৯:৪৬ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

নন্দীগ্রামে শীতের শুরুতেই কুমুর বড়ই তৈরীর ধুম পড়েছে

১৪ নভেম্বর ২০১৭, ০৬:৫৯ পিএম | রাহুল


মোঃ মাসুদ রানা, নন্দীগ্রাম, বগুড়া প্রতিনিধি: শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার জনপ্রিয় খাবার কুমুর বড়ই তৈরির হিড়িক পড়েছে। 

গ্রামাঞ্চলে শীতের সুস্বাদু খাবার এই কুমর বড়ই।  গ্রামের প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে বিশেষ করে হিন্দু পরিবারের গৃহবধুরা মৌসুমি খাদ্য হিসেবে কুমুর বড়ই তৈরি করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টায় নিয়োজিত রয়েছে।  জানা যায়, মাশকালাই ডাল থেকে তৈরি করা এই সুস্বাদু খাবার শুধু শীতের সময়ই তৈরি এবং বিক্রি হয়ে থাকে।  যা সারা বছরের খাদ্য হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।  সবজি তরকারি ছাড়াও প্রায় সব তরকারিতে এই  খাদ্য সহযোগী উপাদান হিসেবে ও আলাদাভাবে ভর্তা করেও কুমুর বড়ই খাওয়া যায়। 

নন্দীগ্রাম উপজেলার নুন্দহ, কল্যান-নগর, হাটধুমা সহ বিভিন্ন গ্রামের গৃহবধুদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি শীত মৌসুমে নন্দীগ্রাম উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতে কুমুর বড়ই তৈরির ধুম পড়ে যায়।  বিশেষ করে উপজেলার হাটধুমা গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে তৈরির করা হচ্ছে কুমুড় বড়ই।  কুমুর বড়ই তৈরির পর স্থানীয় ও পাশ্ববর্তী উপজেলার দোকানিরা এসে কিনে নিয়ে যায়।  এতে করে নিজেদের খাবারের পাশাপাশি বিক্রয় করে বাড়তি আয় হয় বলে গৃহবধুরা জানালেন।  হাটধুমা গ্রামের হাজেরা বেগম নামের এক গৃহবধূ বলেন, কুমুর বড়ই তৈরি করতে প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয় মাশকালাই ডাল।  এটি আসল কুমুর বড়ই।  তবে এর সঙ্গে চাল মিশিয়ে যে বড়ই তৈরি করা হয় তার কদর থাকলেও মান ভাল না। 

কুমুর বড়ই তৈরির প্রক্রিয়া হিসেবে বলেন, সারা রাত পানিতে মাসকালাই ডাল ভিজিয়ে রাখার পর তা পিঁষে প্রতিদিন ভোরে গ্রাম্য বধুরা পাতলা কাপরের ওপর রোদে শুকাতে দেয়া হয়।  দেড় থেকে দুই দিন শুকানোর পর কুমুর বড়ই খাওয়ার উপযোগী হলে বিভিন্ন দোকানে পাইকারী এবং খুচরা বিক্রয় করা হয়।  কখনও কখনও বড় বড় মহাজন ও ছোট ছোট দোকানিরা নিজেরাই এসে কিনে নিয়ে যায়।  নন্দীগ্রাম হাটের কমুর বড়ই বিক্রেতা কার্তিক চন্দ্র বলেন, মাসকালাই থেকে তৈরি আসল কুমুর বড়ই প্রতি কেজি ২৫০টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।  অন্যান্য মানের কুমুর বড়ই ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়।  নভেম্বর/ডিসেম্বর মাসে কুমুর বড়ই তৈরির উপযুক্ত সময়।  এই দুই মাসে যতটুকু কুমুর বড়ই উৎপাদন করা হয় তা বছরজুড়ে বিক্রি হয় বলে তিনি উল্লৈখ করেন।