৯:৪৬ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে অর্ধলক্ষ মানুষ

নলছিটিতে সিডরের ১০বছর পার হলেও সংস্কার হয়নি বিধ্বস্ত ৩ টি পাকা ব্রিজ

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১২:০৩ এএম | সাদি


মোঃ রাজু খান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ‘সিডর’র পর ১০ বছর অতিবাহিত হলেও আজও মেরামত করা হয়নি ঝালকাঠির নছছিটি উপজেলাধীন একই গ্রামের সিডর  বিধ্বস্ত ৩টি পাকা সেতু।  নলছিটির কুশাঙ্গল ইউনিয়নের গোপতেরহাট গ্রামের পরপর বিধ্বস্ত সেতু ৩টি চলাচলের জন্য অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ হলেও গত এক দশকে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

এলাকার মন্ত্রী, এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান কেউই ভেঙ্গে যাওয়া সেতু ৩টি মেরামত বা নতুন করে নির্মাণের কোন উদ্যোগ না নেয়ায় গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে বাঁশ ও সুপারি গাছ দিয়ে মেরামত করে জীবনের ঝুঁকি চলাচল করছে এলাকাবাসি। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীসহ প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পারাপার হয়ে উপজেলা শহর নলছিটি ও জেলা শহর ঝালকাঠি যেতে যোগাযোগ রক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালন করে অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিজ ৩ টি।  ২০০৭ সনের ১৫ নভেম্বর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে পাকা সেতু ৩টির অর্ধেকাংশ ভেঙ্গে ধ্বসে পড়ার পর এতোগুলো বছর প্রতিদিন স্কুল-কলেজ-মাদরাসাগামী শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ উপজেলার অর্ধলক্ষাধিক মানুষকে মরণ ফাঁদ পাড়ি দিয়ে চলতে হচ্ছে। 

স্থানীয়রা জানান, অস্থায়ীভাবে মেরামত করে মানুষ যাতে একটু নিরাপদে চলাচল করতে পারে সেজন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বা ইউপি সদস্যদের কাছ ঘুরেও কোন প্রতিকার না পেয়ে বিকল্প উপায় হিসাবে এলাকাবাসী প্রতি বছর চাঁদা তুলে নিজেরাই মেরামতের ব্যবস্থা করে আসেছে।  ভাঙ্গা ব্রিজ ৩টির অবশিষ্ট অংশের সাথে বাঁশ ও সুপারি গাছ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে ব্রিজের বাকি অংশের সঙ্গে সংযোগ দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেছে।  তবে নিজেদের চেষ্টায় চলাচলের উপযোগী করা এ কাঁচা-পাকা সাকোব্রীজ গুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।  যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। 

এলাকাবাসীরা জানান, গত এক দশকে এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কম করে শতাধিকবার এ বিষয়ে অবহিত করলেও তাদের নজর পড়েনি । 

এলাকার ৭৫ বছরের বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা মো: আব্দুল হক জানান, এ সেতু ৩টি পাড় হয়ে যেতে হয় নলছিটি উপজেলার অন্যতম বড় বাজার মানপাশা বাজার, সরমহল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরমহল সরকারী প্রা:বি: ও একটি দাখিল মাদ্রাসা ও জামে মসজিদসহ ইউনিয়ন পরিষদ উপজেলা ও জেলা শহরে।  অথচ সেতু ৩টির ওপর দিয়ে কোন প্রকার ইঞ্জিন চালিত যান এমনকি রিকশা, ভ্যান পর্যন্ত চলাচল করতে পারছে না।  কোন মুমুর্ষ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে তার অবস্থা কি হবে আল্লাহ জানেন। 

গোপতের হাটের ব্যবসায়ি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন মলি­ক জানান, সেতুটি মেরামত না হওয়ায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।  জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের আমরা বহুবার এ সমস্যার কথা জানিয়েছি।  কিন্তু কোন কাজ হয়নি।  এলাকাবাসীর নিজস্ব সহ্য়তায় প্রতিবছর হাজার হাজার টাকা খরচ করে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়। 

সরমহল পুনিহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: আ: মান্নান জানান,“বর্ষা মৌসুমে এই বাঁশের সাঁকোর অংশটি “দিয়ে পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।  জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিশুদের পঠাতে ভয় পান অভিভাবকরা।  যে কারণে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে খুবই কম।  এতে তাদের লেখাপড়ায় চরম ক্ষতি হয়।  আর অভিভাবকরা আমাদের কাছে এ নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করলেও আমরা কিছু করতে পারছিনা।  এখানে নতুন সেতু হওয়া জরুরী”। 

কুশাঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর হোসেন সিকদার জানায়,“২০০৭ সালের সিডরে সেতু ৩টির স্নাপ ও অন্য অংশ ধ্বসে পড়ছিল।  এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহুবার অবহিত করা হলেও এ যাবৎ কিছুই হয়নি।  খোঁজ নিতে গেলেই এইতো হবে, হচ্ছে বলে সান্তনা দিয়েই বিদায় দিচ্ছে।  প্রতি বছর এলাকাবাসী চাঁদা তুলে ২০/২৫ হাজার টাকা খরচ করে।  আমরা পকেট থেকে দু/এক হাজার টাকা দিতে পারলেও বরাদ্দ না পেলে তো স্থায়ী ভাবে সংস্কার করতে পারছিনা”। 

এ ব্যাপারে নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী মো: আব্দুল্লাহেল বাকী জানান, “আমাদের দপ্তর থেকে প্রক্কালন তৈরি করে বহুবার উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে”।