১০:৩৪ পিএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার | | ৬ রবিউস সানি ১৪৪০




নানা আয়োজনে লালমনিরহাট মুক্ত দিবস পালিত

০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৩:১০ পিএম | জাহিদ


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট : নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাটে হানাদারমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে।  বৃহস্পতিবার  সকালে দিবসটি উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ হতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। 

শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ডাকবাংলো মাঠে এসে জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।  লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফের 

সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, পুলিশ সুপার এস.এম রশিদুল হক, সিভিল সার্জন ডা: কাশেম আলী, ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক বীর প্রতিক, গেরিলা লিডার ড. এস.এম শফিকুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক এ্যাড. বাদল আশরাফ, বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দিক, আমিনুর ইসলাম।  স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমিনুর রহমানমুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা ও উপজেলা কমান্ডারসহ মুক্তিযোদ্ধারা। 

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা লালমনিরহাট শহরকে পাকহানাদার মুক্ত করতে তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে আক্রমণ পরিচালনা করে।  মিত্রবাহিনী ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যৌথ আক্রমনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী বিপর্যয়ের মুখে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। 

তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে পাক হানাদার বাহিনী, রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও তাদের দোসর অবাঙ্গালীরা দুটি স্পেশাল ট্রেন যোগে রংপুর ও সৈয়দপুরে পালিয়ে যায়।  লালমনিরহাট জেলা পাক হানাদার মুক্ত হয়।  এর আগের দিন ১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় লালমনিরহাট রেলওয়ে রিক্সা স্টান্ডে পাকহানাদার বাহিনী ও রাজাকাররা গণহত্যা চালায়। 

এ সময় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী, বুদ্ধিজীবিসহ ৩৭৩ জন নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যা করে পাকহানাদার বাহিনী।  পরে গণহত্যায় নিহত লোকদের রেল স্টেশনের দক্ষিণ পাশে একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।  ওই পুকুরটি এখন একটি গণকবর। 



keya