৯:৩৪ পিএম, ২৩ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার | | ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




নাটোরের ৫ উপজেলায় পুকুর কাটা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

১৪ মে ২০১৯, ০২:১১ পিএম | জাহিদ


সাকলাইন শুভ, বড়াইগ্রাম (নাটোর) : নাটোরের ৫ (নাটোর সদর, নলডাংগা, সিংড়া, বাগাতিপাড়া ও গুরুদাসপুর) উপজেলার অভ্যন্তরে কৃষি জমিতে অবৈধ পুকুর খনন তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।  ঢাকার ‘ল’ ইয়ারস সোসাইটি ফর ল’ নামক একটি মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠনের পক্ষে মহাসচিব অ্যাড. মেজবাহুল ইসলাম আতিকের দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি শেষে রবিবার হাইকোর্টের বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও মোহাম্মাদ আলীর দ্বৈত বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। 

অ্যাডভোকেট মেজবাহুল ইসলাম জানান, ‘ল’ইয়ারস সোসাইটি ফর ল’ নামক একটি মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠনের পক্ষে তিনি  হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে এই রিট পিটিশন দায়ের করেন।  রিট পিটিশন নং ৫৩২৭/২০১৯।  রিট পিটিশনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, নাটোরের জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, সংশ্লিষ্ট ৫ উপজেলার নির্বাহী অফিসারগণ, এসিল্যান্ডগণ, ৫ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণকে বিবাদী করা হয়।  রিট পিটিশনে বলা হয় নাটোরের সর্বত্র তিন ফসলি কৃষি জমিতে চলছে পুকুর খননের মহোৎসব। 

মাটির ব্যবসায়ী, ভাটার ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে কৃষক পুকুর খনন করে মাছ চাষ করে যাচ্ছে।  নাটোর জেলার নাটোর সদর, নলডাংগা, সিংড়া, বাগাতিপাড়া, গুরুদাসপুর-এই পাঁচটি উপজেলায় তিন ফসলি জমিতে অসংখ্য পুকুর খনন করা হচ্ছে।  ফলে আবাদী জমি হারাচ্ছে, করা হচ্ছে মাছ চাষ। 

সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালায় তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের ওপর বিধিনিষেধ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।  

ফলে দীর্ঘ মেয়াদিভাবে খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।  শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট বিবাদীগণের প্রতি রুলনীশি জারী করতঃ নাটোর জেলার উক্ত ৫টি উপজেলায় কৃষি জমিতে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে তদারকি এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।  রিট শুনানিতে সহযোগিতা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জালাল উদ্দিন উজ্জল। 

বিচারকদ্বয় তাদের নির্দেশনায় আরো বলেন, এ নির্দেশ অমান্য করে কেউ কৃষি জমিতে পুকুর খনন করলে তাদের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্ট অবমাননার মামলা করা যাবে।