১২:৫৪ পিএম, ২৬ মে ২০২০, মঙ্গলবার | | ৩ শাওয়াল ১৪৪১




নিষ্ক্রিয় হোক করোনার ব্যাপ্তি-কৃষিই হোক মুক্তি

২০ এপ্রিল ২০২০, ১১:১৯ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম: আমাদের কৃষিপ্রধান এই দেশে করোনা ভাইরাসের যে আক্রমণ তা আমাদের কৃষি ও কৃষি খামারিদের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। 

জাতীয় অর্থনীতির একটি বিরাট অংশ অঙ্গাঅঙ্গী ভাবে  জুড়ে আছে  এই কৃষির উপর।  পাশাপাশি প্রবাসীদের কষ্টার্জিত পাঠানো রেমিট্যান্সের উপর এমনকি বহির্বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বাংলাদেশি তৈরী পোশাক শিল্পের উপর। 

আমরা কৃষিকে যতোই অবহেলা করবো ততই আমাদের কপালে দুঃখ থেকেই যাবে, কোনো দিক দিয়ে কৃষি ও কৃষকের প্রতি গাফিলতি করা মানেই ভবিষ্যতে জাতীয় খাদ্য ঘাটতির আগাম অশনি সংকেত। 

বর্তমান সংকট মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বার্তা হলো দেশের যেসব অনাবাদি জমি পরে আছে সেসব অনাবাদি জমিগুলো যেন চাষাবাদের আওতায় আনা হয় অন্তত সেখান থেকেও অনেক ফলন প্রাপ্ত হয়।  দেশ স্বাধীনের পর সাত কোটি মানুষের খাদ্য ঘাটতি নিয়ে কখনো কেউ চিন্তা করেনি নদীমাতৃক স্বনির্ভর এই বাংলাদেশে।  দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কালের বিবর্তনে খাদ্য ঘাটতিও দেখা দে।  আমরা কৃষি খাতের সবচেয়ে বেশি যেটার উপর নির্ভর করি তাহলো ধান। 

আসলে কি এই ধানের উপর চলে? মাংস জাতীয় খাদ্য- নানান জাতের তরিতরকারী ও শাকসবজি-মৎস ইত্যাদি আমাদের দৈনন্দিন চাহিদা মিটাই।  এমন কোনো পরিবার আছে কি যেদিন শাকসবজি কিংবা তরিতরকারি রান্না হয়না? নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর মধ্যে শাকসবজি হলো কাঁচামাল। 

এই কাঁচামালের সতেজতা বজায় রাখতে ভোক্তার নিকট যথাসময়ে পৌঁছাতে হয় তারপর সেগুলোর সাধারণ জনগণের নিকট বিক্রি করা হয়।  যদি যথাসময়ে সেই সবজি কিংবা মাছ-মাংস পাওয়া না যায় তাহলে তা পূরণ করা বাজার মূল্য হু হু করে বেড়ে যায়।  রপ্তানি আয় অনেক কমে যায় ফলে সংকট দেখা দেয়। 

বিদেশে কাঁচামাল হিসেবে সবজি পণ্য-চিংড়ি-শুটকি-ইলিশ-পোশাক শিল্পের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে সেদিক থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে তারমধ্যে দেশের চাহিদা মিটাতে গিয়ে যাঁরা এই উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট তাঁরাতো আজ গৃহবন্দী।  আর যাঁরা বড় বড় খামারি রয়েছে তাঁরা কিছুটা চালু রাখলেও পর্যাপ্ত লোকবল পাচ্ছেনা যার যার আশ্রয়স্থলে অবস্থান করছে সেটাও একধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।  দেশটি এমনিতেই জনসংখ্যায় ভরা সেই সাথে একযোগে প্রয়োজন হয় সে অনুপাতে খাদ্য আবার তার একটি অংশ চলে যায় রোহিঙ্গা শিবিরে ফলে খাদ্যের উপর ভাগ বসাচ্ছে।  এই সংকটময় মুহূর্তে খাদ্য ঘাটতি মেটাতে প্রয়োজন বেশি বেশি হিমাগার। 

একদিকে কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাওয়া অন্যদিকে জলবায়ুর পরিবর্তন তারমধ্যে আবার অধিকহারে জনসংখ্যার বৃদ্ধি, সারাবছর লেগে আছে বন্যা-খরা-লবণাক্ততা-দূর্যোগ সেই সাথে প্রাকৃতিক  বৈরী আবহাওয়াকে জয় করে  সবমিলিয়ে বাংলাদেশ খাদ্য শস্য উৎপাদনে বিশ্বে উদাহরণ। 

 করোনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ৩১দফায় ১২তম দফায় উল্লেখ আছে দিনমজুর, শ্রমিক, কৃষক যেন অভুক্ত না থাকেন।  তাঁদের সাহায্য করতে হবে।  খেটে খাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অতিরিক্ত তালিকা তৈরি করতে হবে। 

১৫তম দফায় উল্লেখ আছে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে,অধিক ফসল উৎপাদন করতে হবে।  খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার করতে হবে।  কোনো জমি পতিত না থাকে। 

২৫তম দফায় উল্লেখ আছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উৎপাদন সরবরাহ ও নিয়মিত বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া মনিটরিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।  তাতেই বুঝা যায় যে, কৃষিকে বাদ দেওয়া যায়না সেজন্যই এই সেক্টরেও প্রণোদনা ঘোষণা দিয়েছেন যা যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত বলা যায় তা ২৭তম দফায় উল্লেখ আছে সেখানে বলা হয় কৃষকেরা নিয়মিত চাষাবাদ চালিয়ে যাবেন,এইক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে। 
কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচে, সরকারীভাবে যদিও বা ১৭লক্ষ মেট্রিকটন খাদ্য গুদামজাত আছে তারমধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাইস মিলগুলোতেও খাদ্য মজুত রয়েছে যা পর্যাপ্ত বলা চলে। 

কিন্তু সময়ের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে  যদি এই লকডাউন আরো দীর্ঘ হয় তাহলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আগেই অনাহারে অভুক্তে মারা যাবে।  কৃষি ও কৃষককেে বাঁচানোর জন্য সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক আর খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে আমাদের সংকট মোচন করে স্থিতিশীলতা বজায় রাখুক।  যাঁরা মাঠে ময়দানে নিরলস পরিশ্রম করে ফসল ফলায় তাদের কষ্ট যেন বৃথা না যায়, পোল্ট্রি শিল্পেও বড় সাফল্য আছে এই দেশে হাজার হাজার যুবক তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য পোল্ট্রি শিল্পকে হাতে নিয়েছে কেউ লাভবান কেউ ক্ষতির মাঝে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। 

তাইতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন... "আমাদের দেশের চাষিরা হলো সবচেয়ে দুঃখী ও নির্যাতিত এবং তাদের অবস্থার উন্নতির জন্যে আমাদের উদ্যোগের বিরাট একটি অংশ অবশ্যই তাদের পেছনে ব্যয় করতে হবে"।  হাজার হাজার কোটি টাকা এই খাতে ব্যয় করলেও এই শিল্প থেকে আউটপুট পাওয়া যাবে সাথে সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান, আর জাতিকে দিবে খাদ্যের যোগান।  লক্ষ কোটি মানুষের বেঁচে যাবে  প্রাণ।  নয়তো বা একদিন শুনতে হবে কবি রফিক আজাদের " ভাত দে হারামজাদা"-কবিতার চরণখানি......

"উড্ডীন পতাকাসহ খাদ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীর গাড়ী
আমার ক্ষুধার কাছে কিছুই ফেলনা নয় আজ
ভাত দে হারামজাদা
তা নহলে মানচিত্র খাবোঃ

লেখক:কলামিস্টঃচিত্রশিল্পী,মুহাম্দ   শাহীদুল আলম।     
            সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।