১২:৪১ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার | | ৬ সফর ১৪৪০


বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

নন্দীগ্রামে আউশের হারানো গৌরব ফিরে এসেছে

০৭ আগস্ট ২০১৮, ০৭:৫৭ পিএম | মাসুম


মোঃ মাসুদ রানা নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি :  বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার  চলতি আউশ মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।  এক সময় নন্দীগ্রাম উপজেলা থেকে আউশ চাষ প্রায় বিলীন হয়ে গিয়েছিল।  কিন্তু কৃষি অধিদপ্তরের অক্লান্ত পরিশ্রমে সেই আউশের হারানো গৌরব আবার ফিরে পাচ্ছে।  অল্প খরচে বেশি লাভ এই আউশ চাষে কৃষকরা আবার ঝুঁকছে। 

আউশ মৌাসুমের মাঝামাঝি এই সময় ধানের শীষ বের হয়ে পাকতে শুরু করেছে ।  আবার মাঠের পর মাঠ শোভা পাচ্ছে সবুজের সমারোহ।  আর এ সময়েই লকলকে তরতাজা সবুজ গাছগুলোতে পোকামাকড় দমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। 

উপজেলার বাদলাশন গ্রামের কাসেম আলী, ধুন্দার গ্রামের তোতা মিয়া, বৈলগ্রামের আবুল কালাম সহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই বুক ভরা আশা নিয়ে দিনভর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাঠে কাজ করছেন।  উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাগেছে, এ বছর চলতি আউশ মৌসুমে শুধু নন্দীগ্রাম উপজেলায় ৮ হাজার ২শ ৫৭ হেক্টর জমি চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হলেও অর্জিত হয়েছে ৯হাজার ৫শ হেক্টর।  আর এই জমি থেকে ৩০ হাজার ৫শ ৮৩ মেট্রিক টন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। 

এ বছর কৃষকরা জমিতে ব্রি-ধান ৫৮, ৫৫ ও ৫ জাতের ধান চাষ করেছে।  এ বছর ভাল আবহাওয়া রোগ বালাই কম কৃষি অফিসের সময় মত পরামর্শ পেয়ে কৃষকরা জমিতে যে পরিশ্রম করেছে তাতে বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । 

বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মাঠের পর মাঠ যেন সবুজের সমারোহ।  বের হচ্ছে ধানের সোনালী শীষ।  বাদলাশন গ্রামের জামিল হোসেন জানান, যাতে কোন রোগ ও পোকা-মাকড় আক্রমন করতে না পারে এ জন্য এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে আগেই ধান গাছে কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে।  একই মাঠে একটু দুরে গিয়ে আউশ ধান ক্ষেতে কৃষক মামুন জানালেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এখন পর্যন্ত আউশ ধান ক্ষেত ভালোই আছে। 

এছাড়া এ উপজেলার বেশ কয়েক জন সাধারণ কৃষকদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, আমরা কৃষি অফিসের পরামর্শে সঠিক সময়ে সঠিক বয়সের চারা সারিতে রোপন  করেছি এতে করে আমাদের ফসল অনেক ভালো হয়েছে। 

উপজেলা কৃষি অফিসার মোহা. মশিদুল হক জানান, এ উপজেলার কৃষকরা পরামর্শমত ধান চাষ করেছে, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না দেখা দিলে আউশ ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। 


keya