১১:৫৪ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রোববার | | ৭ রবিউস সানি ১৪৪০




নারী পুরুষের মুজুরি বৈষম্য, শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের কথা

৩০ এপ্রিল ২০১৮, ১০:৫৭ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : ১ মে বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের জন্য একটি মহান দিবস।  শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের বিষয় আসলেই প্রথমে উঠে আসে মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের কথা।  আগে শ্রমিকদের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হতো।  অনেক ক্ষেত্রে কাজের মাত্রা ছিল আরো বেশি, যেটি ছিল অত্যন্ত অমানবিক এবং অসম্ভব।  যে কারণে শ্রমিকরা দিনে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলেন। 

এর অংশ হিসেবে ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের সামনে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছিলেন।  তাদের ঘিরে থাকা পুলিশের প্রতি এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বোমা নিক্ষেপ করলে পুলিশও শ্রমিকদের ওপর পাল্টা গুলিবর্ষণ শুরু করে।  এতে ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক ও পুলিশ নিহত হন। 

মাথায় ৯০ কেজি ওজনের বস্তা:  কুঁজো হয়ে যাচ্ছে শরীর।  বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ঘাটে শ্রমিকেরা এভাবেই উদয়াস্ত ভার টানেন প্রতি বস্তা ৬ টাকা ৪০ পয়সার বিনিময়ে ।  আলম মাথায় ৯০ কেজি ওজনের বস্তা।  কুঁজো হয়ে যাচ্ছে শরীর।  বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ঘাটে শ্রমিকেরা এভাবেই উদয়াস্ত ভার টানেন প্রতি বস্তা ৬ টাকা ৪০ পয়সার বিনিময়ে । 

এ খাতের আট লাখ ৮০ হাজার মজুর সপ্তাহে ৫০০ টাকার কম মজুরি পান।  সেই হিসাবে দৈনিক গড়ে ৭১ টাকা পান। আর সবচেয়ে বেশি মজুরি পান আবাসন খাতের কর্মীরা।  তবে আবাসন খাতের নির্মাণশ্রমিক নন তাঁরা, নির্মাণকাজ ছাড়া অন্যান্য কাজ করেন।  তাঁদের প্রতি সপ্তাহে আয় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। 

সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ ২০১০ থেকে এই মজুরি হারের চিত্র পাওয়া গেছে।  বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই জরিপ করেছে।  সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।  এরপর গত দেড় বছরে বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের মজুরি আনুপাতিক হারে কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিবিএসের কর্মকর্তারা। 

বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের শ্রমিকেরা দৈনিক গড়ে ১৮৩ টাকা মজুরি পান।  বাংলাদেশে কৃষি, উৎপাদন, জ্বালানি, নির্মাণ, পরিবহন, আবাসন খাতসহ মোট এক কোটি পাঁচ লাখ ৮৪ হাজার দিনমজুর রয়েছেন।  এর মধ্যে ৭০ শতাংশ শ্রমিকের আয় দৈনিক ২০০ টাকার নিচে। জানতে চাইলে বিবিএসের সাবেক পরিচালক ও তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক সামসুল আলম  বলেন, কৃষি খাতের দিনমজুরেরা কম মজুরি পান। 

কারণ, তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, শুধু অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তাঁদের মজুরি বাড়ে।  তবে কৃষি খাতে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো উচিত বলে তিনি মনে করেন। 

সবচেয়ে উপেক্ষিত কৃষিমজুরেরা: মজুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপেক্ষিত কৃষি খাতের দিনমজুরেরা।  তাঁদের ৮৩ শতাংশ দিনে ৩০০ টাকার কম মজুরি পান না।  সারা দেশে এমন মজুরের সংখ্যা ৪৯ লাখ।  অথচ কৃষি খাতে দেশের সবচেয়ে বেশি ৫৮ লাখ ৬৮ হাজার দিনমজুর কাজ করেন, যা দেশের মোট মজুরের অর্ধেকের বেশি। 

প্রতি সপ্তাহে ২৪ লাখ ৭৭ হাজার কৃষি খাতের দিনমজুর ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা, ১৫ লাখ ৩২ হাজার জন এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা আয় করতে পারেন। 

বিশাল শ্রমবাজারের বিশাল অংশই দখল করে আছে কৃষি খাত।  ব্যক্তি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই কৃষি খাতের শ্রমিকের জোগানও হয় পারস্পরিক বোঝাপড়ায়।  কৃষি খাতে দরিদ্র দিনমজুরেরা শ্রমমূল্য নিয়ে দর-কষাকষির সুযোগ পান না।  তাই এই খাতের দিনমজুরেরা তুলনামূলক কম মজুরি পান বলে বিবিএসের কর্মকর্তারা মনে করেন। 

সরাসরি নির্মাণ শ্রমিকেরা তেমন একটা ভালো নেই।  তাঁদের মধ্যে ৮১ শতাংশের দৈনিক মজুরি ২০০ টাকার কম।  দৈনিক ৭১ টাকার কম মজুরি পান ৮৮ হাজার শ্রমিক।  তবে আবাসন, ব্যাংক, বিমা, কারিগরি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা খাতসহ সরকারি কর্মচারীরা তুলনামূলক ভালো মজুরি পান।  তবে এসব খাতে শ্রমিকের সংখ্যাও কম। 

বাংলাদেশে ৯৫ শতাংশ চাকরিজীবী মাসে সাড়ে ১২ হাজার টাকার কম বেতন পান।  দেশে চাকরিজীবীর সংখ্যা সোয়া তিন কোটি।  আর দুই লাখ ৯১ হাজার চাকরিজীবী ৩৫ হাজার টাকার বেশি বেতন পান। 

মজুরি বৈষম্যে নারীরা: বাংলাদেশে আট লাখ ৪৯ হাজার নারী শ্রমিক রয়েছেন।  তবে মজুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীরা বৈষ্যমের শিকার হন।  তাঁরা পুরুষের সমান কাজ করেও মজুরি কম পান।  পুরুষ দিনমজুরেরা পান গড়ে ১৮৪ টাকা, নারীরা পান ১৭০ টাকা।  তবে শহরে নারী-পুরুষের মজুরির বৈষম্য কিছুটা কম।  এখানে নারী-পুরুষেরা গড়ে প্রায় সমান সমান মজুরি পান।  শহরের পুরুষ দিনমজুরেরা পান ২০০ টাকা, নারীরা পান ১৯৮ টাকা।  শহরে মূলত নির্মাণশ্রমিকই বেশি। 

সাড়ে চার লাখ গৃহকর্মী: সারা দেশে চার লাখ ৫৫ হাজার গৃহকর্মী আছেন।  এর মধ্যে চার লাখ আট হাজার নারী আর পুরুষ মাত্র ৪৭ হাজার।  তাঁদের সিংহভাগই বাসাবাড়িতে কাজ করেন।  তথ্য বলছে, দেশের কর্মসংস্থানের বড় অংশই হচ্ছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে।  মোট শ্রমশক্তির ৮৫ দশমিক ১ শতাংশই এ খাতে নিয়োজিত।  আর মাত্র ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করে।  কৃষি ক্ষেত্রে নিয়োজিত মোট শ্রমশক্তির ৯৫ দশমিক ৪ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। 

শিল্প ক্ষেত্রে নিয়োজিত মোট শ্রমশক্তির ৮৯ দশমিক ৯ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক আর সেবা ক্ষেত্রে নিয়োজিত শ্রমশক্তির ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত।  বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘শ্রমশক্তি জরিপ (২০১৬-১৭)’ প্রতিবেদনে এ চিত্র ওঠে এসেছে। 

সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।  অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শ্রমশক্তি সবচেয়ে বেশি হওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ।  কেন না, তারা যে কোনো সময় কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে যেতে পারেন।  ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান কমে গিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

এ বিশাল শ্রমশক্তি কম মজুরি ও কম উৎপাদনশীল।  ফলে অর্থনীতিতে তাদের যে রকম ভূমিকা রাখার কথা সেটি তারা রাখতে পারছে না।  এ শ্রমিকদের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করাটা বড় চ্যালেঞ্জ। 

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড.শামসুল আলম বলেন, ‘শ্রমশক্তির বিশাল অংশ কৃষিতে যুক্ত।  আর এর প্রায় পুরোটাই অপ্রাতিষ্ঠানিক। 

এছাড়া শহরে ছোট ছোট শিল্প-কারখানা, টেইলার্স ও বিভিন্ন কর্মে অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মী রয়েছেন।  এরা দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।  এ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ওপর ভর করেই মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৭ শতাংশের ওপরে অর্জিত হচ্ছে। 

কিন্তু সমস্যা হল অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যারা যুক্ত তারা রয়েছে ঝুঁকিতে।  কেননা কাজের নিশ্চয়তা, কম মজুরি, আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না থাকা, বঞ্চনার পাশাপাশি নারী-পুরুষের মধ্যে ব্যাপক মজুরি বৈষম্য ইত্যাদি বিষয় রয়েছে এ খাতে। 

এ বিশাল অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে অনেক সময় প্রয়োজন।  তবে চলমান সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এ বিষয়ে উদ্যোগ রয়েছে।  এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশাই হচ্ছে অপ্রাতিষ্ঠনিক খাত থেকে কর্মসংস্থান প্রাতিষ্ঠানিক হোক।  সেজন্য বাণিজ্যিক কৃষি ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে।  সেটি করতে হলে বৃহদায়ন খামার ব্যবস্থা ও যান্ত্রিকীকরণের জন্য বৃহৎ কারখানা গড়ে তুলতে হবে। 

পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন ৫ কোটি ১৭ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ।  এর মধ্যে নারী শ্রমিক রয়েছেন ১ কোটি ৭১ লাখ ২১ হাজার আর পুরুষ রয়েছেন ৩ কোটি ৪৬ লাখ ১৩ হাজার। 

এছাড়া গ্রাম ও শহরের হিসাবও আলাদা করে দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।  বলা হয়েছে, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষ বেশি কাজ করছে।  এ সংখ্যা হচ্ছে গ্রামে ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৪১ হাজার আর শহরে কাজ করে ১ কোটি ৩০ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ। 

এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১ কোটি ৭৩ লাখ ২৯ হাজার অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত।  দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগে কাজ করছে ৮৬ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ।  তৃতীয় অবস্থানে থাকা রাজশাহী বিভাগে রয়েছে ৮২ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ। 

এরপর রংপুর বিভাগে ৬৬ লাখ ৮৩ হাজার, খুলনা বিভাগে ৫৪ লাখ ৪৪ হাজার, সিলেট বিভাগে ২৪ লাখ ৯৮ হাজার এবং বরিশাল বিভাগে ২৪ লাখ ২৮ হাজার মানুষ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত রয়েছে। 

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতই হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি।  মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৯০ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। 

কিন্তু এ শ্রমিকদের কর্মের নিরাপত্তা নেই।  শ্রম আইনের বাইরে থাকায় তারা কোনো ধরনের শ্রমিক অধিকার পাচ্ছে না।  যে কোনো সময় ইচ্ছে করলেই তাদের কাজ থেকে বের করে দেয়া যায়।  আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) স্বীকৃত কোনো সুবিধাই জোটে না তাদের কপালে। 

তাছাড়া ইদানীং দেখা যাচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক খাতেও শ্রমের খরচ বাঁচাতে অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।  যেমন কোনো কোম্পানি তাদের ক্লিনার বা সিকিউরিটি গার্ডের জন্য অন্য একটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয়।  ফলে ওই কোম্পানি অস্থায়ী ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছে।  ফলে এখানেও শ্রমের ঝুঁকি বাড়ছে। 

বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমশক্তির মধ্যে ব্যবস্থাপক পর্যায়ে কর্মরত রয়েছেন ৬ লাখ ৬১ হাজার মানুষ।  তাদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ৬৪ হাজার এবং পুরুষ ৫ লাখ ৯৭ হাজার।  পেশাদার রয়েছেন ১৯ লাখ ৪০ হাজার।  এর মধ্যে পুরুষ সাড়ে ১২ লাখ এবং মহিলা ৬ লাখ ৯০ হাজার।  প্রযুক্তি এবং তৎসংশ্লিষ্ট কর্মে রয়েছেন ৭ লাখ ২৭ হাজার, এর মধ্যে পুরুষ ৬ লাখ ২১ হাজার এবং মহিলা ১ লাখ ৭ হাজার। 

করনিক সহায়ক কর্মে নিয়োজিত আছে ৫ লাখ ৩৭ হাজার।  এর মধ্যে পুরুষ ৪ লাখ ৩৬ হাজার এবং মহিলা ১ লাখ ১ হাজার।  সেবা এবং বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছেন ৬১ লাখ ২৭ হাজার, এর মধ্যে পুরুষ ৫৪ লাখ ২৭ হাজার এবং মহিলা ৭ লাখ।  দক্ষ কৃষি-বনায়ন ও মৎস্য খাতে নিয়োজিত রয়েছেন ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার, এর মধ্যে পুরুষ ৯৩ লাখ ৫০ হাজার এবং মহিলা ৯৩ লাখ। 

কারুশিল্প এবং এ সংশ্লিষ্ট কর্মে নিয়োজিত আছে ৯১ লাখ ৫৯ হাজার, এর মধ্যে পুরুষ ৬১ লাখ ৬৬ হাজার এবং মহিলা ২৯ লাখ ৯৪ হাজার।  উৎপাদক-যন্ত্র পরিচালনাকারী এবং সংযুক্তকরণ কাজে নিয়োজিত আছে ৩৮ লাখ ৩১ হাজার। 

এর মধ্যে পুরুষ ৩৪ লাখ ৫২ হাজার এবং মহিলা ৩ লাখ ৭৯ হাজার।  প্রাথমিক পেশায় যুক্ত ১ কোটি ৮১ হাজার, এর মধ্যে পুরুষ ৭২ লাখ ৯৮ হাজার এবং মহিলা ২৭ লাখ ৮৪ হাজার।  এছাড়া অন্যান্য পোশায় যুক্ত রয়েছে ২১ হাজার মানুষ, এর মধ্যে পুরুষ ১৭ হাজার এবং বাকিরা মহিলা। 

দেশের কর্মসংস্থানের ৮৫ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।  কাজের অনিশ্চয়তা, কম মজুরি ও বঞ্চনা দেশের শ্রমশক্তির বিশাল অংশের নিয়তি বলেও জানিয়েছে তারা।  যদিও দেশের অর্থনীতিতে তাদের মূল অবদান, তবুও অধিকারহীন রয়েছে এই শ্রমজীবীরাই। 


লেখক :শেখ সাইফুল ইসলাম কবির

প্রধান সম্পাদক - প্রকাশক
জয়বাংলা ভিশন