৫:০৫ এএম, ১৯ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৫ শাওয়াল ১৪৩৯

South Asian College

নান্দাইল বিশাল মার্কেট সহ অন্যান্য মার্কেটে ঈদের অগ্রীম কেনাকাটা জমজমাট

০৭ জুন ২০১৮, ১১:৫৩ এএম | মুন্না


মো.শাহজাহান ফকির, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের নান্দাইলে মুসলমানদের বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে উপজেলা সদরের বিভিন্ন দোকানপাটে ঈদের অগ্রীম কেনাকাটা শুরু হয়েছে।  ঈদের রয়েছে আরো ৯ দিন বাকী। 

এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন বিপনী-বিতান ও প্রসাধনী স্টোরে বাহারি রঙ্গে আলোকচিত্র করায় ক্রেতারে ভিড় জমে উঠেছে।  কেনাকাটার ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে ও ঈদের আনন্দ কাটাতে পছন্দের পোশাক ক্রয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন অনেকেই। 

সরজমিনে, উপজেলার স্বনামধন্য বিশাল মার্কেট সেন্টার, রইছ উদ্দিন মার্কেট ও ইসহাক প্লাজায় বিপনী-বিতান এবং প্রসাধনী স্টোরগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা গত বছরের তুলনায় এবার বেশী লক্ষ্য করা যায়।  বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী সহ স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছাত্রীরা নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক ক্রয়ে বেশী আবেগ প্রবন দেখাচ্ছে।  এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ীগণ ঈদের আগে নিজেদের ব্যবসা ব্যস্ত থাকার জন্য তারাও নিজ পরিবারের জন্য অগ্রীম কেনাকাটা শুরু করেছে বলে মুদি দোকানদার উজ্জল মিয়া জানান।  গার্মেন্টস, কসমেটিক, জুতা ও ইলেক্ট্রেনিক্স দোকানপাটেও ঈদের বেচা-কেনার ধুম পড়েছে। 

নান্দাইল বিশাল মার্কেটে শ্রী গুরু গার্মেন্টসের মালিক প্রদীপ কুমার দাস জানান, ক্রেতাদের মন যোগাতে বাহারি ধরনের ডিজাইন সমৃদ্ধ পোশাক মজুদ করছি।  বিশেষত শিশু-কিশোর-কিশোরীদের জন্য ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকা মূল্যের পোশাক রয়েছে। 

লাইফ স্টাইল গার্মেন্টসের মালিক শহীদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বেচাকেনা খুবই ভালো তবে গত বছরের তুলনায় এবার পোশাকের দাম একটু বেশী।  ঈদে মেয়েদের জন্য আকর্ষণীয় পোশাকের মধ্যে রয়েছে বাহুবলি টু, চম্পাবতী, রাখি বন্ধন, পটল-কুমার, বাজরাঙ্গি, ফোর টাচ, লাসা, লং স্ক্যাট, শর্টস্কাট সহ বিভিন্ন ধরনের থ্রি-পিস ও ফোর পিস পোশাক।  ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ৪৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা মূল্যের পোশাক রয়েছে। 

অপরদিকে রইছ উদ্দিন মার্কেটের জনপ্রিয় টেইলার্স ও বিতানের মালিক জানান, আমরা আধুনিক রুচিসম্মত পোশাক তৈরী সহ বিভিন্ন নামী-দামী কাপড় বিক্রী করছি।  তবে বর্তমানে ক্রেতাদের মাঝে রেডিমেট সম্মত পোশাক ক্রয়ে বেশী আগ্রহ দেখাচ্ছে।  ইসহাক প্লাজার আবুল জানান, জিন্স প্যান্ট, জিন্স শার্ট, পাঞ্জাবী ও মহিলাদের মহারানী পদ্মবতী, টপস লীলাবতী সহ টাঙ্গাইল শাড়ি, জামদানি, খদ্দর, মনিপুরি, বালুচুরি ও জর্জেট শাড়ি ইত্যাদির উপর ক্রেতাদের ভালো চাহিদা রয়েছে।  দামের তুলনা ২৫০ টাকা থেকে হাজার-দশহাজার পর্যন্ত রয়েছে।  শহরের সঙ্গে অনেকেই তাল মিলিয়ে রুচিশীল পোশাক ক্রয়েরও আগ্রহ রয়েছে। 

অনেক বিক্রেতা জানান, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনা বৃদ্ধি পায় এবং তা ইফতার পর্যন্ত চলে।  আমরা পাইকারী ও খুচরা বিক্রয় করে থাকি বলে উপজেলার বিভিন্ন গার্মেন্টস, দর্জির মালিকগণ সহ পার্শ্ববতী উপজেলার ক্রেতাও পাওয়া যাচ্ছে। 

এদিকে ক্রেতা রমজান আলী জানান, ঈদের কেনাকাটার সুযোগে দোকানিরা পোশাকের দাম একটু বাড়িয়ে বলছে।  এর ফলে গরিব ও মধ্যবিত্তরা পোশাক ক্রয় করতে হিমশিম খাচ্ছে।  অপরদিকে ঈদ উপলক্ষ্যে দেশী-বিদেশী ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য সামগ্রীর কোম্পানীগুলো পণ্যে বিশেষ ছাড় দেওয়ায় ক্রেতাদের ভিড় অভাবনীয়।