১১:১২ পিএম, ১৭ জানুয়ারী ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০




নবীগঞ্জের অরবিটের এক চিকিৎসক সুস্থ শিশুকে প্রেরণ করলো অন্য হসপিটালে

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:২০ এএম | জাহিদ


মিজানুর রহমান, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি বাজারে অবস্থিত অরবিট নামের একটি প্রাইভেট হসপিটালের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।  এ নিয়ে ওই এলাকায় নানা আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। 

সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের ফুলতলী বাজার এলাকার বাসিন্দা প্রাণ কোম্পানীর শ্রমিক রুবেল মিয়া ও শিরিনা আক্তারের ৪০ দিন বয়সী শিশু ইসমত নাহার জিবা ঘনঘন হেচকি দেওয়ায় গত ৩১ আগস্ট সকালে আদরের শিশু সন্তান জিবাকে নিয়ে স্থানীয় আউশকান্দি বাজারের অরবিট হসপিটালের নবজাতক ও শিশু-কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ এ.এইচ.এম খায়রুল বাশারের শরণাপন্ন হন।  ৫ শ টাকা ভিজিট রেখে কিছু ঔষধ লিখে দেন এবং পরদিন শিশুর অবস্থা জানানোর জন্য পরামর্শ দেন ওই চিকিৎসক। 

কিন্তু পরের দিন শিশুটি আগের মতোই রয়েছে একথা জানালে ডাঃ খায়রুল বাশার শিশুটির অবস্থা আশংকাজনক বলে উল্লেখ করে মৌলভীবাজারের মামুন হসপিটালে ভর্তি করে সেখানের ডাঃ বিশ্বজিতের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তাদের।  সেখানে গিয়ে ডাঃ বিশ্বজিতের সাথে ফোনে কথা বলিয়ে দেয়ার জন্যও বলে দেন ওই শিশুর মাকে।  আর্থিক সঙ্গতি না থাকলেও শিশুর প্রাণ রক্ষার্থে দ্রুত মৌলভীবাজার ছুটে যান শিশুর মা শিরিনা আক্তার।  সেখানে যাওয়ার পর খোঁজে বের করেন ডাঃ বিশ্বজিতকে। 


এমনকি তার সাথে শিরিনা আক্তারের মোবাইল ফোন দিয়ে কথা বলেন ডাঃ খায়রুল বাশার।  পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ডাঃ বিশ্বজিত মোবাইল ফোনে ডাঃ খায়রুল বাশারকে জানান ‘শিশু জিবা পুরো সুস্থ আছে।  কিন্তু এ সময় সম্পূর্ণ সুস্থ জিবাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন ডাঃ খায়রুল বাশার। ’ সে অনুযায়ী রাতে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় জিবাকে।  মোবাইল ফোনে তাদের কথোপকথনে শিশুর মা শিরিনা আক্তারের মনে নানা সন্দেহের দানা বাঁধে।  শিরিনা আক্তারের মোবাইল ফোনে অটো কল রেকর্ড এপস ইনস্টল করা ছিল।  তা জানতোনা ওই দুই চিকিৎসক। 

মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডে দুই চিকিৎসকের কথোপকথনের কিছু অংশ হু-বহু তুলে ধরা হলো :

ডাঃ বিশ্বজিত- ‘দোলা ভাই তোমার রোগী তো খুবই ভালা আছে।  কোন সমস্যা নাই, মা কান্দতে কান্দতে শেষ’। 
ডাঃ খায়রুল বাশার- ‘আমিতো জানি রোগী ভালা, ভালা ভোলা কওয়ার দরকার নাই, ভালা জীবনেও কইছ না, বল রোগী খারাপ আছে, ভর্তি করে রাখো, ভালো করে চিকিৎসা দে।  ইনজেকশন টিনজেকশন মার।  নাইলে শান্তি হইতো নায়। ’ এসব কথা বলে হেসে হেসে ফোন রেখে দেন ডাঃ বিশ্বজিত।  তাদের কথা বার্তায় সন্দেহ হওয়ায় মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডটি শুনে প্রতারনার বিষয়টি আঁচ করতে পারেন জিবা’র মা। 

এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে শিশু জিবার মা শিরিন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘ডাক্তারের কাছে মানুষ যায় শান্তির জন্য, কিন্তু তিনি আমার সাথে এমন প্রতারণা করছেন যা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিনা।  আমি গরিব মানুষ এতো টাকা ঋন করে নিয়ে গিয়ে হসপিটালের ভর্তি হয়ে পরে সিট কেটে বাড়ি ফিরেছি। ’ ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটি জানিয়েছি, হাটতে হাটতে স্যান্ডেল ছিড়েছি কিন্তু বিচার পাইনি। ’ তিনি চিকিৎসার নামে এমন প্রতারণার সুষ্ট বিচার দাবী করেন।  যাতে তার মতো অসহায় সাধারণ মানুষ প্রতারনার শিকার না হয়। 

এ ব্যাপারে গত শুক্রবার সকালে অরবিট হসপিটালে গেলে ডাঃ এএইচএম খায়রুল বাশার জানান, ওই শিশুকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছেন মাত্র।  এর বাহিরে কোন কথা বলতে রাজি হননি ওই চিকিৎসক। 


keya