১২:২৩ এএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রোববার | | ৭ রবিউস সানি ১৪৪০




‘নবীপ্রেমিক খাঁটি উম্মত হওয়ার রূপরেখা দিয়ে গেছেন গাউছুল আজম (রাঃ)’

২৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:৩৫ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মহান মোর্শেদ আওলাদে রাসূল হযরতুলহাজ্ব আল্লামা অধ্যক্ষ শায়খ ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ্ আহমদী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী বলেছেন, নবীজীকে ভালোবাসতে হবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে, নবীজীর জীবনাদর্শে গড়তে হবে জীবন, নিজের সবকিছু উজার করে দিতে হবে নবীজীর ভালোবাসায় - এভাবে ভালোবেসে মুসলিম মিল্লাতকে নবীপ্রেমিক খাঁটি উম্মত হওয়ার রূপরেখা দিয়ে গেছেন কাগতিয়া দরবারের প্রতিষ্ঠাতা হযরত গাউছুল আজম (রাঃ)।  যিনি অগনিত যুবককে নূরে বাতিন দিয়ে করেছেন নবীপ্রেমিক তাকওয়াবান, পেয়েছেন খলিফায়ে রাসূলের মর্যাদা।  

বিশ্বব্যাপী মুসলিম জাতি বিশেষ করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নিযার্তন এবং মুসলমানদের প্রথম ক্বিবলা বায়তুল মোকাদ্দাসধন্য ফিলিস্তিনের রাজধানী জেরুজালেম দখলের যে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এসব ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে হলে মুসলমানদেরকে তরিক্বতের চর্চায় রূহানীশক্তিতে জাগরিত ও দৃঢ় ইমানী চেতনায় তেজোদীপ্ত হতে হবে, মুসলিম মিল্লাতের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে সুদৃঢ় করতে হবে। 

প্রধান অতিথি যুব সমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, আলোকিত যুব সমাজ গড়তে পারে একটি পাপমুক্ত মানবিক বিশ্ব।  আর এ ধরনের আলোকিত যুব সমাজ গড়তে বিশ্বব্যাপী কাজ করছে কাগতিয়া দরবার ও মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি।  যুগশ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক মহামনীষী গাউছুল আজম (রাঃ)’র জীবন, কর্ম ও দর্শনে রয়েছে যুব সমাজের জন্য আলোর দিক নির্দেশনা।   

(২৫ ডিসেম্বর) সোমবার পবিত্র জশ্নে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) ও কাগতিয়া দরবারের প্রতিষ্ঠাতা খলিলুল্লাহ আওলাদে মোস্তফা খলিফায়ে রাসূল হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (রাঃ) স্মরণে এ কনফারেন্সের আয়োজন করে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর এর সভাপতিত্বে কনফারেন্সে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক ও বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন এর সভাপতি আলহাজ্ব এ. এম. এম বাহাউদ্দিন, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ. কে. এম. ছায়েফ উল্যা, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন এর মহাসচিব ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এর সিন্ডিকেট সদস্য, হযরতুলহাজ্ব অধ্যক্ষ আল্লামা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী, তারুণ্যের প্রতীক বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোহম্মদ নেজাম উদ্দিন প্রমূখ। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ. এম. এম বাহাউদ্দীন বলেন, ইসলামের খেদমতে এবং সুন্নাতে নববীর প্রচারে আল্লামা অধ্যক্ষ ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ্ আহমদী দেশ-বিদেশে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন, দেশ ও মুসলিম মিল্লাতের কল্যাণে এ ধরনের আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের আজ বড়ই প্রয়োজন। 

বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ছায়েফ উল্যা বলেন, যুব সমাজকে তরিক্বত চর্চার মাধ্যমে কোরআন-সুন্নাহ্র পথে জীবন গড়তে সর্বোচ্চ প্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন কাগতিয়া দরবারের মোর্শেদে আজম অধ্যক্ষ ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ্ আহমদী।  তাঁর এ আধ্যাত্মিক কর্ম-তৎপরতা বহির্বিশ্বেও বেশ সমাদৃত হয়েছে। 

জমিয়তুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব আলহাজ্ব শাব্বির আহমদ মোমতাজী বলেন, আমি যেখানেই যাই কাগতিয়া দরবারের যুবকদের কথা বলি, তাঁদের বিনয়, আল্লাহভীতি ও নবীপ্রেমের কথা বলি।  কাগতিয়া দরবার ও মুনিরীয়া যুব তবলীগের সাথে সম্পৃক্ত যুবকদের ভদ্রতা ও শৃঙ্খলাবোধ যে কাউকে আকৃষ্ট করবে। 

ব্যারিষ্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আধ্যাত্মিক কর্মবীর কাগতিয়া দরবারের মোর্শেদে আজম দেশে ইসলামী শিক্ষার প্রসারেও অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।  এ নিবেদিত শিক্ষাবিদ ও শিক্ষানুরাগীর মেধা, শ্রম ও প্রচেষ্টায় আজ কাগতিয়া কামিল এম.এ. মাদ্রাসা আজ শুধু চট্টগ্রামে নয়, পুরো দেশের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক মাদ্রাসায় পরিণত হয়েছে। 

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর বলেন, তরিক্বতের মাধ্যমে ছাত্র ও যুবকদেরকে মাদক, সন্ত্রাসসহ সকল অপরাধমূলক কাজ থেকে মুক্ত করে পরিশীলিত জীবনযাপনে প্রেরণা যোগাচ্ছে কাগতিয়া দরবার ও মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি।  এতে অন্যান্যদের মধ্যে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক  মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, নাজিরহাট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম মহসিন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মোঃ মুহিউদ্দীন, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মোঃ গোলাম কিবরিয়া, মোহাম্মদ বোরহানুল সালেহীন চৌধুরী, মোহাম্মদ ওসমান গণি, গহিরা ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আবছার। 

কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ ইব্রাহীম হানফি, আল্লামা মুফতি আনোয়ারুল আলম ছিদ্দিকি, আল্লামা মোহাম্মদ আশেকুর রহমান, আল্লামা এমদাদুল হক মুনিরী, আল্লামা মোহাম্মদ সেকান্দর আলী ও আল্লামা মুহাম্মদ মুহাম্মদ ফোরকান ।   এদিকে গাউছুল আজম কনফারেন্সকে ঘিরে সপ্তাহ জুড়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে।  শহরের প্রায় সকল রাস্তা ও মোড়ে ফেস্টুন, ব্যানার এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আলোকসজ্জিত করা হয়।  শুধু চট্টগ্রাম শহর নয়, আশপাশের উপজেলা রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারাতেও সাজ সাজ রব পড়ে।  শহরের প্রবেশমুখগুলোতে উত্তোলণ করা হয় তোরণ। 

এদিন কনফারেন্সে যোগ দিতে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে দলে দলে ধর্মপ্রাণ মুসলমান গাড়িযোগে সম্মেলনস্থল লালদীঘি ময়দানে আসতে শুরু করে।  সপ্তাহখানেক পূর্ব থেকে দেশের বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, আমেরিকা, কানাডা ও  অস্ট্রেলিয়া থেকেও কাগতিয়া দরবারের অনুসারী শত শত প্রবাসী বাংলাদেশে আসতে থাকেন।  এছাড়া দেশবরেণ্য বহু ওলামায়ে কেরাম, শিক্ষাবিদ, শহরের গন্যমান্য ব্যাক্তি, সাংবাদিক ছাড়াও সর্বস্তরের লাখো ধর্মপ্রাণ সুন্নি জনতা উপস্থিত ছিলেন।  মাগরিবের আগেই কনফারেন্সস্থল লালদীঘি মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তা পূর্ণ হয়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয়।    

মিলাদ ও কিয়াম শেষে প্রধান অতিথি দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং দরবারের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম (রাঃ)’র ফুয়ুজাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করেন। 



keya