১১:৫১ এএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | | ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১




নতুন সড়ক আইনের প্রভাবে নেত্রকোণা থেকে দুরপাল্লার বাস চালাচ্ছেন না চালকেরা

১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৫৪ পিএম | নকিব


জাহাঙ্গীর আলম, নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ মঙ্গলবার সকাল থেকে কোন রকম পূর্ব ঘোষনাছাড়াই চালকেরা বাস চালানো বন্ধ রাখায় যাত্রীরা পড়েছেন দুর্ভোগে। 

শহরের পারলা বাসষ্ট্যান্ড থেকে ঢাকাগামীসহ দেশের দুরদুরান্তের কোন জেলার বাস চেড়ে যায়নি।  তবে আন্ত: জেলা বাস চালু রয়েছে।   দুরপাল্লার বাসের যাত্রীরা বাসষ্ট্যান্ডে এসে বাস বন্ধ থাকায় তারা বিপাকে পড়েছেন।  এসময় যাত্রীরা বাস না চলায় ক্ষোভ জানিয়েছেন। 

জেলার কলমাকান্দা থেকে  আরিফুর রহমান সকাল ৯টায় পারলা বাসষ্ট্যান্ডে যান ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু বাস না চলায় তিনি যেতে পারেননি।  আরিফুর বলেন, ঢাকায় বিশেষ কাজ ছিল।  বাসষ্ট্যান্ডে এসে দেখি চালকেরা বাস চালাচ্ছেননা।  তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।  এটা তাদের াধিকার ।  কিন্তু আগে থেকে জানানো দরকার ছিল।  তাহলে আমি অন্য ব্যবস্থা নিতাম।  এখন আমি হয়রানির মধ্যে পড়েছি। 

আরেক যাত্রী  নবারুণ সরকার মদন উপজেলা সদর থেকে সঙ্গে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে এসেছেন।  তিনিও ঢাকা যাবেন।  প্রায় দুই ঘন্টা ধরে বাসষ্ট্যান্ডে বসে আছেন।  তিনি বলেন, চালকেরা আকষ্মিকভাবে কর্মবিরতিতে গিয়ে আমাদের বিপাকে ফেলেছেন।  তারা আমাদের জিম্মি কেন করলেন প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশে কি কোন আইন নেই।  সড়কে এসব অরাজকতা দেখার কি কেউ নাই। 

 বেলা সোয়া ১২টার দিকে নেত্রকোণা সদরের আবুল হাসেম জরুরি প্রয়োজনে ঢাকা যেতে বাসষ্ট্যান্ডে যান।  গিয়ে দেখেন , বাস বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকেরা।  তিনি বলেন, তার মেয়ে ব্যাংককে যাবে।  মেয়ে ঢাকায় আছে।  মেয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আজকেই যেতে  হবে।  তিনি হতাশা জানিয়ে বলেন, এভাবে বিশৃংখল পরিস্থিতি রাস্থায়।  তা কি কেউ দেখবেনা। 

  জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুলহাস মন্ডল সাকি বলেছেন,  আগের যে আইনটা ছিল তা শ্রমিকদের জন্যে ছিল মানসম্মত। নতুন আইনে শ্রমিকদের জন্যে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও মৃত্যুদন্ড যে ধারাগুলো রয়েছে সেধারাগুলো যদি পরিবর্তন করা হয়  তাহলে  শ্রমিকদের জন্যে সুবিধা।  কারণ শ্রমিকেরা ঘাতক নয় তারা সেবক।  তারা ইচ্ছে করে দুর্ঘটনা করেনা।  নতুন যে আইনটা আছে সেটার পরিবর্তন চাই।  সেজন্যে শ্রমিকেরা গাড়ি চালাচ্ছেননা।  আগের আইনটা যদি বাস্তবায়ন হয় সেটাই সবচেয়ে ভাল হয় বলে আমি মনে করি। 

জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম খান বলেন, সকালে ঢাকাগামী বাসে যাত্রীরা উঠে বসেন।  এসময় চালক কাস থেকে নেমে যান।  পরে চালকেরা আর বাস চালাবেনা বলে জানায়।  অনেক চালকের কোন ভারি লাইসেন্স নাই।  কোন কোন চালক বলছেন, তাদের কাগজে ত্রুটি আছে।  এই বলে সব চালকেরা তাদের গাড়ি ষ্ট্যান্ডে রেখে চলে যান।  আন্ত : জেলা বাসগুলো এখন নাগাদ চালু আছে।  আমরা চালকদের সাথে কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করছি যাতে বাস চালু করা যায়। 

পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী বলেন, সকালে বাসষ্ট্যান্ডে গিয়ে বাস মালিক সমিতির নেতাদের সাথে কথা বলেছি।  তারা বাস বন্ধ করেনি বলছে।  শ্রমিকেরা বন্ধ করার কথা জানালে আমরা তাদেরকে বলেছি, যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি চিন্তা করে ব্যবস্থা নিতে।  যদি কোন বাস যেতে চায় সেক্ষেত্রে যেন তাদের বাধা দেয়া না হয়।  

জেলা প্রশাসক মঈন উল ইসলাম বলেন, দুরপাল্লার বাস বন্ধের বিষয়টি সরকার দেখছে।  আন্ত:জেলা বাস চলাচল চালু রয়েছে।