালে সরকারের রাজস্ব বেড়ে যাবে।  মানুষ বেশি করে স্বর্ণ আনবে। '

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দরে গত দু'বছরে তিনশো কেজির বেশি স্বর্ণের বার জব্দ হয়েছে।  এসব ঘটনায় সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে মূল চোরাকারবারীরা।