৭:৫১ এএম, ১ জুন ২০২০, সোমবার | | ৯ শাওয়াল ১৪৪১




নবতরুণের জয়-জয়গান, দুর্দিনেরই বিজয়নিশান

০১ এপ্রিল ২০২০, ১১:৩৫ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলমঃ
"হেলেন কেলার"-বিখ্যাত মার্কিন লেখক তিনি উক্তি করেছিলেন, It’s not possible for civilization to flow backward while there is youth in the World. Youth may be headstrong,but it will advance  it’s allotted length. অর্থাৎ যতোদিন এই তরুণরা সমৃদ্ধের নেতৃত্ব দেবে ততোদিন পিছু হটার ভয় নেই এই বাংলাদেশের। 

তারুণ্যের দীপ্ত শক্তি নিয়ে শির উঁচু করে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।  বিশ্ব দরবারে অবস্থান করে নিবেই। 

তরুণরা হলো সমাজের অনুপ্রেরণারএক অজেয় শক্তি, চেতনার উৎস। 

তরুণদের সামনে যতো অভয়,অপশক্তি,কঠিনেরে জয় তারুণ্যের অদম্য সাহসের কাছে ধরা দিবে এবং পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হবে।  একটি দেশ উন্নয়নের চরম শিখরে পৌছানোর পিছনে ভুমিকা রাখে তারুণ্যের শক্তি ও তরুণদের কর্মের গতিশীলতা। 

তাদের কাছেই তো নিরাপদ সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমমূলক কর্মকাণ্ড ও সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ।  তাঁরাইতো নব সৃষ্টির পেছনে দৌড়ায় আর মেধাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বকে দেখিয়ে দে তরুণরাই এগিয়ে।  তরুণরাই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে সুবিধা বঞ্চিত, পাহাড়ের জনপদে, অবহেলিতদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে আলোকিত করেছে। 

মহান ভাষা আন্দোলনেও তরুণদের ভুমিকা কখনো কেউ অস্বীকার করতে পারেনা,মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তরুণদের যে অসামান্য অবদান এই জাতির জন্য সেটাও কোনো কালে যতোদিন এই দেশ থাকবে,যতোদিন বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি দেশ থাকবে ততোদিন তরুণদের জয়গান গাইতে হবে।  দেশের দুঃসময়েও দিকহারা জাতিকে আলোর পথে দিশা দিতে নির্ভীক আর সাহসের সাথে এগিয়ে আসে তরুণ-সমাজ। 

তারাইতো বিভিন্ন দূর্যোগে ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়ায় তাদের দুয়ারে দুয়ারে যেয়ে পৌঁছায় ত্রাণসামগ্রী।  বন্যায় পানি বন্ধিরা যখন ঘর হতে বের হওয়ার সুযোগ হয়না, কারো ঘরে চুলায় আগুন জ্বলেনা ঠিক ঐ সময় কষ্টগুলো নিজের বুকে ধারণ করে অন্যের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার কাজটি তরুণরাই করে। 

দেশের বড় বড় শিল্প কারখানায় নিয়োজিত লাখো লাখো তরুণের ঘাম জড়ানো ত্যাগের বিনিময়ে বিশ্বে সুনাম অর্জন করছে। 

শ্রম বাজারে একমাত্র তরুণরাই টিকিয়ে রেখেছে আর বহির্বিশ্বে কোটি কোটি টাকা রেমিট্যান্স পাঠানো হচ্ছে বেশিরভাগই তরুণদের দ্বারা উপার্জিত অর্থ যা দেশের মেরুদণ্ডকে উঁচু রেখেছে।  

নজরুল কবি বলেন,,,,,,"কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘুর্নিপাকে"- আজ অব্দি বৈমানিকরা দেশ হতে দেশান্তরে বিমান নিয়ে ঘুরে বেড়ায় তরুণরাই। 

গভীর সমুদ্রে সমুদ্র পাহাড়ায় নিয়োজিত নৌসেনা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে "রোমাঞ্চকর"-সময় পাড়ি দিচ্ছে টগবগে তরুণরা। 

সমাজের-দেশের ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সংগঠনের মাধ্যমে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদিত হয় তরুণদের মাধ্যমে, তাদের হাত ধরেইতো সংগঠন বেঁচে থাকে আর প্রাণসঞ্চার হয় প্রতিটি কাজে। 

দেশের সীমান্ত রক্ষায় বীরদর্পে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে নৌজোয়ান সৈনিকরা তাদের দক্ষতা-সাহস-ত্যাগের বিনিময়ে আমরা দেশের অভ্যন্তরে স্বাধীনতার স্বাদ নিচ্ছি।  এই নব তরুণদের সাথে নিয়ে অনেক বড় কাজ করাও সম্ভব আবার একটি সুশৃঙ্খল সমাজ কাঠামো -সংগঠিত সংগঠন ভেঙেও যায়। 

সুতরাং তরুণ যুব সমাজরাই পারে সমাজের অসংগতি -অপসংস্কৃতি-কুসংস্কার দূর করে জাতিকে সুন্দর একটি দেশ গড়তে।  বিশ্বের সর্বোচ্চ দালান, বড় বড়ো সেতু, রাস্তাঘাট নির্মাণ, আশ্চর্যজনক যা কিছু মানবসৃষ্ঠ সবকিছুর পেছনে তরুণদের ভুমিকা প্রতীয়মান। 

চট্টগ্রাম কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীর কবিতা লেখা দুটো চরণ মনে পড়ে,,তরুণদের উজ্জীবিত করতে খুবই প্রয়োজন।  " তরুণেরা জেগেছে আজ ভেঙে সকল লাজ, পারবেনা কেউ তারুণ্যেকে দমাতে আর,পারবেনা কেউ রুখতে।  সমাজ থেকে মুছে দেবো সব অন্যায় অনাচার,মুছে দেবো ধর্ষণের মতো নারীদের সাথে অবিচার।  ভেঙে দেবো আজ সব অসাম্য সমাজের যতো অকল্যাণ য তরুণ দিয়েছিলো একাত্তরেও প্রাণ। 

এই তরুণদের নিয়ে কতো জয়গান গেয়েছেন কবি-সাহিত্যিকরা তাইতো নজরুল-সুকান্তের কথা বলি,আর তাঁরাই যে তারুণ্যের প্রতি সাহস যুগিয়েছে সেই সাহসেই চলি। 

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখেন তরুণরা বসে নেই যদিও নির্দেশ গৃহে থাকার তারপরও অন্যের মুখে অন্ন তুলে দিতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ছে মাস্ক বিতরণে-পাড়ায় পাড়ায় জীবাণু দূর করার জন্যে স্প্রে করতে-ত্রাণবিতরণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহসী যুবকরা যাদের মনোবল হারায়নি হৃদয় থেকে। 

এই তরুণদের যদি নৈতিক শিক্ষায় আরদেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করা যায় একটি দেশ ততো উন্নতির দিকে ধাবিত হবে।  আর যদি নৈতিক শিক্ষার অবক্ষয় আর দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ না হয়ে খারাপের পথে চলে তাহলে তরুণরাই অভিশাপে পরিণত হবে।  এই তারুণ্য শক্তিকে যথাযথ কাজে লাগিয়ে শানিত করা যায় তাহলেই দেশের কল্যাণ অনিবার্য।  তারুণ্যের শক্তিতে এগিয়ে যাক প্রিয় বাংলাদেশ। 

লেখক:কলামিস্টঃ চিত্রশিল্পী,মুহাম্মদ শাহীদুল আলম।    
    সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।