১:১৮ পিএম, ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




নান্দাইলে জাতির বিবেকের চাবি দিয়ে শিকলমুক্ত হলো কিশোর আঞ্জু

১০ মে ২০১৯, ০৩:০২ পিএম | জাহিদ


মো.শাহজাহান ফকির, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) : কথায় আছে সাংবাদিকরা জাতির বিবেক।  আর গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ।  সংবাদকর্মীরদের ক্ষুরধার লেখনিতে অনিয়ম, অন্যায়, দুর্নীতি, কুসংস্কার তুলে ধরা হয় পাঠকের সামনে।  সমাজের মানুষ হয় সচেতন।  আর এই মহৎকাজের দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন সাংবাদিকরা, হচ্ছেন নির্যাতিত এবং হয়রানির শিকার। 

তবু হাজারো অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে জাতির বিবেকের চাবি দিয়ে খুলছে মানবতার তালা।  ঠিক তেমনি ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ভাটি সাভার গ্রামের একটি ঘটনায়।  সাংবাদিক আবু হানিফ সরকার শিকলবন্দি এক কিশোরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে।  আর তা চোখে পরে জাতির আরেক বিবেক মানবতার দেওয়াল দৃষ্টান্তকারী কালের কন্ঠের আ লিক প্রতিনিধি সাংবাদিক আলম ফরাজীর কাছে।  বিষয়টি চোখে পড়ায় শিকলবন্দি কিশোর আঞ্জুর বাড়িতে বৃহস্পতিবার কয়েকজন সাংবাদিক সদস্য সহ উপস্থিত হয় আলম ফরাজী। 

জানা যায়, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ভাটি সাভার বিলপাড় গ্রামের ফখর উদ্দিনের দ্বিতীয় ছেলে মো. আঞ্জু মিয়া।  স্থানীয় পাচাঁনী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীতের পড়তো।  আঞ্জু অসৎ সঙ্গদের সাথে জড়িয়ে ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে উঠে।  পাশাপাশি ছোট খাট সামাজিক অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে।  তাই এরকম সর্বনাশার হাত থেকে রেহাই পেতে নিজের ছেলেকে শিকল বন্ধী করেছিলো তার মা-বাবা।  ১৩ বছর বয়সের স্কুলছাত্রটির দুই পায়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় প্রায় পাঁচ কেজি ওজনের শিকল নিয়ে কখনো খুঁটিতে বাঁধা থাকত, স্বজনদের দৃষ্টির মধ্যে বাড়ির আঙিনায় ঘোরাফেরা করত। 

মাদকাসক্তির কারণে তাকে এভাবে মা-বাবা শিকলবন্দি করে রেখেছিলেন।  ছয় মাস ধরেই চলছিল এ অবস্থা।  ছেলেটির এই অবস্থা দেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্কুলমুখী করতে সব ধরনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে তাকে মুক্ত জীবনে ফিরিয়ে আনেন কালের কণ্ঠের এ প্রতিনিধি সহ চার সাংবাদিক।  পরে শিকল খুলে দিলে সে কি ভালো হয়ে যাবে কি না।  সঙ্গে সঙ্গে তার উত্তর, ‘স্যার, আমার শিকল খুইল্যা দেইন, আর এইগুলি খাইতাম না।  আম্মার আর কান্দন লাগত না। ’

এ সময় জাহেরা বেগম শিকল খুলে দিলে আঞ্জু মাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে।  শিকলের তালা খুলে দেওয়ার  দৃশ্য দেখে সকলেরই চোখই অশ্রুশিক্ত হয়।  এ যেন জাতির বিবেকের চাবি দিয়ে মানবতার বদ্ধ তালা খোলে দেওয়া হলো।  পরে সংবাদিক আলম ফরাজী আঞ্জুর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে এস.এস.সি পর্যন্ত বিনা খরচে পড়ার ব্যবস্থা করে দেন এবং শিকল মুক্ত আঞ্জুকে উপজেলা সদরে একটি স্যালুনে এনে মাথার চুল ছাটাই করে, ব্রাশ, পেস্ট সহ নানাবিধ প্রয়োজনীয় কিছু  বস্তু ক্রয় করে তাকে তার মা-বাবার হাতে তুলে দেন। 

বর্তমানে ছেলেটি তাদের এটুকু ভালোবাসায় যেন নতুন সুস্থ জীবনের স্বপ্ন বুকে বেধেছে।  থাকুক ভালো আঞ্জু, এগিয়ে যাক জাতির বিবেকবৃন্দ।