৬:৫৩ পিএম, ২৭ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২৩ শাওয়াল ১৪৪০




নবজাতক রাজকুমারী পেল আইনগত অভিভাবক

২৫ মে ২০১৯, ০৯:৩৫ পিএম | জাহিদ


তানভীর আহমেদ হীরা, জামালপুর : জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার শ্বশানঘাট থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক দিনের কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতক রাজকুমারীর আশ্রয় আইনগত অভিভাবক আজমীরা বেগম নামের এক দম্পতির স্নেহময় কোল।  বর্তমানে মায়ের পরম ভালোবাসায় বুকের দুধ পান করছে শিশু কন্যা রাজকুমারী আর এতেই পরম ভাল বাসায় ঘর ভরে উঠছে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আনন্দ উচ্ছাসে। 

নিঃসন্তান আজমেরীর জীবনে ঘটলো এক অলৌকিক ঘটনা।  তার  বুকে দুধ এসেছে, যেন সদ্যপ্রসূত এক মা।  দেখে মনে হয় তিনিই এই সন্তান জন্ম দিয়েছেন।  নিঃসন্তান আজমেরি বেশ কিছুদিন ধরে রাজকুমারীর পাশে অবস্থান করছেন।  হাসপাতালের বিছানায় খাওয়া-দাওয়া ভুলে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন আজমেরি ও সুজন মিয়া দম্পতি।  চলতি বছর ২৯ মার্চ শুক্রবার বকশীগঞ্জ পৌর এলাকার শ্বশানঘাটিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক নবজাতককে পাওয়া যায়। 

স্থানীয়রা নবজাতকটিকে উদ্ধার করে কাউন্সিলর রহিমা বেগমকে খবর দেন।  তারপর সেখার থেকে থানায় সাধারন ডায়রি করার পর থেকে চলে আইনি প্রক্রিয়া।  তখন থেকে রাজকুমারীকে দেখভাল করে আসছেন নিঃসস্তান আজমেরি ও সুমন মিয়া।  বতর্মানে রাজকুমারীর বয়স এখন প্রায় ২ মাস।  সাংবাদিকরা নবজাতকের নাম দেন রাজকুমারী।  পরবর্তীতে রাজকুমারীকে দত্তক হিসেবে পাওয়ার আশায় আদালতের দারস্থ হন নিঃসন্তান আরেক দম্পতি।  আদালত উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ শেষে গত মঙ্গলবার ২০-৫-১৯ পারিবারিক জজ আদালত বকশীগঞ্জ জামালপুর, ফারজানা আকতারের আদালত নবজাতক কন্যা শিশুর শরীরের উপর আইনগত অভিভাবক নিযুক্তের রায় দেন নিঃসন্তান আজমেরি বেগম ও সুমন মিয়াকে। 

সেই সাথে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নাবালিকা কন্যা শিশুর অনুকুলে কোন তফসিলী ব্যাংকে ২০ লক্ষ টাকা স্থায়ী আমানত জমা রাখার শর্তে দরখাস্থ মুঞ্জর করেন।  এদিকে নতুন করে শিশুটির নাম রাখা হয়েছে আজমেরি জান্নাত রাজকুমারী।  নিঃসন্তান দম্পতি শিশুটিকে নিয়ে আনন্দে দিন কাটাচ্ছেন, রাজকুমারী পেয়েছে দাদা-দাদী সহ পরিবারের অনেক শুভাকাঙ্খী। 

এই কন্যা শিশুকে দেখতে প্রতিদিন বাড়িতে জমছে সাধারন মানুষের ভীড়।  এলাকার সাধারন মানুষ ও পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন আজমীরার কাছে নিরাপদে আছে রাজকুমারী, নবজাতকের বাবা-মা আশা করছেন তাকে মানুষের মত মানুষ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করবে।  

রাজকুমারীর বাবা সুমন মিয়া জানান, আমার জীবনে যা উপার্জন করেছি সব কিছুর বিনিময়ে আমার মেয়েকে বুকে আগলে রাখবো।  মেয়েকে মানুষের মত মানুষ করবো। 

বকসিগঞ্জ পৌর কাউন্সিলর রহিমা বেগম জানান,বতর্মানে রাজকুমারীর মা আজমীরা বেগমের পরিবারে কাছে সঠিকভাবে পরিচর্যা পাচ্ছে, তাদের কাছেই নিরাপদে রয়েছে।  আমি প্রতিদিন খবর নিয়ে যাচ্ছি  নবজাতকের কোন সমস্যা নেই। 


keya